আলি মোস্তফা , টিডিএন বাংলা : একসময়য় মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী দেশ ছিলসিরিয়া। প্রাচীনকালে সিরিয়ার উপর দিয়েই আরব ওইউরোপের বানিজ্য চলতো। কিন্তু আজ সেই সিরিয়া যেন একধ্বংসস্তূপ কিংবা বধ্যভূমি। গত সোমবার রাষ্ট্রপুঞ্জের হিউম্যানরাইটস কাউন্সিল প্রধান জেইদ রা’আদ আল-হুসেইনসিরিয়ার যুদ্ধকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মনুষ্যসৃষ্ট সবচেয়ে বড়দুর্যোগ’ বলে উল্লেখ করেন। সাথে তিনি আরও জানান,সিরিয়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের উপর অত্যাচার চলছে।সম্পূর্ণ দেশটাই একটা ‘টর্চার চেম্বার’ হয়ে উঠেছে বলে তিনিমন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য, সিরিয়ার  গত ৬বছর থেকে থেকে চলা যুদ্ধে এপর্যন্তপ্রাণ হারিয়েছেন ৫ লাখেরও বেশি মানুষ। আহত হয়েছেন প্রায়১০ লাখ। যুদ্ধের আগে সিরিয়ায় যত জনসংখ্যা ছিল, তারঅর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া।কিছুদিন আগে রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থা ইউনিসেফ ২০১৬-কে“সিরিয়ার শিশুদের জন্য সবচেয়ে খারাপ বছর” উল্লেখ করে।প্রায় ৩০ লাখ শিশু আছে, যারা বিদ্রোহ শুরুর পর জন্মগ্রহণকরে এবং এরা জন্মের পর যুদ্ধ ছাড়া আর কিছুই দেখে নি।সরকারী বাহিনীর  হেফাজতে অত্যাচারের ফলে প্রায় ৬০০০০বন্দী মৃত্যুবরণ করে, জানিয়েছে  সিরিয়ান অবজারভেটরি ফরহিউম্যান রাইটস। বিদ্রোহীদের জেলেও মৃত্যু হয়েছে কয়েকহাজার।

স্কুল, কলেজ, ইলেক্ট্রিসিটি গ্রিড, জলের পাইপলাইন, রাস্তা,হাসপাতাল যেন ধ্বংসস্তুপ। ২০১৫ সালের হিসেবে, দেশের৮৩% ইলেক্ট্রিসিটি গ্রিডে বিদ্যুৎসরবরাহ বন্ধ।

২০১১ সালের আরব স্প্রিং-এর ঢেউ লাগে সিরিয়াতেও।এরপর তা গড়ায় যুদ্ধে। ২০১২-১৩ সালে এখানে ফ্রি সিরিয়ানআর্মি গড়ে তোলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার কাছথেকে প্রচুর অর্থ ও অস্ত্র পেয়ে প্রেসিডেন্ট বাশার আলআসাদের বিরুদ্ধে তারা শুরু করে লড়াই। প্রথম দিকে ফ্রিসিরিয়ান আর্মি কিছুটা সুবিধা পেলেও এবং আসাদ সরকারেরপতন অবশ্যম্ভাবী হলেও, আসাদকে সহায়তা দিতে চলে আসেরাশিয়া। এরপর থেকে পিছু হটতে থাকে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি।পরবর্তীতে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি থেকে উৎপন্ন হয় ইসলামিকস্টেট ও আরও নানা দল। এসময় থেকে জাবাত আল নুসরাসহ নানা গোষ্ঠী নিজেদেরকে শক্তিশালী করতে থাকে এবংতারা প্রধানত আসাদ বাহিনী ও রাশিয়ান সেনার বিরুদ্ধেলড়াই করতে থাকে। বর্তমানে সিরিয়ায় চলছে বহুমুখী যুদ্ধ।প্রায় ১ লক্ষ্য ৮৫ হাজার বর্গ কিমি আয়তুনযুক্ত সিরিয়ারপশ্চিম অংশ আসাদ সরকারের নিয়ন্ত্রনে। উত্তর দিক নিয়ন্ত্রনকরছে কুর্দিশ সেনা। উত্তর-পশ্চিমের একটা ছোট্ট অংশতুরস্কের নিয়ন্ত্রনে। এছাড়া সিরিয়ার বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রনকরছে ইসলামিক স্টেট, আল-নুসরা সহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গ্রুপ,রাশিয়ান সেনা ও মার্কিন সেনা ।