অ্যাসোসিয়েশান স্ন্যাপ ও আলাপের উদ্যোগে প্রতিবেশীকে চেনার জন্য অনুষ্ঠান

0

ফারুক আহমেদ, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: অ্যাসোসিয়েশান স্ন্যাপ ও এবং আলাপের উদ্যোগে এবং অভিযান পাবলিশার্সের সহায়তায় ২১ জানুয়ারি মেটিয়াবুরজে হল ‘নো ইউর নেবার’—প্রতিবেশীকে চিনুন। এই কলকাতার ভিতরে আছে আরেকটা কলকাতা, হেঁটে দেখতে শিখুন।
কলকাতায় এই ধরণের উদ্যোগ নেই বললেই চলে। তবু এই হেরিটেজ ওয়াকে জমায়েত হলেন বহু মানুষ। অবধ রাজ্য হারিয়ে রাজা ওয়াজিদ আলি শাহ কলকাতায় আসেন সেই ১৮৫৬ সালে। তার পর মেটিয়াবুরজে গড়ে তোলেন সাধের ছোটা লখনউ। কলকাতার দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত সেই উদ্যান নগরী গত দেড়শো বছরে অনেক বদলে গেছে। এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে রাজার সমাধি—সিবতায়নাবাদ ইমামবাড়া। বিচালি ঘাটের অদূরে। এই সেই বিচালি ঘাট যেখানে রাজার জাহাজ জেনারেল ম্যাকলিয়ড এসে ভিড়েছিল ১৮৫৬ সালের এক গ্রীষ্মকালে। তার পর সিপাহী বিদ্রোহে উত্তাল সারা দেশ, রাজাকে ইংরেজরা বন্দি করে রাখল। 
অপমান, অভাব রাজাকে দমাতে পারেনি। তিনি কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে একেবারে বদলে দিলেন। তাঁর দরবারে আসতে লাগলেন সৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর, অঘোরনাথ চক্রবর্তী, সাজ্জাদ হোসেন, যদু ভট্ট, শ্যামলালের মতো গুণী মানুষ। রাজা কলকাতায় আনলেন ঠুমরি, কথক নাচ। শুরু হল দোল উৎসব আর মহরমের তাজিয়া। মেটিয়াবুরজ হয়ে উঠল ‘পহলে আপ’ নগরী। এই প্রাসাদ নগরী রাজা বানালেন ত্রিশ বছর ধরে। গ্যাসের আলোয় বসল থিয়েটারের আসর।
সেই স্মৃতির পথ বেয়ে ২১ জানুয়ারি, রবিবার হাঁটলেন কলকাতার বহু মানুষ। অধ্যাপিকা শেফালি মৈত্র, কবিতা পঞ্জাবী, নীলাঞ্জনা গুপ্ত, শিলাদিত্য চৌধুরি, সুব্রত রায়চোধুরি, রত্নাবলী রায়, সুপর্ণা দেব, সিদ্ধার্থ মাইতি, রুচিরা, মিতা, পার্থ, মৌমিতা—প্রায় একশো মানুষ বসলেন ইমামবাড়ার চাতালে। আড্ডা উঠল জমে।
সকাল এগারটায় শুরু হয় মাইকেল মধুসূদন দত্ত’র পিতৃনিবাস খিদিরপুর থেকে যাত্রা। প্রথমে যাওয়া হয় বিএনআর হাউস, এক সময়ে রাজা সেখানে থাকতেন। বিচারপতি উইলিয়ম পিলের সেই বাসস্থানে রাজা কারাবাসের পর কিছুদিন অতিবাহিত করেন। সেখান থেকে যাওয়া হয় সুরিনাম ঘাট। এক সময়ে এই ঘাট থেকে বিদেশে পাচার করা হত ক্রীতদাস-দাসী। ১৮৭৩ সালে লাল্লারুখ জাহাজ প্রথমে এই ঘাট থেকে নিয়ে যায় তিনশোরও বেশি মানুষ। তাঁরা আর ফিরে আসেননি। বিচালিঘাট হয়ে ইমামবাড়ায় বসে আড্ডা আর খাওয়া দাওয়ার আসর। হেরিটেজ ওয়াকে নেতৃত্ব দেন ঔপন্যাসিক শামিম আহমেদ। ওয়াজিদ আলি শাহ-র জীবনকেন্দ্রিক সুবৃহৎ উপন্যাস ‘আখতারনামা’-র লেখক অংশগ্রহণকারীদের সমস্ত জায়গার বিবরণ দেন। আওয়াধি খানা দিয়ে শুরু হয় মধ্যাহ্নভোজন। তার পর বসে আড্ডা। প্রত্যেকে নিজের ভাবনা শেয়ার করেন অন্যদের সঙ্গে। পাঠ করা হয় ‘আখতারনাম’-র নির্বাচিত অংশ। স্থানীয় মানুষ আসেন সেখানে। ইমামবাড়া ট্রাস্ট সদস্যদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ছিল যথারীতি। গল্পে গানে অনুষ্ঠান শেষ হয় বিকেলে। সাবির আহমেদ, আমিরুল আলম ও শর্মিষ্ঠার নেতৃত্বে খুব শীঘ্রই আবার হবে পরের হেরিটেজ ওয়াক।

head_ads