বেলডাঙার পশুপ্রেমিক ফারুক সেখ এখন মুর্শিদাবাদের গর্ব

আসরাফুল ইসলাম , টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : পশুপ্রেমিক ফারুক সেখ। বেলডাঙ্গা শহরের এক অখ্যাত গ্ৰাম কাজিসাহার বাসিন্দা। বয়স মাত্র পচিঁশ বছর।তার একমাত্র  নেশা ও পেশাই হল পশু পাখির সেবা ও ভালবাসা। তার বিশ্বাস “জীবে প্রেম করে যেই জন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।”তাই তিনি শৈশব থেকেই নিজের বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের পাখি ,খরগোস পালন করতেন । এখন এই তার এই অভ্যেস পেশায় পরিণত হয়েছে।

রাস্তাঘাটে চলার পথে তিনি যেখানেই যান কোন অসুস্থ পশু পাখি দেখলেই বাড়ি নিয়ে গিয়ে সেবা করে সুস্থ করে তবেই ছাড়েন। একটা পাখিকেও তিনি সহজে মরে যেতে দেন না। এলাকায় যেখান থেকেই যে কোনো মুহুর্তে কোনো অসুস্থ জীবজন্তুর খোজ পেলে ছুটে যান তিনি।তাই এলাকার মানুষও কোন নতুন জীবজন্ত দেখতে পেলে তাকেই খোজ করেন ।দিনরাত পশুপাখির টানে জলে জঙ্গলে যান তিনি ।পরিবেশের বন্যজন্ত বা পাখি যাতে কেউ না হত্যা সেজন্য এলাকার মানুষদের বিভিন্নভাবে সচেতনও করেন তিনি। আবার কিছুদিন আগে এই এলাকার  অনেক মানুষ পাখি শিকার করে বাজারে বেচে জীবিকা চালাত। কিন্তু এখম ফারুকের পরিবেশ সচেতনতা অভিযান এর ফলে পাখি শিকার বর্তমানে সম্পূর্ণ রুপে বন্ধ ।পশুপাখির সেবায় ইতিমধ্যেই ফারুক বাবু নিজেই বেলডাঙ্গা বন্যপ্রাণী সংরক্ষন সমিতি নামে একটু সংস্থাও খুলেছেন। তার এই পশুপ্রেমিক মনোভাব নিয়ে ফারুক সেখ টিডিএন বাংলা কে জানান, ছোট্ট থেকেই পাখিদের যত্ন নেওয়ার প্রতি একটা আগ্রহ ছিলো, আবার জেলায় যেভাবে পাখির শিকার হয়ে নিত্যদিন হাজার হাজার পাখি মারা যাচ্ছে তাতে আমার মন খুব ব্যথিত। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলাম এই পশুদের জীবন রক্ষা করতে যা করার করবো, সেই মোতাবেক আমি সংস্থা খুলে এলাকা এলাকায় প্রচার করে, সচেতনতা গড়ে তুলে মানুষকে পাখি শিকার করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেই সাথে অসুস্থ, ঝড়ে বাসা থেকে পড়ে যাওয়া বিভিন্ন পাখিকে নিজের বাড়িতে এনে সেবা সুশ্রুষা করে সুস্থ করে তোলায় এখন নেশায় পরিণত হয়েছে। আমি পশুপাখিদের এহেন সেবা করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।।

যদিও ফারুক বাবুর আক্ষেপ পশুপাখির সেবায় এতদিন থেকে ফ্রিতে কাজ করে গেলেও সরকারি ভাবে কোনো সাহায্য বা সহযোগীতা তাকে দেওয়া হয় না। তবে তার এই পশুপাখি প্রেমীতে বেলডাঙা বাসি তো বটেই মুর্শিদাবাদ জেলাবাসীও গর্বিত। জেলার মানুষের কাছে এখন আইকন হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন ফারুক। তার কথায় কেউ কিছু সাহায্য করুক আর না করুক আমি সারাজীবন পশুপাখির সেবা করে যাবো।