শারীরিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ইউজিসি নেট ও জেআরএফ উত্তীর্ন মালদার রৌশন

সাদ্দাম হোসেন, টিডিএন বাংলা, বৈষ্ণবনগর: বহু বাধা বিপত্তি প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে ইউজিসি নেট ও জেআরএফ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে মালদার গোলাম রৌশন ইসলাম। কৃতি এই সন্তানের বাড়ী বৈষ্ণবনগর থানার সবুজ পল্লী গ্রামে। বাবা মায়ের সর্বকনিষ্ঠ মেধাবী সন্তান রৌশন।  বাবা আব্দুল ওদুদ অবসরপ্রাপ্ত রেভিনিউ অফিসার বহু কষ্ট করে তার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করেন। রৌশন ছাত্র জীবনে সাহাবানচাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশুনা শুরু করেন।

তারপর ভগবাবপুর কেবিএস উচ্চবিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। ২০১১সালে গৌড় বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে  প্রথম বিভাগে বিপিএড পরীক্ষায় উত্তীণ হয় । অতপর ২০১৫-১৭ শিক্ষাবর্ষে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের ছত্রপতি সাহুজি ইউনিভার্সিটি থেকে এমপিএড এ প্রথম বিভাগে উত্তীণ হয়।


২০১৬ সালে ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা দিয়ে অটোতে ফেরার পথে পথ মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার শিকার হন রৌশন। একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। টানা পনেরদিন ভেন্টিলেশন ও আইসিইউতে থাকার পর তার জ্ঞান ফেরে। তারপর কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে মুখমণ্ডলে  ও হাতে প্লাস্টিক সার্জারি হয় । প্রায় দুই বছর অতিক্রম হওয়ার পরও এক হাত অকেজো ও মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়ায় এখনো  বাড়ীর বাইরে তেমন বেড়ান না রৌশন। তারপরও হাল ছেড়ে ছাড়েনি এই মেধাবী। মনের জোর, আত্মবিশ্বাস আর মহান স্রষ্টার প্রতি ভরসা রেখে প্রথমবার ইউজিসি নেট ও জিআরএফ পরীক্ষা দিয়েই বাজিমাত করেন তিনি।


গোলাম রৌশন ইসলাম টিডিএন বাংলাকে জানান, যারা কঠিন মুহূর্তে আমাকে সাহস জুগিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের  প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ, পাশাপাশি মহান স্রষ্টার প্রতিও লাখ শুকুরিয়া জ্ঞাপন করেন তিনি। তার এই সাফল্যে শুধু বাবা মা, বন্ধু বান্ধব নয়, তাকে নিয়ে আজ  গর্বিত গোটা বৈষ্ণবনগর।