মারা গেছে মেধাবী মেয়ে খুশবু, তাই ৮২% নম্বর দেখেও কান্নায় ভেঙে পড়লো নদিয়ার মল্লিক পরিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, নদিয়া : মঙ্গলবার মাদ্রাসা বোর্ডের আলিম, ফাজিল  ও হাই মাদ্রাসার ফলাফল প্রকাশিত হলো৷ সফল ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে অভিভাবকদের মনে বয়ে চলেছে আনন্দের জোয়ার৷ চলছে মুখমিষ্টি করার মাধ্যমে খুশির বিনিময়৷ ব্যতিক্রম শুধু নদিয়ার নাকাশিপাড়া থানার বারভেগে গ্রামের মল্লিক পরিবারে৷ মল্লিক পরিবারের বড়ো মেয়ে খুশবু পারভিন হাই মাদ্রাসার মাধ্যমিকে ৬৫৩ নম্বর পেয়ে হরনগর বারোভেগে হাই মাদ্রাসার প্রথম হয়েছে৷ কিন্তু যে মেয়েটি এই অসাধারণ রেজাল্ট করেছে, সে আর মার্কশিট নিতে মাদ্রাসায় আসবে না৷ তার বিনয়ী, স্বভাব লাজুক আনত মুখ নিয়ে শিক্ষকদের সামনে আর দাঁড়াবে না৷ কারণ তার বর্তমান অবস্থান থেকে আসা-যাওয়ার নিয়ম নেই৷ সে আর বেঁচে নেই৷
আবু জাহেদ মল্লিক ও মাসুদা মল্লিকের তিন সন্তানের মধ্যে বড় খুশবু পারভিন৷ গত ২১শে এপ্রিল এক মর্মান্তিক পথ দূর্ঘটনায় মারা যায় খুশবু(১৬), তার বোন সালমা ও চাচা তোফাজ্জেল মল্লিক(২৮)৷ চাচার মোটর সাইকেলে নিকটস্থ বাজার দেবগ্রামে গিয়েছিল ডাক্তারের কাছে৷ ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটে যায় হৃদয় বিদারক এই মহা ট্রাজেডী৷
আজ বেলা এগারটায় যখন  খুশবু পারভীনের ফলাফলে দেখা যায়৷ প্রায় ৮২% নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছে সে৷ শোকাহত পরিবারের মুখোমুখি হয়ে দেখা গেল পিতা আবু জাহিদ মল্লিক মোবাইল হাতে দাঁড়িয়ে৷ স্থির মূর্তি৷ মা মাসুদা মল্লিক আমাদের দেখে হাঁহুতাস কাঁদছিলেন৷ বলছিলে— “দেখেছেন আমার খুশবু কেমন ভালো রেজাল্ট করেছে৷ আল-আমিন মিশনে ভর্তি হওয়ার খুব সখ ছিল৷” ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিল খুশবু৷ সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়৷ তবে এ দুই সফলতার কোনটাই জানা হলো না তার৷ খুশবুর মায়ের পাশে বসে নীরবে অশ্রুপাত করছিলেন সদ্য বিধবা খুশবুর চাচিমা৷ অপরাধীর মতো বসেছিলাম৷ সমবেদনা জানানোর কোন শৈলী এই পরিস্থিতে উপযোগী ভেবে পাইনি৷ ধরা গলায় আবুজাহিদ বললেন— ‘আমার খুশবু মা তার ফলাফল কিছুই দেখতে পেল না৷’ মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর ইসলাম গভীর ভাবে শোক প্রকাশ করে বলেন— ‘খুশবু আমাদের ব্যতিক্রমী ছাত্রী, আজ আমাদের আনন্দ দুঃখে পরিণত হয়েছে৷ ওদের পরিবারের জন্য সমবেদনা জানাচ্ছি৷’
মাদ্রাসার জনপ্রিয় শিক্ষক আবু সুফিয়ান মুহাম্মদ আব্দুল্লা টিডিএন বাংলাকে বলেন,”কী বলবো ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা।এমনও হয়,একজন সারা জীবন কষ্ট করে পড়ে মাধ্যমিক দিয়ে রেকর্ড রেজাল্ট করলো অথচ সেই রেজাল্ট দেখতে পেলনা ? আজ ও থাকলে খুব খুশি হত।আমরা কত আনন্দ পেতাম।কিন্তু সে আর হল কই ? এই কাগজের রেজাল্ট পড়ে থাকবে,আসলে মানুষের জীবনটাই এই রকম।কে, কখন কিভাবে যাবে কে জানে।”