নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা:
অসহযোগ আন্দোলন সারা ভারতকে চিনিয়ে ছিল নতুন নেতা মহাত্মা গান্ধীকে। দিন বদলের লড়াইয়ে কি আবার আসছে নয়া বাতাস? এই প্রবণতাই কিন্তু দেখা গেল খিলাফত আন্দোলনকে পর্যালোচনা ও আজকের দিনে প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ইফতার মজলিস “ফিরে দেখা খিলাফত” অনুষ্ঠানে। এই অনুষ্ঠানে প্রাক্তন পুলিশকর্তা ড: নজরুল ইসলাম এবং মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ  ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস থেকে শক্তিপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য উপস্থিত থাকলেও জ্বলজ্বল করলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের যুব আন্দোলনের এক ঝাঁক তরুণ মুখ।
আয়োজক ডাঃ: আবু সঈদ আহমেদের মতে, “আজ সারাদেশে যখন জাতীয়তাবাদের ঠেকা নিয়ে নিজেদের পকেট ভরাতে সমগ্র ভারতজুড়ে মানুষের মন বিষিয়ে তুলছে এক অপশক্তি। সেখানে মানুষের মাঝে ইতিহাস সচেতনতা, সমাজ সচেতনতা এবং আইন সচেতনতা বাড়িয়ে তুলতে আমাদের ক্ষুদ্র সাধ্যে এই ছোট্ট উদ্যোগ।”
ড: নজরুল ইসলাম সেই সময়কার ইতিহাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি ব্রাহ্মণ্যবাদের বিপদ নিয়েও কথা বলেন। এছাড়াও ‘বিদেশের সম্রাটের জন্য ভারতের মুসলিমদের এত দরদ কেন?’ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “পৃথিবীর কোন প্রান্তে কেউ বিপদে পড়েছে। সেই বিপদ আমারও হতে পারে, এই বোধ থেকেই পাশে দাঁড়ানো।” ভাঙড় আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় রোষে পড়া রাজু সিং ভাঙড়ের লড়াইয়ে পাশে দাঁড়ানো মানুষদের বহিরাগত তকমা দেওয়ার নিন্দা করেন। এই প্রসঙ্গে কাপাসিয়ার লড়াকু যুবা সইফুল ইসলাম সেখানকার নোয়াই খাল(ভূতপূর্ব লাবণ্যবতী নদী) ও অন্যান্য সমস্যার মোকাবিলায় সকল শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে পাশে পেতে চান বলে জানান।  তাঁর বক্তব্যের সুত্র ধরে বাংলার বিশিষ্ট সাংবাদিক মোকতার হোসেন মণ্ডল,”সমগ্র মানবজাতি এক জাতি তাই সব রাষ্ট্রীয় ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ পৃথিবী” গড়ার ডাক দেন। টাইমস বাংলার প্রধান সম্পাদক মিজানুর রহমান রোহিত বিভিন্ন প্রান্তিক লড়াইয়ে বিকল্প মিডিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশিষ্ট সমাজকর্মী আব্দুল বসির ও ডা: শেখ বাসির আলি তাঁদের শিক্ষা, সামাজিক ও গণমাধ্যমক্ষেত্রে তাঁদের প্রকল্পের গুরুত্ব আলোচনা করেন। তাঁরা প্রত্যেকেই মত দেন এই ধরনের আলোচনা প্রকাশ্যে আমজনতার মধ্যে হওয়া উচিত।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ইতিহাসপ্রেমী শক্তিপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য ওটোমান সাম্রাজ্য নিয়ে তাঁর রচনার অংশ বিশেষ পাঠ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সন্ত্রাসী দায়েশ থেকে প্রাচীন আসিরীয় সভ্যতার অনেক অজানা তথ্য। এছাড়াও টিটাগড়ের  শ্রমিকনেতা মোকসেদ আলম “ভারতের ইতিহাসচর্চায় খিলাফত আন্দোলনের গুরুত্ব ভুলে যাওয়া হচ্ছে” বলে অভিযোগ করেন।  আম আদমী পার্টির রূপা চক্রবর্তী খান বলেন, “গান্ধীবাদের ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলেও গ্রাম স্বরাজ এবং প্রথাগত শিক্ষার আওতার বাইরে থাকা মানুষদের অসহযোগ খিলাফত আন্দোলনে নিয়ে আসার গুরুত্ব অস্বীকার করা যায়না।” এদিনের আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাব্রতী মিনহাজুর রহমান, শ্রমিক নেতা আক্তার হুসেন, সাংবাদিক সইফুদ্দীন মল্লিক। ইফতার আয়োজনে কৃতিত্ব দেখান সমাজকর্মী শাহিদ মোল্লা ও উদীয়মান উদ্যোগপতি আলতামাস কবীর। শোষণমুক্ত নতুন দেশ গড়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে সভা শেষ হয়।