বাইক বা কার নেই, মাধ্যমিক দিয়ে এভাবেই ঘরে ফেরা সুন্দরবনের পরীক্ষার্থীদের

0

রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, গোসাবা: জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিক। শহরের অভিজাত ঘরের ছেলেরা যখন এমন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সেন্টারে যায় বাইক বা পার্সোনাল কারে। তখন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপ বাসীদের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা কেউ যায় মাইলের পর মাইল শক্ত পায়ে, কেউ বা জলপথে বোটে। ওদের বাবা মায়েরাও কাজ ফেলে সেন্টারে ছুটে আসে সন্তানদের মঙ্গল কামনায়।

গোসাবার কুমিরমারী। এখানে নাকি প্রায়ই কুমিরের দেখা মেলে। ঐ গ্রাম থেকে আগত পরীক্ষার্থী অরুণ অরি জানালো তার অভিজ্ঞতা, জলপথই আমাদের প্রধান ভরসা। বাবা গেছে জন খাটতে। মা এসেছে আমার সাথে এই বোটেই। পরীক্ষা ভালোই দিচ্ছি।

নদী তীরবর্তী পুঁইজালি গ্রাম থেকে তারানগর বিটিসি বিদ্যামন্দিরে পরীক্ষা দিতে এসে সুচরিতা কয়াল জানালো, নদী পেরিয়ে পায়ে হেঁটেই আসছি পরীক্ষা দিতে। সব সয়ে গেছে আমাদের। কোলকাতায় কত বড় বড় একটার পর একটা ওভারব্রীজ হয়, কিন্তু আমাদের আজও জলপথ ডিঙোতে হয়! কবে যে নদী গুলিতে ব্রীজ হবে!

পরীক্ষার সকালে ওদের পাতে মাছ-মাংস না জুটলেও ওরাও স্বপ্ন দেখে মানুষ হবার।

অরুণ অরিরা দামি নোট সাজেশন বা একাধিক গৃহশিক্ষক না পেলেও ওদের প্রকৃতির এমন নির্মল আনন্দ থেকে চির বঞ্চিত দূষণবাসীরা।

tdn_bangla_ads