পাশফেল প্রথা না থাকায় পড়াশুনার মান শিকেয় উঠেছে

বিশেষ প্রতিবেদন, টিডিএন বাংলা: সরকারের পাশফেল প্রথার বিলুপ্তিতে শিকেয় উঠেছে পড়াশুনার মান। কিছুদিন আগে সরকার স্কুলছুট বন্ধ, শিক্ষিতের হার বৃদ্ধি করা সহ বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত পাশফেল প্রথা তুলে দেয়।ফলে ছাত্রছাত্রীরা চতুর্থ শ্রেণি পার করে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলেও নামতা, যোগ-বিয়োগ কিংবা এবিসিডি লিখতে পারছেন না। তার কিছুদিন পর নবম শ্রেণি পর্যন্ত অনায়াসেই উত্তীর্ণ হচ্ছে। তার পর রীতিমতো বেকায়দায় পড়ছে ছাত্রছাত্রীরা।কি করবে কিছুই তো জানে না! কিভাবে পড়াশুনা করবে?তখন গরিব পরিবারের কেউ ইটভাটায় কাজ শুরু করছে, আবার কেউ কেউ রাজমিস্ত্রি খাটতে পালাচ্ছেন কেরালা।অন্যদিকে মেয়েদের কারো বিয়ে হচ্ছে, আবার কেউ বাড়িতে মায়ের সাথে বিড়ি বাধার কাজে ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে।
সামশেরগঞ্জের সাহেবনগর হাইস্কুলের শিক্ষক সফিউর রহমানে কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সরকারের শিক্ষানীতির ত্রুটি এবং পাশফেল প্রথার বিলুপ্তি ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। কাঞ্চনতলা হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাইজুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, না পড়েও যদিও পাশ করা যায়, তাহলে কষ্ট করে পরবে কেন? চাচন্ড বি.যে হাইস্কুলের বাংলার শিক্ষক মোসলেহুদ্দিন সুভানীর কথায়, শুধুমাত্র পাশফেলই নয়, তার সাথে আর্থিক কারন, অভিভাবক, শিক্ষক শিক্ষিকাদের অসচেতনতা, শারিরীক শাস্তি না দেওয়ার ব্যাপারটাও জড়িয়ে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বয়স অনুযায়ী ক্লাশে ভর্তির ব্যবস্থা করায় আরো সমস্যা তৈরি হয়েছে, ছাত্রছাত্রীরা নিজের নামটুকুও লিখতে পারছেন না।ফলে শিক্ষা এবং শিক্ষার মান দুটোই নিম্নমুখী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *