প্রশান্ত দাস, টিডিএন বাংলা, মালদা: নামেই রয়েছে দপ্তর, কিন্তু পরিকাঠামোর কোনো বালাই নেই। ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কার্যত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই মালদহের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকদের। মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদ এখন রাজ্য তো বটেই, গোটা দেশের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম।


গত সোমবার সকাল থেকেই সংবাদ শিরোনামে দৌলতাবাদ। ভৈরবে সলিলসমাধি ঘটেছে ৪৪টি তাজা জীবনের। নদীতে বাস পড়ে যাওয়ার পরেই উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থানীয় মানুষজন। কিন্তু প্রশিক্ষণের অভাব এবং যথাযথ উদ্ধার উপকরণ না থাকায় তারা তলিয়ে যাওয়া বাসের ভিতর থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করতে পারেননি। এনডিআরএফ বাহিনী যখন ভৈরবের নীচ থেকে বাসটিকে তুলে আনে, তখন ১০ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিমত, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত উপকরণ নিয়ে আসতে পারলে হয়তো বাঁচতে পারত আরও কিছু প্রাণ।


সোমবার দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল মুর্শিদাবাদের একটি পকেট রুটে। তাতেই প্রাণ হারিয়েছেন এত মানুষ। মালদা জেলা রাজ্যের অন্যতম ব্যস্ততম জেলা হিসাবে রাজ্যে পরিচিত। এই জেলায় রয়েছে তিনটি জাতীয় সড়ক। রয়েছে বিস্তৃত রেলপথ। সঙ্গে একাধিক জেলা পকেট রুট। ফলে এই জেলাতেও যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়। কিন্তু তেমন কোনও ঘটনা ঘটলে ভগবানের উপর ভরসা রাখা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। এই জেলায় এনডিআরএফ-এর কোনও স্টেশন নেই। জেলায় সিভিল ডিফেন্স নামে একটি দপ্তর থাকলেও তা ঢাল তলোয়ার বিহীন।

সামান্য কিছু উপকরণ দিয়েই চলছে কাজ। এদিন দপ্তরে গিয়ে জানা গেল, উত্তরবঙ্গে তাদের মূল ডিপো উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারের গুডলুতে। সেই ডিপোয় দুটি আধুনিক নৌকা রয়েছে। বর্ষার সময় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিলে ৪ মাসের জন্য সেই দুটি নৌকা জেলায় পাঠানো হয়। তবে সেই ডিপোতেও নেই কোনও হাইড্রলিক ল্যাডার, ক্রেন, হাইড্রলিক জ্যাক। বর্তমানে দপ্তরে একজনও প্রশিক্ষিত ডুবুরি নেই। জেলার কিছু পুরুষ ও মহিলা প্রতিদিন ৪২৭ টাকা মজুরিতে কাজ করেন। অবশ্য সেই কাজ প্রতিদিন মেলেনা। ছোটোখাটো কাজের জন্য দপ্তরে থাকা লাইফ জ্যাকেট, হ্যান্ড শ মেশিন, উন্নত আলো, তিন তলায় ওঠার মতো সিঁড়ি, অগ্নি নির্বাপণের কিছু সরঞ্জাম দিয়ে তাঁদের কাজে পাঠানো হয়।

সঙ্কটজনক পরিস্থিতির কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মুখ্য আধিকারিক অশোককুমার ঘোষ। টিডিএন বাংলাকে তিনি বলেন, ছোটোখাটো কিছু ঘটনা ঘটলে তাঁরা সামাল দিতে পারবেন। কিন্তু বড়ো কিছু ঘটলে এনডিআরএফ বা ওই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা টিমের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া তাঁদের কিছু করার থাকবে না। এদিকে এনডিআরএফ স্টেশন রয়েছে শিলিগুড়ি ও  নদীয়ার হরিণঘাটায়। তারা একসঙ্গে ৪০-৪২ জনের দল ছাড়া কাজে বেরোয় না। ফলে এই জেলায় কোনও বড়ো দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার কাজ শুরু করতে অনেকটাই দেরি হয়ে যাবে। উদ্ধারের জন্য নিজেদের হাতে যে তেমন কোনও উপকরণ নেই- সেকথাও স্বীকার করে নেন ঐ আধিকারিক।