মুর্শিদাবাদে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ডব্লিউবিসিএস অফিসার সাফিন বিন রহমান, ডোমকলে শোকের ছায়া

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : তরতাজা তরুণ। তার ওপর রাজ্য সিভিল সার্ভিসের আধিকারিক। বাড়ির পাশাপাশি এলাকার অনেক মানুষের কাছেই খুবই প্রিয়। গ্রামের তরুণ প্রজন্মের কাছে তো রীতিমতো অনুসরণ যোগ্যই হয়ে সে উঠেছিল। গ্রামের ছেলেদের ও উৎসাহ দিতেন জীবনে প্রতিষ্ঠার জন্য। সোমবারের পর থেকে তিনি শুধুই অতীত। দৌলতাবাদ কেড়ে নিয়েছে।  ডোমকলের আলিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিগঞ্জের বাসিন্দা জিল্লার রহমানের বড়ো ছেলে সাফিন বিন রহমানের জীবন।


বছর একত্রিশের অবিবাহিত এই তরুণ ছিলেন ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক। আগে চাকরি করতেন রেলে। ২০১২ সালে বসেছিলেন রাজ্য সিভিল সার্ভিস পরিক্ষায়। সেখানে  সাফল্য পেয়ে ২০১৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন সেচ দফতরের কাজে। বর্তমানে ময়ূরাক্ষী সেচ প্রকল্পের অধিনে বীরভূম জেলার সিউড়িতে অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যানেলে রেভিনিট অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৯ জানুয়ারি সিউরি থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন ছুটি কাটাতে।

Advertisement
head_ads


ছুটি কাটিয়ে সোমবার সকালে ডোমকল থেকে অভিসপ্ত সরকারি বাসে উঠেছিলেন তিনি। বহরমপুর গিয়ে সেখান থেকে ধরার কথা ছিল সিউরি বাস। দূর্ঘটনার খবর পেয়েই দৌলতবাদে ছুটে গিয়েছিলেন সাফিনের জামাই বাবু মুস্তাক হোসেন। সারাদিন দৌলতাবাদে পড়ে সন্ধায় ভগ্নহৃদয়ে বাড়ি ফিরলেন। আলিনগরে বাড়িতে তখন কান্নার রোল। ভিড় করেছেন পাড়া প্রতিবেশিরা।

মেধাবী প্রতিষ্ঠিত পাড়ার যুবকদের এহেন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না কেউ। বাড়িতে বাবা, মা ছাড়া ও রয়েছে একভাই। জিল্লার রহামান নিজে উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরি পাননি । চাষবাস কে বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।পরিবারের কথা ভেবেই। কিন্তু দুই ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছিলেন, যাতে তারা ভালো চাকরি পেয়ে সংসারের হাল ধরতে পারেন। জলঙ্গির সাদি খাঁ দিয়াড় হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে ডোমকলের স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক উর্ত্তিন্ন সাফিন হাওড়ার খলতপুর আল আমিন মিশনে ভর্তি হন জয়েন্টের পরিক্ষায় বসার জন্য। পরে কোলকাতার এক কলেজে ভর্তি হন বিএসসি অর্নাস নিয়ে। পরে এমএসসি পাশ করে বসেছিলেন ডব্লিউবিসিএস পরিক্ষায়।

সাফিন ডব্লিউবিসিএস অফিসার হওয়ায় খুশি হয়েছিলেন তার বাবা। সাফিন নিজেই চাইতেন ডোমকলের মতো এলাকার বেশ সংখ্যক ছেলেমেয়ে উঠে আসুক ডব্লিউবিসিএস অফিসার হিসাবে। তাই প্রতি সপ্তাহে বাড়ি ফিরে স্থানিয় ছেলেদের ডব্লিউবিসিএস পরিক্ষায় বসার জন্য কোচিং দিতেন সাফিন। এখন তাঁদের সকলের একটাই আক্ষেপ একজনের ভূলের কারণে চলে গেল এতগুলো জীবন। কেন বাস চালাতে চালাতে মোবাইলে কথা বলছিল চালক? উত্তর কারও কাছে নেয়। শোকে কথা হারিয়েছে সাফিন বিন রহমানের পরিবার।(কলম)

head_ads