জেল বন্দিদের মজুরি বন্ধের অভিযোগ, হাওড়া জেলে আমরণ অনশনে দুই রাজনৈতিক বন্দি

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : হাওড়া জেলে আমরণ অনশন শুরু করেছেন দুই রাজনৈতিক বন্দি। হাওড়া জেলায় কোনও মামলা না থাকা সত্বেও ২০১৬ সাল থেকে তাদের এই জেলে আটকে রাখা হয়েছে৷ অনশনকারী দুই বন্দির দাবি, অবিলম্বে যে জেলায় তাদের নামে মামলা আছে বা বাড়ির কাছাকাছি কোনও জেলে বদলি করা হোক তাদের। অনশনরত বন্দি বরুণ শূর রাজবলহাট ও অজয় দাস সিঙ্গুরের বাসিন্দা৷ ওরা দুজনেই হুগলি জেলার বাসিন্দা হলেও বরুণ মধ্যমগ্রাম থেকে এবং অজয় বিজপুর থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন ২০১০ সালে। অভিযোগ, গত ষোল মাস ধরে লাগাতার তাদের পৃথক সেলে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর এ ভাবে পৃথক সেলে আটকে রাখাকে পশ্চিমবঙ্গ জেল কোডও কারেকশনাল সার্ভিস অ্যাক্ট বিরোধী বলে দাবি করেছে৷ নিয়ম অনুযায়ী কোনও বন্দিকে এক মাসের বেশি বিচ্ছিন্ন সেলে আটকে রাখা যায় না।

জেলের নাম বদলে সংশোধনাগার করা হলেও জেল প্রশাসনের চরিত্রের তেমন কোনও সংশোধন হয়নি৷ তাই আজও রাজ্যের বিভিন্ন জেলে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মূলত, আদিবাসী ও দলিত রাজনৈতিক বন্দিরাই এই বঞ্চনার শিকার৷ বুধবার এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজ্যের কারামন্তী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে স্মারকলিপি দিলেন এই রাজ্যের সমাজ সচেতন নাগরিকদের সংগঠন ‘নির্যাতিত বন্দি সংহতি কমিটি’৷ তারা অভিযোগ তুলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের জেলগুলিতে যে রাজনৈতিক বন্দিরা আছেন, তারা নানাভাবে তাদের আধিকার থেকে বঞ্চিত৷ সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা জেলে প্রতিদিন বিভিন্ন কাজ করেন৷ তাদের শারীরিক শ্রমের বিনিময়ে মজুরি পাওয়ার কথা। গরিব, আদিবাসী ও দলিত বন্দিদের থাকায় এদের অনেকের পরিবারই মজুরির এই টাকার উপরেই নির্ভরশীল৷ মাসের পর মাস সেই টাকা বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে এদের পরিবারগুলি জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি শম্ভু সােরেন, সাগুন মুর্মুরা গত আটমাস থেকে তাদের প্রাপ্য মজুরি পাচ্ছেন না। সংহতি কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, জেল ম্যানুয়াল ও ওয়েস্টবেঙ্গল কারেকশনাল সার্ভিস অ্যাক্ট ১৯৯২ মোতাবেক বন্দিদের জেল কর্তৃপক্ষ এই মজুরি দিতে বাধ্য। সেই মজুরি বন্ধ থাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে অধিকার সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও। এরই সঙ্গে মাওবাদী তকমা লাগিয়ে যাদের জেলে আটকে রাখা হয়েছে তাদের অনেকেই বাড়ি থেকে বহু দূরের জেলে বদলি করা হয়েছে। এরজন্য বাড়ির লোকজন বন্দিদের সাথে দেখা সাক্ষাতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার আইনত আত্মীয় বন্ধুরা বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে পারার কথা, কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ নিজেদের মতো আইন ‘সংশোধন’ করে বন্ধুদের দেখা করতে দিচ্ছে না। বন্দিদের সংশোধনের নাম করে এমন মানসিক নির্যাতনের তীব্র নিন্দ করেছেন মানবাধিকার আন্দোলনের বিশিষ্ট সংগঠক রঞ্জিত শূর৷ এমনকী, এর ফলে অসুস্থ বন্দিরাও বাড়ির লোকদের দেখা পাচ্ছেন না। তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসটুকুও বাড়ির লোকজন পৌছে দিতে পারছেন না দূরত্বের জন্য।

শম্ভু সােরেন ও সাগুন মুর্মু পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা। রাজা সরখেল একজন প্রবীণ নাগরিক, বাড়ি কলকাতায়৷ অথচ এদের আটক রাখা হয়েছে জলপাইগুড়ি কেদ্রীয় কারাগারে এভাবেই হুগলির পতিতপাবন হালদারকে বন্দি রাখা হয়েছে মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে। বাড়ির লোকদের নিয়ম মাফিক দেখা করা আটকাতে এই বন্দোবস্ত বলে এক কারাকর্তা স্বীকার করেছেন৷ যদিও পশ্চিমবঙ্গ কারেকশনাল সার্ভিস অ্যাক্ট, বিভিন্ন হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বন্দিদের সঙ্গে আত্মীয় বন্ধুদের দেখা করার অধিকার দেওয়া হয়েছে৷ এরাজ্যে বছর দুই আগে কিছু রাজনৈতিক বন্দিদের ‘মাওবাদী’ তকমা দিয়ে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে৷ এমনকী, এই বন্দিরা আত্মীয় পরিজনদের অসুস্থতা বা মৃত্যুতে প্যারোলে ছাড়া পাওয়ার অনুমতি পেলেও নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের জরুরি ভিত্তিতেও ছাড়া হচ্ছে না৷ অথচ সঞ্জয় দত্ত, সুব্রত রায় থেকে দেশের প্ৰভাবশালীরা কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি ও অস্ত্র আইনে গ্রেফতার হয়েও আদর প্যারোলে ঘুরে বেড়াতে কোনও অসুবিধা হয় না। অন্যদিকে, গরিব আদিবাসী, দলিত ও রষ্ট্র বিরোধী ” তকমা লাগানো বন্দিদের বেলায় অন্যরকম ব্যবস্থা চালু থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে গণতন্ত্রে আস্থাশীল নাগরিকদের মধ্যে।

সৌজন্য : দিন দর্পন