মোদির বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা পুরুস্কার ঘোষণা বরকতির

নিজস্ব সংবাদদাতা,টিডিএন বাংলা,কলকাতা: ফের বিতর্কে টিপুসুলতান মসজিদের ইমাম নূর রহমান বরকতি।শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে অল ইন্ডিয়া মজলিশে সুরা এবং অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি ফোরাম।
এখানে নোট বাতিল সহ নানা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে টিপু সুলতান মসজিদের শাহী ইমাম মৌলানা নুরুর রহমান বরকতি ফতোয়া জারী করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দাড়ি কেটে এবং মাথা মুড়িয়ে দিয়ে কালি মাখিয়ে দিতে পারলে তাকে ২৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে থাকার সমস্ত যোগ্যতা নরেন্দ্র মোদী হারিয়ে ফেলেছেন। যারা দাড়ি রাখেন সাধারণতঃ তারা ধর্মীয় পন্ডিত হন,যেমন – মৌলানা, সাধু, সন্যাসি, শিখগুরু ইত্যাদি) কিন্তু নরেন্দ্র মোদির দাড়ি রাখা একটা ভন্ডামী।সভাপতির ভাষনে অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি ফোরামের চেয়ারম্যান তথা সাংসদ ইদ্রিশ আলি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অবিলম্বে তার পদত্যাগ করা উচিত মোদির। নোটবন্দী ইস্যুতে তিনি বহু মানুষের সর্বনাশ করেছেন। বহু মানুষকে প্রান দিতে হয়েছে। তিনি গুজরাটের বড় দাঙ্গাবাজ এবং বর্তমানে একজন খুনী আসামী। সাংসদ ইদ্রিশ আলি আরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সততার প্রতীক এবং এই মুহুর্তে তিনি ভারতবর্ষের সবচেয়ে জনপ্রীয় নেত্রী। ভারতের বেশীরভাগ মানুষই নরেন্দ্র মোদীকে আর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাননা। ভারতবর্ষের বেশীরভাগ মানুষ চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে। তাই আমরা আশাবাদী ভারতের অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের হাল ধরবেন এবং ভারতকে রক্ষা করবেন। চারদিকে তাই আওয়াজ উঠছে –  “মমতা লাও, মোদী হঠাও, দেশ বাঁচাও।” সাংসদ ইদ্রিশ আলি আরো বলেন, “ভারতবর্ষের বেশীরভাগ হিন্দু সম্প্রদায় সহ অন্যান্য সম্প্রদায় ধর্ম নিরপেক্ষ।  তাই শ্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের ব্যার্থতা ঢাকতে দাঙ্গা বা গণ্ডগোল বাধানোর চেষ্টা করলেও ভারতের ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষরা তাদের সফল হতে দেবেনা।” তিনি ধর্মে ধর্মে আরো বেশী সমন্বয় ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম মৌঃ ক্বারী মহঃ সফীক কাশমী, কলকাতার কালিঘাটের পুরোহিত শ্রী কেশব চ্যাটার্জী,হাজী কামরুদ্দিন মল্লিক প্রমুখ।কিন্তু ইমামের এই ফতোয়ার বিরোধীতা করছে মুসলিমরা।একজন টিডিএন বাংলাকে বলেন, একজন ইমামের এই মন্তব্য করা ঠিক হচ্ছেনা।তাছাড়া মমতা বন্দোপাধ্যায় মুসলিমদের জন্য এমন বিরাট কিছু করেননি যে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে ইমামদের পথে নামতে হবে।তাছাড়া রাজনীতির মধ্যে ইমামদের নাক না গলানোই ভালো।