বাবরী মসজিদ ধংসের দিনে বহরমপুরে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের সংহতি ও কালা দিবস পালন 

মোহ : তাজউদ্দিন, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ২৫তম কালো দিবস বুধবার। শুধু হিন্দুস্থান ভূখন্ডেরই নয়, গোটা মুসলিম উম্মাহর আরেকটি বেদনাবহ দিন। আজ থেকে ২৫ বছর আগে আজকের এই দিনে (৬ই ডিসেম্বর) মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলেছিলো উন্মত্ত কিছু হিন্দু জনতা। আজকের দিনটিকে ‘শৌর্য ও বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করার ডাক দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো। অন্যদিকে, মুসলিম সংগঠন, মানবধিকার সংগঠন ও  ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো জেলা শহর ও ব্লকে  ব্লকে  দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করছে।

 

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫ বছর পূর্তির দিনে বিজেপি-ও দেশের ফ্যাসিবাদী শক্তির  বিরুদ্ধেই আজ বহরমপুরে বিকেল ২ ঘটিকার সময় টেক্সটাইল মোড়ে কংগ্রেসের আহ্বানে সমাবেশ করা হয়। অন্য দিকে মোহনের মোড়ে তৃণমূল কংগ্রেস পক্ষ থেকে ‘সংহতি দিবস’ পালন করা হয়। কংগ্রেসের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বহরমপুর সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী, টাউন কংগ্রেস সভাপতি সহ  দলের অন্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন,  আজকের দিন ভারতবর্ষের গণতন্ত্রের লজ্জার দিন তাই আজ আমরা ধিক্কার জানাতে এই সমাবেশের ডাক দিয়েছি। এই সমাবেশ থেকে আমাদের অঙ্গীকার নিতে হবে দেশের ধর্ম নিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র কে টিকিয়ে রাখার। কংগ্রেসই পারবে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র কে টিকিয়ে রাখতে। তিনি আরও বলেন, যেই গুজরাট কে হিন্দুত্বের ল্যাব্রোটারী বলা সেই গুজরাটে রাহুল গাঁধীর নেতৃত্বে মানুষ  ধর্ম নিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াই করছে ও বিজেপির ঘুম কেড়ে  দিয়েছে। আগামী দিনে কংগ্রেসই দেশের নেতৃত্ব দিবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কে কটাক্ষের সুরে বলেন, আজ দিদি সংহতি দিবস পালন করছেন, কিন্ত কিছু পালন করতে হলে অতীত কে জানতে হয়। তিনি আজ ধর্মনিরপেক্ষ সাজার জন্য হটাত বিজেপির বিরোধিতা করছেন অথচ এই বিজেপি ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল কেন্দ্রের শাসক দলের সাথে ছিলো। তখন বিজেপি স্লোগান ছিল রাম মন্দীর নির্মাণ, ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া ইত্যাদি। দেশের সেই ঘটনার পরেও তিনি কেন্দ্রে এনডিএ মন্ত্রিসভায় ছিলেন। এখন সাম্প্রদায়িকতার প্রতিবাদ তো লোককে ঠকানো!  অন্যদিকে তৃণমূলের মোহনার মোড়ে সমাবেশের ডোমকলের পৌরপিতা সৌমিক হোসেন বলেন, বাংলায় সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। মা মাটি মানুষের সরকার বাংলায় সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবে। কোন অপ শক্তি যদি বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে সরকার তা কড়া হাতে দমন করবে। এটা সম্প্রীতির বাংলা। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলার চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, বিধায়ক আমিরুল ইসলাম প্রমুখ।