বিল সিলেক্ট কমিটিতে না গেলে সুপ্রিমকোর্টে যাবার হুঁশিয়ারি ইসলাহে মুয়াশারা কমিটির

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: তাৎক্ষণিক তিন তালাক বিল সিলেক্ট কমিটিতে না গেলে সুপ্রিমকোর্টে যাবার হুঁশিয়ারি দিল মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের কলকাতার সদস্যগন। সেই সাথে তাঁরা চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এই বিলের বিরোধীতা করুন। সোমবার শেক্সপিয়ার সরণিতে মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের সদস্য ও ইসলাহে মুয়াশারা কমিটির পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে বলা হয়, তাৎক্ষণিক তিন তালাক বিল পার্লামেন্টের সিলেক্ট কমিটিতে যাক।এই বিল মহিলা বিরোধী বিল। সিলেক্ট কমিটিতে বিল না পাঠালে সুপ্রিমকোর্টে যাবে।

বোর্ডের সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ আবু তালিব রুহানি বলেন, “এই বিল শরীয়তের ওপর হতক্ষেপ এবং একই সাথে সংবিধানের নীতি বিরোধী ও নারীদের স্বার্থবিরোধী ও স্ববিরোধীতায় ভরপুর।তাৎক্ষণিক তিন তালাক দিলে তিন বছরের জেলের কথা বলা হয়েছে আবার ওই ব্যাক্তিকে ভরণপোষণের দায়িত্ত্ব নিতে বলা হয়েছে।যে ব্যাক্তি জেলে থাকবে সে কী করে জেল থেকে স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে?”

ওই নেতার প্রশ্ন- ‘এই আইনের বলে তাৎক্ষণিক তিন তালাক পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য ও বাতিল। যেমনটি ২২ আগস্ট সুপ্রিমকোর্ট রায় দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, যে কাজটি ঘটেনি এবং আইনের দৃষ্টিতে মহিলাটি বিপন্নও নয়, তাহলে অভিযুক্তকে সাজা দেওয়ার অর্থ কী?বিবাহ একটি সামাজিক বন্ধন ও দেওয়ানি বিষয়। বিলে এটাকে ফৌজদারি বিষয় হিসাবে শাস্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।” মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের মতে,
প্রস্তাবিত এই বিলের বেশ কিছু ধারা বর্তমানে চালু অন্যান্য আইনের বিরোধী। ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স আইন ২০০৫, অভিভাবক আইন এবং ফৌজদারী আইন বলবৎ রয়েছে সেগুলিই যথেষ্ট।”

সাংবাদিক সম্মেলন থেকে রাজ্য সভার সাংসদদের কাছে অনুরোধ করা হয় বিলের বিরোধীতা করার জন্য। সেই সাথে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিক তিন তালাক বিলের বিরোধীতা করুন, এমনটি চায়ছেন সদস্যগন। বিল যদি সিলেক্ট কমিটিতে না যায় তবে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হবে বোর্ড। ওই সংস্থা মনে করছে,সরকার উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে লোক সভায় এই বিল পাশ করিয়েছে।
এই বিল তৈরির সময় বা খসড়া বানানোর সময় সংসদীয় রীতিও অনুসরণ করা হইনি বলে অভিযোগ। মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ড বলছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষ, পীড়িত পক্ষ এমনকি কোনো মহিলা সংগঠনের সঙ্গেও পরামর্শ করা হয়নি এই বিলটি তৈরির সময়।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা সারাফত আবরার, সুবহি আজিজ, মাওলানা নিয়ামত হোসেন হাবিবি, মাওলানা মারুফ সালাফি, রফিক সিদ্দিকী প্রমুখ।