বিজেপি সরকারের তালাক বিলের বিরুদ্ধে কাল কলকাতার পথে নামছেন হাজার হাজার মহিলা

0
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখা ও ছাত্রী শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কালকের মিছিলে বিরাট সংখ্যক উপস্থিতি হবে। ওই সংগঠনের নেত্রী নায়িমা আনসারী টিডিএন বাংলাকে বলেন, “তাৎক্ষণিক তিন তালাক নিয়ে যে বিল আনা হয়েছে তা ইসলাম, ভারতীয় সংবিধান ও মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড বিরোধী। একজন ব্যাক্তি জেলে থাকলে কী করে সে ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে? আসলে এই বিল উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে পাশ করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, তালাক বিল লোকসভায় পাশ হবার পর এই প্রতিবেদককে জামায়াতের মহিলা নেত্রীরা বলেছিলেন,খুব শীঘ্রই তাঁরা বিলের বিরুদ্ধে পথে নামবেন। সেইমতো এই মিছিলে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।

জামায়াতে ইসলামি হিন্দের ছাত্রী সংগঠন গার্লস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়ার রাজ্য সভাপতি সফিউন্নেসা বলেন, “নতুন যে বিল পার্লামেন্টে তোলা হয়েছে তা বেশ কিছু প্রশ্নচিহ্ন সামনে নিয়ে আসছে। সরকার মুসলিম মহিলাদের সত্যিকার কল্যাণ চাইছে না আরও দুর্দশার দিকে ঠেলে দিতে চায়ছে? স্বামী যদি স্ত্রীকে তিন তালাক দেয় তাহলে সে তার স্বামী থাকবে কি? স্বামীকে যদি তিন বছরের জন্য জেলে পাঠানো হয় তাহলে সেই মহিলাটি বা তার যদি সন্তান থাকে তাদের ভরনপোষনের দায়িত্ব পালন করবে কে? সরকার কি তাদের জন্য ভরনপোষনের দায়িত্ব নিচ্ছে? স্বামী যদি স্ত্রীকে অত্যাচার করে ভারতীয় পিনাল কোডের আইন অনুযায়ী তাকে শাস্তি দিতে বাধা কোথায়? এর জন্য তো কেবল মুসলিমদের জন্য আইন করার প্রয়োজন নেই। এছাড়া পুরুষ তালাক দিলে আইনে তার শাস্তি হবে। কোন মহিলা খোলা নিতে চাইলে সে কি স্বামী থেকে বিছিন্ন হতে খোলা নিতে পারবে? আইনে কিন্তু সে বিষয়ে কিছু বলা নেই। তাহলে কি মুসলিম মহিলাদের ইসলামি আইনের খোলা বা বিচ্ছেদ নেওয়ার অধিকার থাকল না?”

ওই নেত্রীর আরও প্রশ্ন- ‘সরকার মুসলিম মহিলাদের উপর অত্যাচার হচ্ছে বলে তিন তালাক নিয়ে আইন তৈরী করে তাদের সুরক্ষা দিতে চায়ছে! এখানে সমস্যা তো কেবল মুসলিম মহিলাদের নয়। সারা ভারত জুড়ে যেসব মহিলারা নির্যাতিত হচ্ছে তারা কি দোষ করল যে সরকার তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণের জন্য কোন আইনের প্রয়োজন অনুভব করছে না? মুসলিম ছাড়া অন্য অত্যাচারিত  মহিলাদের শতাংশ অনুপাত তো অনেক বেশি। এই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশটি বাদ পড়ছে কেন? নাকি সরকারের চোখে  তাদের অত্যাচারগুলো ধরা পড়ে না!” সফিউন্নেসা আরও বলেন, “মোদী সরকার বিভাজনের রাজনীতি করছে। যদি সরকার মনে করে এই ধরণের বিলের সত্যই প্রয়োজন আছে তাহলে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সনাল ল’ বোর্ডের সঙ্গে এবং প্রকৃত অর্থে মুসলিম মহিলা সংগঠনগুলির সঙ্গে বসে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে। আর অবশ্যই সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার সুরক্ষার বিষয় এবং সুপ্রিম কোর্টের ২২ আগস্ট রায়ের আলোকে বিলটি তৈরি করা উচিৎ ছিল। আমরা এই বিলের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবো।”
মঙ্গলবার মিছিল ছাড়াও একটি সভা হবে। সেখানে মহিলা নেত্রীরা ছাড়াও মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্যগন ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। জামায়াতে ইসলামীর রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন,সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামানও উপস্থিত থাকার কথা।
head_ads