তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা: এককথায় রাজসূয় যজ্ঞ। বিশ্বের অন্যতম বড় গণতন্ত্র ভারত। ১১ এপ্রিল থেকে শুরু করে ১৯ মে। টানা ৬ সপ্তাহ ধরে লোকসভা নির্বাচনের বিশাল কর্মকাণ্ড চলবে। সমীক্ষা বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে ব্য়য়বহুল এই নির্বাচন। প্যান ইন্ডিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এই নির্বাচন চলে। তাই এর খরচের বহর ছাপিয়ে যায় আমেরিকাকেও। চোখ কপালে ওঠার জোগার!!

দিল্লি ভিত্তিক সেন্টার ফর মিডিয়া স্টাডিজ এর সমীক্ষা বলছে, এই নির্বাচনে খরচ হবে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৬ সালে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় খরচ হয়েছিল প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাহলে সমীক্ষা অনুযায়ী ভারত ছাপিয়ে যাচ্ছে আমেরিকার রেকর্ডও।

সবে লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে। ৬ সপ্তাহ ধরে এই বৃহৎ কর্মকাণ্ড চলবে। উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে কেরালা, তামিলনাডু। একদিকে থর মরুভূমি থেকে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য। প্যান ইন্ডিয়ায় ভোটের মরসুম। এই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভোট হয় দীর্ঘ সময় ধরে। এই কারণে খরচের এই বহর। প্রাথমিকভাবে এমনটাই মনে করা হয়।

সিএমএসের সমীক্ষা বলছে, ২০১৪ সালের চেয়ে এবারে খরচের বহর এক ধাক্কায় ৪০ শতাংশ বাড়বে। সেন্টার অফ মিডিয়া স্টাডিজের চেয়ারম্যান এন ভাস্করা রাও বলেন, মূলত সোশ্যাল মিডিয়া, প্রচারের লক্ষ্য ভ্রমণ ও বিজ্ঞাপনে এই বিপুল খরচ হয়।

এত বিশাল আয়োজন!

————————–

প্রায় ৯০ কোটি ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং এজন্য ভোট কেন্দ্র থাকবে দশ লাখেরও বেশি। ভারতের ভোটার সংখ্যা যৌথভাবে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার বেশি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ৬৬% ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। এবং ৪৬৪টি দলের ৮ হাজার ২৫০ প্রার্থী সে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

দীর্ঘ সময়

————-

এবার ভোট হবে ১১,১৮,২৩ ও ২৯ এপ্রিল এবং ৬,১২ ও ১৯শে মে।পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে ৭ দফায়। বেশ কিছু রাজ্যে ভোট হয়ে থাকে কয়েক ধাপে।

ভারতের প্রথম নির্বাচন হয়েছিল ১৯৫১-৫২ সালে এবং সেটি শেষ করতে সময় লেগেছিল তিন মাস। ১৯৬২ থেকে ৮৯ সালের মধ্যে নির্বাচনগুলোতে সময় লেগেছিল ৪-১০দিন। সবচেয়ে কম চারদিন সময় লেগেছিল ১৯৮০ সালের নির্বাচনে। বর্তমানে এত দীর্ঘদিন ধরে ভোট হওয়ার কারণে নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয়ে খরচ এত বিপুল, যা দেখে মাথা ঘুরে যাওয়ার জোগার।

আয়ের উৎস

—————

ভারতের নির্বাচনের অংশ নেওয়া দলগুলোকে তাদের আয়ের উৎস প্রকাশ করতে হয়।

গত বছর মোদী সরকার নির্বাচনী বন্ড ছাড়ে যা ব্যবসায়ী ও অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রেখে চাঁদা দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

দাতারা ইতোমধ্যেই ১৫০ মিলিয়ন ডলার এই বন্ডের মাধ্যমে দিয়েছে এবং খবর অনুযায়ী এর সিংহভাগই গেছে বিজেপির কাছে।

গত নির্বাচনে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। সারা দেশ প্রত্যক্ষ করেছে মোদী হাওয়ার দমক। এবার বিরোধীরা এককাট্টা হয়ে মোদীকে সরাতে মরিয়া। জোট কতটা রূপ পাবে, তা সময়ই বলবে। তবে বিরোধী নেতা নেত্রীরা বারবার বলছেন, মোদীকে হটানোই একমাত্র লক্ষ্য। এই অবস্থায় ক্ষমতা ধরে রাখা মোদী-শাহদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন ইস্যু সামনে এলেও, অর্থনীতির দিকটি কিন্তু বেশি করে ফোকাসে আসছে।

মোদী সরকারের সময়ে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি কিছুটা গতি হারিয়েছে। শস্যের দাম পড়ে যাওয়ার ঘটনা কৃষকদের দারুণ ক্ষুব্ধ করেছে। নোট বাতিল থেকে বিশাল কর সংস্কার ব্যবস্থায় নানা মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিরোধীরাও একে হাতিয়ার করতে ছাড়ছে না। ভাটা এসেছে রপ্তানি আয়েও। তাই বেড়েছে বেকারত্ব।কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ঋণের দায়ে ডুবতে বসেছে।

নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, অর্থনীতিতে সংস্কারের কাজ চলছে। যদিও এই নির্বাচনেই প্রমাণ হবে যে সেটি করার সময় তিনি আর পাবেন কি-না।