একঝাঁক সাহিত্যপ্রেমী কলম যোদ্ধাদের কবি সম্মান দেওয়া হল কলকাতায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, টিডিএন বাংলা, কলকাতা রবিবার ইংরেজী বছরের প্রথম দিনে যুথিকা সাহিত্য পত্রিকা ও বিশ্ববঙ্গ বাংলা সাহিত্য একাডেমির যৌথ উদ্যোগে সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠিত হয় নিখিলবঙ্গ কবিতা উৎসব ও প্রতিযোগীতা ২০১৭, কলকাতার রবীন্দ্রসদনে, পশ্চিমবঙ্গ চারুকলা পর্ষদের অবনীন্দ্র সভাঘরে। আমন্ত্রিত ছিল নিখিলবঙ্গ কবিতা প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণকারী এসএমএস প্রাপ্ত অর্থাৎ নির্বাচিত বিজয়ী প্রতিযোগীরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ঠ কবি সুকুমার রুজ এবং বিশেষ অতিথি রুপে সাহিত্যিক উপল দত্ত। সভাপতিত্ব করেন কবি দেবপ্রসাদ বসুএবং সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুথিকা পত্রিক ও বিশ্ববঙ্গ বাংলা সাহিত্য একাডেমির মুখ্যপ্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সোমনাথ নাগ। অনুষ্ঠান সূচিতে ছিল স্বরচিত কবিতা পাঠ, পত্রিকা ও বই প্রকাশ, নিখিলবঙ্গ কবিতা প্রতিযোগীতার ফলাফল ঘোষণা এবং পুরষ্কার বিতরণী প্রভৃতি। এই অনুষ্ঠানেই ইংরাজী নববর্ষের সংখ্যা পত্রিকা সহ যুথিকা সাহিত্য পত্রিকার প্রকাশনায় আরও দুইটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পায়। একটি কবি তপন ভদ্রের‘চলো না খুঁজি তারে’, অপরটি কবি দেবপ্রসাদ বসুর‘বিলাসে বিষণ্ণতা’।

এই অনুষ্ঠানে নিখিলবঙ্গ কবিতা প্রতিযোগীতার মধ্যদিয়ে একঝাঁক সাহিত্যপ্রেমী কলম যোদ্ধাদের কবি সম্মাননা দেওয়া হল। তাঁদের হাতে স্থানাধিকার অনুযায়ী পুরস্কার ও সংশাপত্র তুলে দেওয়া হয়। সারা বাংলা থেকে প্রায় ২০০০ জন কবিতা রচয়িতা এই নিখিলবঙ্গ কবিতা প্রতিযোগীতায় অংশ নেন। গত বছরের শেষে বেশ কয়েক মাস ধরে রেজিস্ট্রি, স্পিড ডাক ও(বা) হাতে হাতে বিশ্বের বাংলা কবিতা লেখালেখি করেন এমন যেকোনো ব্যক্তির কাছে থেকে থাঁর স্বরচিত একটি কবিতা ও দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি পাঠাতে বা জমাদিতে বলে বিজ্ঞাপন করে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এর পরে জমা পড়ে প্রায় ২০০০-এর মতো স্বরচিত কবিতা। প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করতে বা করে কবিতা জমাকরার দিন শেষ হলে শুরু হয় নির্বাচনের কাজ। আট জন বিশিষ্ট কবি ও তিন জন সমালোচক দিয়ে স্বাধীনভাবে চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ণের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার কাজ। নির্বাচিত প্রতিযোগীদের মোবাইলে কবিতা নির্বাচনের খবর জানিয়ে পয়লা জানুয়ারিতে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়।সোমনাথ বাবু বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল মোট ১৭৯৪জন বলে জানানো হয়েছে। তার মধ্যে মোট ৮৮জন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়, যাঁদেরকে পুরস্কৃত করা হয়।’তিনি বলেন, ‘যাঁরা ভালো কবিতা রচনা করেন তাঁদের এবং সম্ভাবনাময় কবিদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য আমাদের এই উদ্যোগ।’

উল্লেখ্য, টিডিএন বাংলা-র সংবাদদাতা তথা প্রতিবেদক হামিম হোসেন মণ্ডল এই কবিতা প্রতিযোগীতায় দশমস্থানাধিকারী। তিনি কবি সম্মাননা (সম্মান) ও স্মারক পান। একই সঙ্গে হরিহরপাড়ার খুসবু আহমেদ দশমস্থানাধিকারী হিসেবে এই সম্মাননা পান। এইভাবে একাধিক জন পঞ্চম, ষষ্ঠ, নবম কিংবা দশম স্থান পেয়েছেন। এই নিয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের মুখ্যপ্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সোমনাথ নাগ ‘টিডিএন বাংলাকে জানান, এতজন প্রতিযোগী থেকে নির্বাচন করা বেশ শক্ত বিষয়। তবে যেগুলো কবিতা হয়েছে তাঁদেরই নেওয়া হয়েছে নির্বাচনের জন্য। আমাদের নির্বাচন মণ্ডলীর সদস্যরা পৃথক ভাবে প্রতিটা কবিতার মূল্যায়ণ করেছেন। পরে সেগুলো এতকত্রে গড় করে কবিতার স্থান নির্ণয় করা হয়েছে। ফলে মূল্যায়ণ ও গড়ে একাধিক জন একই নম্বর পেযেছেন, তাই এমনটা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *