টিডিএন বাংলা,কলকাতা : কলকাতার ঐতিহ্যশালী মাদ্রাসার নাম  কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা৷ কত স্বনামধন্য ব্যাক্তিত্ব এখান থেকে বের হয়েছেন  ৷ কিন্তু এই ঐতিহ্যশালী গৌরবময় মাদ্রাসাটি ২০০৮ থেকে বিতর্কের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে ৷ বাম সরকার মুসলিম ভোট টানতে “আলিয়া মাদ্রাসা”কে “আলিয়া ইউনিভার্সিটি ” করার পক্ষে মত দেয় ৷ সেই মতো টাকাও খরচ করা হয় ৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবুর ঘোষণার পরই ক্ষেপে ওঠে মুসলিম সংগঠন গুলি ৷ কারণ, বাম সরকার ‘মাদ্রাসা’ শব্দটি কে তুলে দিয়েছিল ৷ তারপর কত বিক্ষোভ, কত মিছিল,  কত অনশন, পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছিল মাদ্রাসা চত্বর ৷ মুসলিম নেতৃবৃন্দের কথা শুনেননি সেদিন বুদ্ধ -সাত্তাররা ৷ মাঝে মাঝে মমতা -পার্থরা সংখ্যালঘু মুসলিম নেতাদের আশ্বাস দিতেন এই বলে যে –ক্ষমতায় গেলে তারা “মাদ্রাসা “শব্দটিকে আবার ফিরিয়ে আনবেন৷ ক্ষমতার অলিন্দে ফিরেই ‘আলিয়া  ইউনিভার্সিটি ‘ করার ঘোষণা দেন মমতা ৷ ব্যাস্‌, কি চমৎকার সাহস! বাম আশ্রিত কিছু মিডিয়া ও কিছু ছাত্র মমতার ঘোষণাকে মেনে নিতে পারেনি ৷ “মাদ্রাসা ” বাপরে বাপ!  ওর ভিতর যে জুজু ভরা আছে ৷ সে যাই হোক আবারও চলতে শুরু করেছে আলিয়া মাদ্রাসা বিতর্ক ৷ এটা যে কতদিন চলবে কে জানে?  এর আগে মমতা মাদ্রাসার পক্ষে ছিলেন৷ কিন্তু আজ?বাম ডান করতে করতে এক অদৃশ্য গেরো বহুদিন থেকে আলিয়াকে উপরে উঠতে দিচ্ছে না।  রাজনীতির ঘোরটোপে হারিয়ে যাচ্ছে মাদ্রাসার প্রকৃত দাবি৷ বিক্ষোভ আর বিক্ষোভ ৷ কতদিন চলবে এটা? “মাদ্রাসা ” শব্দ ব্যবহার করলে লাভ আছে না ক্ষতি আছে সে কথা নাই বা বললাম ৷ নাইবা গেলাম ব্যাকরণের ঘোরটোপে ৷ কিন্তু আজ  মাদ্রাসাকে নিয়ে রাজ্যে যেটা চলছে সেটা অনভিপ্রেত ৷ মাদ্রাসাকে নিয়ে কেন এতো বিতর্ক ? মুসলিমদের জন্য কিছু হলেই এতো রোষ কেন, ওদের (মাদ্রাসার )ছেলেরা না কি মেধাবী হয় না ৷ কিন্তু কেন হয় না ? কেন ওদের কে কম্পিউটার, ইসলামিক স্টাডিজ, কম্পিটিটিভ ফিলোজফি পড়ানো হয় না ৷ স্কুল গুলির মতো মাদ্রাসার ছেলেরা কেন প্রতিযোগীতায় পিছিয়ে পড়ছে ? এর দায় কে নেবে ? কেন মাদ্রাসা ভালো শিক্ষক ও পরিকাঠামো নেই ? মাদ্রাসায় পড়লে নাকি বেসরকারী সেক্টরে চাকরি পাওয়া যায় না ৷ কিন্তু কেন ? মাদ্রাসাযকে এতো খাটো নজরে দেখা হয় কেন ? মমতা বন্দোপাধ্যায় আজও কেন আলিয়ার শেষে মাদ্রাসা যোগ করলেন না?তবে ২০০৯ সালে এই দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন কেন?
সরকার এ ব্যাপারে কতটা আন্তরিক ? কলকাতা মাদ্রাসা বহুদিন থেকেই আছে ৷ সে থাক তার জায়গাতেই ৷ সঙ্গে থাক মাদ্রাসার হোস্টেল ৷ উন্নত হোক পরিকাঠামো ৷ এবার জাতিকে উপরে তুলতে কলকাতাতেই স্থাপিত হোক বিদ্যালয় ৷ ইউনিভার্সিটির নাম হতে পারে “কলকাতা মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়”অথবা মুসলিম নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনায় যে নাম উঠে আসে সেই নামেই হোক মুসলিমদের জন্য ইউনিভার্সিটি ৷ এর জন্য প্রয়োজন মমতা সহ মুসলিম নেতাদের সদিচ্ছা ৷ আর মুসলিম নেতা মানে সিপিএম, তৃণমূল -কংগ্রেস, বিজেপির মতো নামধারী মুসলিম নেতা নয় ৷ এই নেতা হবে জামাআতে ইসলামি, জমিয়াতে উলামায়ে হিন্দ, যুব ফেডারেশন, মজলিস -ই মুশাওয়ারাত প্রভৃতি সংগঠনের মধ্যে থেকে ৷ তবেই মাদ্রাসা বিতর্কের অবসান হবে৷ অন্যথায় ভ্রাতৃঘাতি দ্বন্দ্বে নিজেরাই রক্তাত্ব হবে মুসলিমরা, হারিয়ে যাবে আলিয়া মাদ্রাসার প্রকৃত পরিচয় ৷ ইসলাম দরদী বাম নেতা ও মুসলিম দরদী তৃণমূল নেতারা এই কাজটি করবেন কি?
#টিডিএন বাংলা