প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে সফল দুই দরিদ্র পড়ুয়া, উচ্চশিক্ষা নিয়ে সংশয়

0
কিবরিয়া আনসারী, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : ওদের দুজনেরই উচ্চতা আড়াই তিন ফুট। এবার দিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক। প্রতিবন্ধকতা যে অদম্য মনোবলকে দমকাতে পারে না তা আরও একবার বুঝিয়ে দিল দুই প্রতিবন্ধী পড়ুয়া। দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে সাফল্য অর্জন করে নজির গড়ল বেলডাঙ্গার এই দুই প্রতিবন্ধী। তাদের সাফল্যে স্বভাবতই খুশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাসহ এলাকাবাসী।

প্রতিবন্ধী দুই পড়ুয়া জহিদুল সেখ ও মুস্তাফিজুর রহমান মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গা থানার ঝুনকা হাই মাদ্রাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক দেয়। জহিদুল সেখের প্রাপ্ত নম্বর ২৩৭, মুস্তাফিজুর রহমানের প্রাপ্ত নম্বর ২৬৫। পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে কলেজে পড়ার স্বপ্ন দেখছে তারা। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এখন অর্থই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের।

জহিদুল সেখ ও মুস্তাফিজুর রহমান অবশ্য বলছেন, এই সাফল্যের মূলে আমাদের মা। হাজারো সমস্যার মধ্যদিয়ে অভাব বুঝতে না দিয়ে আমাদের পড়াশোনায় অনুপ্রেরণা দিয়েছে। মায়ের জন্যই পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব হয়েছে। সরকারি চাকরি করে সংসারের হাল ধরতে চাই। স্থানীয়রা জানান, শরীরের উচ্চতা ছোট হওয়ায় হাটাচলা এমনকি উঠতে-বসতেও পারে না তারা। অন্যের সাহায্য নিয়ে চলাফেরা করতে হয় তাদের। অনেক সময় উচ্চতা ছোট হওয়াই সহপাঠীদের কাছে বিদ্রুপের কারণও হয়ে উঠে।

জহিদুলের মা আলিয়া বিবি জানান, বার্ধক্যেজনিত কারণে তার বাবা কাজ করতে পারে না। সংসারের হাল ধরতে হয়েছে আমাকেই। অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী। জন্ম থেকেই জহিদুল পোলিও ও জটিল অস্টিও সমস্যায় আক্রান্ত। ছেলে কলেজে পড়তে চাইলেও কলেজে ভর্তি করার সামর্থ নেই। প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করলেও মেলেনি কোনো সুযোগ-সুবিধা। ছেলের পড়াশোনার জন্য আর্থিক সাহায্যের জন্য চেয়ে রয়েছে দুই মা।

মুস্তাফিজুর রহমানের মা গুলনাজ বিবি জানান, অসুবিধার মধ্যদিয়ে এতদিন ছেলেকে পড়াশোনা করালাম। আর্থিক কারণে আর পড়াশোনা করাতে পারব না। জন্ম থেকেই মুস্তাফিজুরের শরীরের বৃদ্ধি ঠিক মতো না হওয়ায় উচ্চতা প্রায় আড়াই ফুট। একারণে সে ঠিক মতো হাত-পা সঞ্চালনও করতে পারে না। কোলে করে স্কুলে রেখে আসা, নিয়ে আসা সবটা আমাকেই করতে হয়। কলেজে ভর্তি করালে যাতায়াতের জন্য আলাদা খরচ বহন করার ক্ষমতা নেই আমার।