তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা: নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে দেরি করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেওয়াল লিখন, দফায় দফায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক- এরপরে বলা যেতেই পারে অ্যাডভান্টেজ তৃণমূল। গতকাল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন তৃণমূলনেত্রী। স্বাভাবিকভাবে কী চমক তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিস্তর। এব্যাপারে একটাই কথা বলা যায়, চমকের নাম `৪২-এ ৪২’। অর্থাৎ জিততে হবে। অন্য়ান্য সব ফ্যাক্টর দূরে সরিয়ে রেখে কী বার্তা দিতে চাইলেন মমতা? কেন তাঁর প্রার্থী তালিকায় সংখ্যালঘুদের উজ্জ্বল উপস্থিতি চোখে পড়ল না? এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার সময় এসেছে।

আজ বামেরা আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে। এমনটাই খবর ছিল। সন্ধে গড়িয়ে গেলেও বাম নেতারা প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেন না। তাহলে এখনো কি জট কাটেনি? নাকি প্রস্তুতির অভাব?

এবারের নির্বাচন ২০১৪ থেকে অনেকটাই আলাদা। কারণ এবার বিজেপি এই রাজ্যকে প্রথম থেকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। বারবার রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী স্বয়ং। অমিত শাহ জয়ের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন। এদিকে বাম-কংগ্রেসও জট কাটিয়ে একটা রফাসূত্র বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে?

তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও রাজ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় আসনের জন্য জোর লড়াই হবে। কারণ কী?

এক, বিজেপি মমতাকে সমীহ করছে। এই কারণে বেশি করে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাকে। মমতাও ভালোই জানেন, লড়াইটা হবে মারাত্মক। তাই তিনি অন্য সব ফ্যাক্টর দূরে সরিয়ে রেখে, যাঁদের জেতার সম্ভাবনা প্রবল, তাঁদেরই প্রার্থী করেছেন।

দুই, বাংলায় এখনো রফাসূত্র বের করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বাম-কংগ্রেস।

এতদিন রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ আসন নিয়ে জোটের আলোচনা থমকে ছিল। রাহুল গান্ধী ও সীতারাম ইয়েচুরির মধ্যস্থতায় সেই গিঁট খোলা গেলেও নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে পুরুলিয়া কেন্দ্র নিয়ে। ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্ব এখনও পুরুলিয়া আসন কংগ্রেসকে ছাড়তে নারাজ। যদিও ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতারা ফ্রন্টের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলে জল মাপার চেষ্টা করেছেন। পুরুলিয়া আসন নিয়ে মঙ্গলবার ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্বের সঙ্গে সিপিএম নেতৃত্বেরও ফের মতবিনিময় হয়েছে। ফলে এই জট যদি কেটে যায় তাহলে বঙ্গে বাম-কংগ্রেস জোট হতে পারে। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় আসনের লড়াইটা কিন্তু আরো কঠিন হবে।

মমতাকে শেষপর্যন্ত কারা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়, সেই দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।