ক্রিস্টোফার নোলান – মাইকেল কেন, করন জোহর – শাহ রুখ খান, সৃজিত মুখার্জী – যীশু সেনগুপ্ত… উফঃ আর ভাবতে পারছিনা! আপনি কি হ্যান্স জিমারের কথা বললেন? কিন্তু না, আমি কিন্তু সেই বাঙালির রাগ, সকাল, বসন্তকাল, কলকাতা-র রক্তে রক্তে মিশে থাকা অনুপম রায়ের কথা বলিনি!

তো, সেই গ্রীষ্মের সকালে, জমে থাকা কাজের পর্দা সরিয়ে যখন উড়ে গিয়ে সিট জুড়ে বসলাম, তখনও হাওয়াতে ভাসছি। কিন্তু হঠাত দেখি সেই গল্প বলিয়ে লোকটি কখন তার গল্প শুরু করে দিয়েছেন, আর আমরা ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছি ইমোশনালের গভীরে।

ছবির ট্রেলার আর সাক্ষাতকারের দৌলতে গল্প অনেকেরই জানা। মৃত্যুপথযাত্রী ৭ বছরের ইভানের জন্য অক্টোবর মাসেই পালন হয়েছিল বড়দিন। পুরো এলাকা সেজে উঠেছিল বড়দিনের সাজে। এসেছিল কৃত্রিম বরফ, সান্তা ইত্যাদি। এই ছবিতে মারনরোগে আক্রান্ত উমা (সারা সেনগুপ্ত) বাবা হিমাদ্রী (যীশু সেনগুপ্ত) র সাথে সুইজারল্যান্ডে থাকে। ছোটবেলায় থেকে দূর্গাপূজোর কথা শুনে আসলেও চাক্ষুস করার ইচ্ছেটা পুরন হয়ে ওঠেনি। এদিকে ডাক্তার বলেন যে, উমা দুর্গাপূজা অবধি নাও বাচতে পারে। বাবা হিমাদ্রী পুরো শহর জুড়ে নকল পুজো বানিয়ে মেয়েকে নিয়ে কলকাতায় আসেন।

সেই ‘বাইশে শ্রাবন’, ‘চতুষ্কোন’ দেখে গল্পের সঙ্গে পাল্লা না দেওয়া দর্শক যখন এখানে গল্পের সাথে সাথে হাটছে, মনের কোথাও যেন একটা কাঁটা ফুটছিল। কিন্তু উনি তো সৃজিত মুখার্জী, আমার প্রিয় গল্প বলিয়ে। উনি নিজের ইমেজকে এভাবে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে যেটা দেখালেন, সে এক এক সমুদ্র ইমোশন। জানতামই না সৃজিত এতোটা ইমোশনাল।

উমার চরিত্রে সারা-কে দেখে একটা কথা মনে হল, শিশু-অভিনেতা বলে কিছু হয় নাকি? অঞ্জন দত্ত, রুদ্রনীল ঘোষ জাস্ট অসাম। যীশুকে আর একটু বেশি পাওয়ার আশা ছিল, কিন্তু বেশ কিছু দৃশ্যে উনি সেটা পুরন করে দিয়েছেন। আর অনির্বান ভট্টাচার্য তো আমাকে ফ্যান বানিয়ে নিলেন।

তো, রুপকথা, গল্প, কাহিনীর ছাপ মারার আগে ভেবে নিন, এই ছবি তো আমার আপনার গল্পেরই ছবি। আমার আপনার ভেঙ্গে গুড়িয়ে যাওয়া আর না পূরন করা স্বপ্ন, সমাজের অসহনশীলতা, সমাজের আত্মীয়তার মধ্য দিয়ে যে গল্পটা শুনলেন সেটা তো এই সাধারন মানুষের গল্প। এই আমরাই তো পাঁচ হাত এক করে একরাতে তাজমহল বানাতে পারি। আমরাই পারি এক হয়ে অসুর বধ করতে।

আর একটা কথা, (সেন্স অফ হিউমরের কথা হচ্ছেনা, আসলে বাঙালিতো, তাই) ব্রহ্মানন্দের বিবরন দেওয়ার জন্য লাইনগুলো বড্ড খারাপ ছিল। সৃজিত স্যার, উই লভ ইউ।