ফি-বর্ষায় ঝুঁকির পারাপার পড়ুয়া সহ হাজারো নিত্যযাত্রীর, চরম ভোগান্তি করিমপুর-বক্সিপুরবাসীর

0

রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, করিমপুর : বর্ষা নেমেছে। নদিয়ার করিমপুর সংলগ্ন খড়ি নদীতে বাড়ছে জল। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জীবনের ঝুঁকি। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, নিত্যযাত্রী, ব্যবসায়ী থেকে অফিস যাত্রী বছরের পর বছর সকলের একই ভোগান্তি। ২২ টা বছর কেটে গেছে। জমিজট নিয়ে জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। সমস্যা সেই তিমিরেই। আজও শেষ হয়নি করিমপুর-বক্সিপুর সেতুর কাজ। এই বর্ষায় ঘাট পেরোনোর কথা ভেবে অনেকেই ভয়ে শিউরে উঠেন।

শুকনোর সময় বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার চললেও বর্ষাকালে দুই জেলাবাসীর হাজার হাজার নিত্য যাত্রীর ভোগান্তি উঠে চরমে। ঝুঁকির সম্ভবনা থাকে প্রতি মুহূর্তেই। শিশু থেকে বৃদ্ধ, বর্ষায় বিপদ সবার। জুতো হাতে এক হাঁটু কাদা জল পেরুতে হয় তাদের। কখনো সবজি কিংবা ধান গম বোঝাই নৌকা, কিংবা পাট বোঝাই ঘোড়ার গাড়ি প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ে। অফিস টাইমে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া থেকে শিক্ষকদের ঘাট পেরুতেই অপেক্ষা করতে হয় ঘন্টা খানেক।

মূলত মুর্শিদাবাদের মোমিনপুর, ঘোড়ামারা, কামুড়দিয়ার, বক্সিপুর প্রভৃতি গ্রাম থেকে উৎপন্ন সবজি আনাজের উপর ভরসা করিমপুরবাসীদের। সেই সমস্ত কাঁচামাল এপারে আনতে বর্ষায় চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চাষিদের। করিমপুরের নার্সারি থেকে হাই স্কুল, গার্লস স্কুল ও কলেজে ওপার থেকে আসে হাজার খানেক পড়ুয়া। স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চারা মা বাবার কোলে পার হচ্ছে নদী। দেখা যাচ্ছে পা পিছলে জল কাদায় পড়ে যাচ্ছেন অনেকেই। স্কুল পড়ুয়াদের দেখা যাচ্ছে কোমর পর্যন্ত জল পেরিয়ে পার হচ্ছে। ভিজে যাচ্ছে প্যান্ট। এভাবে ভেজা কাপড়েই ওদের যেতে হচ্ছে স্কুলে।

কামুড়দিয়াড় নুজবল হক হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম এদিন পারাপারের সময় টিডিএন বাংলাকে বলছিলেন, ‘ঘাটটিতে সরু বাঁশের সাঁকো বর্ষায় জল বাড়ার সাথে সাথে ডুবে গেছে। অফিস টাইমে প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। হাটের দিন দুর্ভোগের সীমা থাকেনা। পিচ্ছিল সাঁকোর উপর জলকাদা মেখে এভাবেই হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন পারাপার। দেখার লোক নেই। সেতুটি চালু হলে প্রাণে বাঁচি।’

ওপারের স্কুল কলেজ পড়ুয়াদের দৈনন্দিন অসুবিধার কথা কার্যত স্বীকার করে করিমপুরের শিক্ষক তথা বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী সন্দীপ ঘোষ টিডিএন বাংলাকে বলেন, “ওপারের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ আর্থ-সামাজিক ভাবে করিমপুর বাজারের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাছাড়া, যে ব্রীজের ৮০% কাজ হয়েই গেছে, তার কংক্রীটগুলি এখন ঝরে ঝরে পড়ছে। তাহলে নিশ্চয় সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই। আসলে ভোট সর্বস্ব রাজনীতিই এখানকার বড়ো সমস্যা।”

স্থানীয়রা বলছিলেন, দুই জেলার জেলাশাসক, বিধায়ক ও রাজ্য সরকার যদি চায় খুব দ্রুতই কাজটি সম্পূর্ণ করা সম্ভব। কারণ কাজটি প্রায় হয়েই গেছে। একটু খানি বাকি। আদোও হবে কি? সরকার কি ভাবছে? প্রশ্ন এলাকাবাসীর।
সব রাজনৈতিক দলের লোকেরাই চাইছে ব্রিজটি হোক। সেতুটি হলে বহরমপুর যেমন হাতের মুঠোয় হয়ে যাবে করিমপুর বাসীদের। আবার কলকাতা যাওয়াও সহজ হয়ে যাবে বক্সিপুর, কামুড়দিয়াড়, মোমিনপুরের মানুষদের।

সাংসদ বদরুদ্দোজা বলছিলেন, “আমরা অনেক চেষ্টা করেছি ব্রিজটি সম্পূর্ণ করতে। বক্সিপুর প্রান্তের জমি জট কেটে গেছে। এপারে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু করিমপুরের কিছু মানুষ ব্যক্তি স্বার্থে মামলা করে ব্রিজের কাজটি আটকে রেখেছে। যা চরম দুর্ভাগ্যের।” উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে করিমপুর-বক্সীপুর সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়। তারপর কেটে গেছে ২২টি বছর। ২০০৬ এ ফের হয় শিলান্ন্যাস। যেটুকু তৈরি হয়েছিল তার কংক্রিট গুলোও ঝরে ঝরে পড়ছে এখন। ব্রিজ কবে হবে সাধারণ মানুষ আজও জানেনা। কিন্তু কোটি কোটি টাকার এই সম্পত্তি যে নষ্ট হতে বসেছে তা এখন সবাই টের পাচ্ছে।