মিজানুর রহমান, টিডিএন বাংলা: লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম দফা ভোটের আগেই নির্বাচন কমিশন চ‍্যালেঞ্জ নিয়েছিল যে, যে কোনো মূল্যে এবার শান্তিতে ভোট করাবে। কিন্তু সে চ‍্যালেঞ্জ বাংলার ক্ষেত্রে ব‍্যর্থ। সপ্তম দফায় তেমন কোনো বড় ঘটনা না ঘটলেও চরম হিংসা, উত্তেজনা ও অশান্তি মধ্যে দিয়েই হচ্ছে বাংলায় ভোট। এবারও কোনো মতেই এড়ানো গেল না অশান্তি।

এদিন সকাল থেকেই রাজ‍্যের বিভিন্ন প্রান্তেই হিংসা ও অশান্তির খবর পাওয়া যায়। ভাটপাড়ায় ভোট শুরুর আগেই রনক্ষেত্রের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানে বিজেপি প্রার্থী অর্জুনের সঙ্গে মূল লড়াই তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্রের। দুই পক্ষের সংঘর্ষে  জ্বালায়ে দেওয়া হয় গাড়ি, চলতে থাকে গুলি বোমা।

রাজারহাটের বিজেপির ক‍্যাম্প অফিসে আগুন লাগাকে কেন্ত্র করে অশান্তি বাঁধে। নিউটাউনের কদমপুরে ২০১ নম্বর বুথের কাছে দুস্কৃতীরা বিজেপির ক‍্যাম্প অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠে।

তিলজলায় বি আর আম্বেদকর স্কুলের ২৪৪ ও ২৫২ নম্বর বুথে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ উঠে। সেখানে গিয়ে পৌছায় বিজেপির রাহুল সিনহা। তাকে ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ ও ইট বৃষ্টি। অন‍্যদিকে অশোকনগরে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বামেদের ক‍্যাম্প অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

মালদায় হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে গঙ্গাপসাদ কলোনির ৩১ নম্বর বুথে ভোটারদের ভোট দানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলো কেন্ত্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। অন‍্যদিকে বসিরহাটের ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেখানে গিয়ে পৌছয় বিজেপি প্রার্থী শান্তনু বসু। বসিরহাটের মিনাখাঁয় মিনাখাঁ থানা এলাকার মালঞ্চর কালীতলা এলাকার ১৮৮–১৮৯ নম্বর বুথের ঘটনা।প্রতিবাদে সেখানে বিজেপির সমর্থকরা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। পরে পুলিশ ও কেন্ত্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জয়নগরে, বারাসাতে ও দমদমের একাধিক বুথে কেন্ত্রীয় বাহিনী ভোটার দেরকে সরাসরি বিজেপিকে ভোট দিতে বলে। যার জেরে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বারাসাতে তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে প্রকাশ‍্যে বচসায় জড়িয়ে পড়ে কেন্ত্রীয় বাহিনী। তার জেরে অশান্তি সৃষ্টি হয়। তৃণমূল কর্মী সমর্থকদেরকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে কামারহাটিতে। সেখানেও স্থানীয়দের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে সিআরপিএফ জওয়ানরা। ফলে অশান্তি সৃষ্টি হয়।

ডায়মন্ড হারবারের নুরপুর হাই মাদ্রাসায় যান্ত্রিকতার ক্রটি কারণে অশান্তির সৃষ্টি হয় । এবং সেখানে কেন্ত্রীয় লাঠিচার্জ শুরু করে বলে অভিযোগ। অনেককে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী অনুপম হাজরা অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরাও তাঁকেও বুথে যেতে বাধা দিয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ ওই এলাকার বিজেপির এক মন্ডল প্রেসিডেন্টের গাড়ি ভেঙেছে তৃণমূল। আবার বসিরহাটে অনেকেই ভোট দিতে পারেননি বলে দাবি করেন। রাস্তায় অবরোধ শুরু করেন তারা। শেষমেষ কমিশনের নির্দেশে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

পরিশেষে বলা যেতে পারে অশান্তির মধ‍্যে দিয়েই শেষ হচ্ছে বাংলার ভোট যুদ্ধ।