উগ্রতার বিরুদ্ধে হিন্দু মুসলিম হাতে হাত রেখে কাঁথিতে শান্তি মিছিল করে নজির তৈরি করলো

রোকাইয়া খাতুন ও সেখ ইজাজ আহমেদ, টিডিএন বাংলা, কাঁথি : ‘পৃথিবীতে সুন্দর করে বাঁচতে হলে, মিলে মিশে থাকতে হলে ভালবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনে মিলিত হতে হয়। সম্প্রীতির জন্য প্রয়োজন ভালবাসা। ভালবাসা ছাড়া সম্প্রীতির সমাজ হয় না। আর ভালোবাসার নজির তৈরি করতেই আমরা আজ পথে।’ মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে কথা গুলি গড়গড় করে বলছিলেন এক যুবক। শুধু ওই যুবক নয়, শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহাসিক কাঁথি শহরে মানুষ সম্প্রীতির যে ছবি দেখতে পেল তা অনেকের কাছেই ফেমে বাঁধানোর মত।
এদিন কাঁথির হিন্দু মুসলিম পথে নেমে জানিয়ে দিলেন,অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে শান্তি ও সম্প্রীতির পক্ষে তাঁরা পথে নামবে।
এদিন দুপুর গড়াতেই কাঁথি প্যানেল থেকে মৌন মিছিল শুরু হয়ে শহর পরিক্রমা করে কাঁথি সেন্ট্রাল বাসট্যান্ডে গিয়ে পৌঁছায়। দীর্ঘ মিছিল শেষে বিকাল চারটের দিকে কাঁথি বাসট্যান্ডে প্রকাশ্য সভা হয়।দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্প্রীতি রক্ষায় সকলের করণীয়, ভারতের ঐতিহ্য, স্বাধীনতায় মুসলিমদের অবদান ইত্যাদি নানা বিষয়ের উপর আলোচনা হয়। মূলত হিন্দু মুসলিম কিছু শিক্ষকের উদ্যোগে এই সভা হলেও সমাজের সর্ব শ্রেণীর লোক এতে অংশ নেন।সভায় উপস্থিত ছিলেন দীঘা সারদা রামকৃষ্ণ সেবা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ নিত্যবোধানন্দজী মহারাজ। তিনি ভারতের চিরন্তন ঐক্যের উদাহরণ টেনে বলেন, “এলাকার বিভেদকামী শক্তি যাতে মাথা তুলতে না পারে তার জন্য জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের উচিত ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ করা। আমাদের ভ্রাতৃত্ব আগের মতই অটুট আছে এবং থাকবে। কেউ এটা ছিন্ন করতে পারবে না।”
এদিনের সভায় কারী রহমত আলী নাদভী বক্তব্য রাখার সময় স্বাধীনতায় মুসলিমদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “কিছু মানুষের অসহিষ্ণু মনোভাব ভারতের সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর। তবে আমাদের প্রত্যেককে দেশের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা করে যেতে হবে। কোন অবস্থায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। সকলকে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।” বন্দি মুক্তি কমিটির সম্পাদক ছোটন দাস দেশে হিংসা ছড়ানোর জন্য আরএসএস ও বিজেপির নীতিকে দায়ী করেন। আবার ‘রক্ত দিয়ে হলেও সম্প্রীতি’ রক্ষার কথা বললেন সদ্ভাবনা মঞ্চের যুগ্ম সম্পাদক মহম্মদ তাহের উদ্দিন। সমাবেশ থেকে বেরিয়ে তিনি টিডিএন বাংলাকে বলেন, “ধর্মীয় সম্প্রীতির পীঠস্থান এই ভারতবর্ষ। নানা ধর্মের মানুষের মধ্যেও সম্প্রীতির বহু নজির আগেও হয়েছে এই দেশে। এই প্রীতিকে ভাঙার সকল চক্রান্ত রুখতে হবে।”
কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা বা ব্যানার ছিলোনা শুক্রবার। কিন্তু কাঁথির হিন্দু মুসলিম এক হয়ে পথে নেমে এটাই প্রমান করেছে,আর যায় হোক, বিভেদকামী শক্তির এখানে জায়গা নেই। কিন্তু মিলনের বাঁশি বাজানোর উদ্যোগ নিয়ে পিকে কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ কাঙাল চন্দ্র দাশ, কসবাগোলা হাই মাদ্রাসার শিক্ষক নজরুল আলি খাঁন, সাতমাইল হাইস্কুল শিক্ষক শঙ্কর ভূঞ্যা, মাদ্রাসা দ্বারে আরকাম কাঁথির সম্পাদক সেখ ইসরাইল আলি ও ফুলেশ্বর দুরমুঠ হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক মৃনাল কান্তি ভট্টচার্যরা মানুষকে বলেছিলেন, “আমাদের বাঁচতে হলে আরও কাছাকাছি হয়ে, মিলেমিশে থাকতে হবে।”