পাশে যাদবপুর, জমি আন্দোলনে উত্তাল ভাঙড়ে এখন পরস্পর বিরোধী বক্তব্য

ওয়েলফেয়ার পার্টির দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা সভাপতি বলেন, “পাওয়ার গ্রিড নিয়ে মাছিভাঙায় জনগণের বিক্ষোভ জলসঙ্কট এবং এলাকায় চাষের ক্ষতি হওয়ার ভয়ে। কিন্তু সংবাদে প্রকাশ, পাওয়ার গ্রিড নয়, মাটি কাটার বরাতের টাকা যারা পায়নি তারা পিছন থেকে জনগণকে পথে নামিয়েছে গ্রিডের ক্ষতির কথা বলে ! কিন্তু রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে উভয় তরফের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় উন্নয়ন মূলক এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করা যাবে না ! এই যখন ঘটনা তখন মিথ্যা গুজব তুলে জনগণকে পথে নামানো কেন ?  কোটি টাকার বরাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার জন্য কি এই গন্ডোগোল তৈরী করা ? টাকার বরাত নেওয়ার মত নির্লজ্জ বিষয় সংবাদে প্রকাশের পর এটাকে অপরাধের কাটগড়ায় না তুলে পাওয়ার গ্রিডের ক্ষতির কথা বলে হাওয়া গরম করা হচ্ছে কেন ? যারা আন্দোলন করছে তাদের সাথে নকশালরা রয়েছে বলে সংবাদে প্রকাশ ! এরপরে অবুঝ অতি উৎসাহি যুুবকদের মাওবাদি বলে জেলে ঢোকানো হবে নাতো ? আর ঘটনা যদি সত্য হয় তাহলে টাকার বরাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা উঠছে কেন ? যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্র প্রশাসনের সাথে বৈঠক হলো সেখানে ক্ষতির বিষয় কোনো কথা হয়নি কেন ? সত্যিই যদি ক্ষতি হয় তাহলে যেসব জনদরদীদের নাম আসছে তাঁরা জনগণের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিন সহযোগিতা করবো ভাঙড়বাসি হিসাবে। তাতে যদি আসল ঘটনা প্রকাশ পায়।”
এদিকে ভাঙ্গড়ের তৃণমূলের দুই তাবড় নেতা আরাবুল ইসলাম ও নান্নু হোসেন বিরোধী আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন। আরাবুল ইসলাম টিডিএন বাংলাকে বলেন “পাওয়ার গ্রীড নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কৃষকরা নিজ ইচ্ছায় জমি দিয়েছে।  রাজ্যে ৪১টা পাওয়ার গ্রীড আছে, কোথাও দূষণের অভিযোগ নেই। আসলে কিছু লোক টাকা চেয়ে বেড়ায় তারা এসব করছে।” অপরদিকে তৃণমূলের আর এক নেতা নান্নু হোসেন টিডিএন বাংলাকে বলেন “পাওয়ার গ্রিড নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, পরিবেশ দূষণ হবে না, আমরা এটা নিয়ে মন্ত্রী ও উচ্চ পদস্থ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি।” তবে আরাবুল এবং নান্নু হোসেন যাই বলুন না কেন, একটা গোষ্ঠীর মানুষ কিন্তুু আন্দোলন করছে এই প্রকল্প নিয়ে। ‘জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা
কমিটি’র পক্ষে অলীক চক্রবর্তী বলেন, “পাওয়ার গ্রিড টাওয়ার অবিলম্বে বন্ধ করা হোক, কেননা এটা হলে আগামী প্রজন্ম যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু সরকার বেআইনি ভাবে পাওয়ার গ্রিট করছে।” কমিটির মতে এই গ্রিড হলে হাজার হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিজ্ঞানী নিসা বিশ্বাস বলেন, “এখানে চাষকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ফসল হবেনা। এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে,শিশুদের ওপর প্রভাব পড়বে। আমরা এটা মেনে নিতে পারবোনা।” মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের রাজ্য সম্পাদক ছোটন দাস, সহ সভাপতি সুজাত ভদ্র ও আলতাফ আহমেদ প্রমুখ এই প্রকল্পের তীব্র বিরোধীতা করেছেন।
বহুজন সলিডারিটি মুভমেন্টস এর শরদিন্দু উদ্দীপন ফেসবুকে লিখছেন, “সমস্ত আন্দোলনকারীদের অভিনন্দন জানাই।” আবার সোনা সেখ লিখেছেন, “ভাই তোমাদের বাড়ির বিদ্যুৎ কারও না কারও জমির উপর দিয়ে গেছে।”
যাই হোক, এখন দেখার, ভাঙড় এই দুই রাজনীতির মাঝে কোন পথে যায়। তবে আলোচনা সমালোচনা যায় হোক, চির বঞ্চিত ভাঙড় সমস্ত অপবাদ মুছে একটু নতুন বাতাস চায়, আগামী শিশুর জন্য একটা রঙিন সূর্য চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *