মহম্মদ (সাঃ) কে মহান নেতা মেনে মুসলিমদের প্রচলিত রাজনৈতিক সভা বর্জনের ডাক ত্বহা সিদ্দিকীর

0
বেশ কিছুদিন থেকে ফুরফুরা দরবার শরীফের ওই পীরজাদা মুসলিম নেতাদের সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে বৈঠক করছেন। প্রায় সব আলোচনাতে তিনি মুসলিমদের সচেতন হতে বলছেন।কিন্তু কেন হটাৎ এই ‘ঐক্যের’ ডাক? তাহলে কি কোনও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ হতে যাচ্ছে বাংলায়? ত্বহা সিদ্দিকী এইসব নাকচ করে দিয়ে টিডিএন বাংলাকে বলছেন, “রাজনৈতিক দলগুলির মায়াজাল থেকে মুসলিমদের বেরিয়ে এসে নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে হবে। একটি বঞ্চিত,শোষিত জাতির উন্নয়ন নিয়ে কথা বলা ভারতীয় নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। আমি যে সমাজে বাস করি সেই সমাজের উন্নয়ন নিয়ে ভাবা আমার সাংবিধানিক অধিকার। দেশের জন্য সকলের উচিত নিজ জাতির জন্য ভাবা, কিন্তু কোনও ভাবে অন্যজাতিকে বঞ্চিত করে নয়, সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে নয়। ভালো ব্যবহার আর চরিত্র দিয়ে জয় করতে হবে মানুষের মন।”

ওই পীরজাদা আরও বলেন, “আজকের দিনে শিক্ষা, চাকরি, পড়াশোনা সব দিক থেকে মুসলিম সম্প্রদায় পিছিয়ে থাকার বড় কারণ আমরা নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নীতি, আদর্শভুলে গিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের তাবেদারি করছি। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক নেতারা আমাদের সম্প্রদায়কে নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। তাই রাজনৈতিক নেতাদের দেখানো প্রলােভন ত্যাগ করে যদি আমরা দল, মত নির্বিশেষে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে মহান নেতা মেনে ঐকবদ্ধ হয়ে চলি তাহলেই আমাদের সম্প্রদায়ের অগ্রগতি ঘটবে।”
অনাথ ফাউন্ডেশনের কর্ণধার বলেন,”পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মুসলিম ভাই বোনেদের কাছে এবং আমার অমুসলিম ভাইদের কাছে করজোড়ে আবেদন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি ও ভালোবাসা বাংলায় যেভাবে অটুট ছিল সেটা ধরে রাখার জন্য অঙ্গীকার বদ্ধ হতে হবে। সাম্প্রদায়িক শক্তির চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে জাতি ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে গর্জে উঠতে হবে।”

টিডিএন বাংলাকে একান্তে কথা বলতে গিয়ে প্রতিটি সংখ্যালঘু মুসলিমদের কাছে অনুরোধ করে ত্বহা সিদ্দিকী আরও বলেন, “এই জাতির উন্নতি দেখতে গেলে আমাদের প্রতিটি মুসলিম ভাইদের পার্টির ধান্দা, মিটিং মিছিল, জনসভা যাওয়া ত্যাগ করতে হবে। আমার কাছে এখনও পর্যন্ত ১৫ -১৬ লক্ষ মানুষ রাজনৈতিক সভা ত্যাগ করার জন্য শফৎ নিয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে ইনশাআল্লাহ এক থেকে দেড়কোটি মানুষ প্রতিজ্ঞা করবে রাজনৈতিক সভা ত্যাগ করার জন্য”।