তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা: সার্জিক্যাল স্ট্রাইক থেকে বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক। সন্ত্রাসবিরোধী স্লোগানকে হাতিয়ার করে ২০১৯ এর ভোটে লড়তে নেমেছেন নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর ব্রিগেড। এই অবস্থায় সন্ত্রাসবাদে প্রত্যক্ষভাবে অভিযুক্তকে কী করে প্রার্থী করল বিজেপি। শুধু তাই নয়, আসরে নেমেই সাধ্বী প্রজ্ঞা দাবি করেন, তাঁর অভিশাপে হেমন্ত কারকারের মৃত্যু হয়েছে। কোন ক্ষমতাবলে হেমন্তকে অভিশাপ দিতে পারেন সাধ্বী? একজন শহিদকে নিয়ে কীভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন একজন প্রার্থী?

বিজেপি আগেই দায় ঝেড়ে ফেলেছে। সাধ্বীকেও ঠেলায় পড়ে ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু তাঁর ধৃষ্টতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠবে, তা বলাই বাহুল্য। প্রথম প্রশ্ন তাঁকে প্রার্থী করা নিয়ে।

২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা। এই মুহূর্তে জামিনে মুক্ত রয়েছেন তিনি। হিন্দুত্বকে মূলধন করতে ভোপালে কোন ধর্মযুদ্ধে নামল বিজেপি?

সংবাদমাধ্যমে সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন, ‘‘ধর্মযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আমি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব এবং জিতবও।’’

২০০৮ সালে ইউপিএ জমানায়, মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে গ্রেফতার হন সাধ্বী প্রজ্ঞা। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালানোর ঘটনাকে সেই সময় ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’বলে চিহ্নিত করা হয়। অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে, যা নিয়ে পরবর্তীকালে একাধিকবার বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ। তার পাল্টা হিসাবে আবার দিগ্বিজয়কে হিন্দু বিরোধী বলে আক্রমণ করেন গেরুয়াপন্থীরা। তবে সাধ্বী প্রজ্ঞাকে প্রার্থী করে বিজেপি কতটা লাভবান হবে, তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেছন, সমস্ত অভিযোগ থেকে এখনও অব্যাহতি পাননি সাধ্বী প্রজ্ঞা। ২০১৭-র ডিসেম্বরে তাঁকে মহারাষ্ট্র সংগঠিত অপরাধ আইন (মকোকা) থেকে রেহাই দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র বিশেষ আদালত। তবে সন্ত্রাস দমন এবং ইউএপিএ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

প্রশ্ন উঠছে সাধ্বী প্রজ্ঞার ধৃষ্টতা নিয়ে। তিনি ভোটে দাঁড়িয়েছেন। তিনি দেশের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক উৎসবে শামিল। তারপরও নিজের বক্তব্য নিয়ে মাত্রা জ্ঞান নেই! হেমন্ত কারকারে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। এই অবস্থায় সাধ্বী প্রজ্ঞার দাবি অবান্তরই নয়, মাত্রাজ্ঞানহীনও বটে।

২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে মোট ৭ অভিযুক্তের মধ্যে প্রজ্ঞার নামও যুক্ত হয়। সাধ্বীর অভিযোগ, মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ এলেও তাঁকে ছাড়তে রাজি হননি তদন্তের নেতৃত্বে থাকা কারকারে। তাঁর দাবি, যেনতেন প্রকারে তাঁকে সন্ত্রাসবাদী সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন কারকারে।
সাধ্বী বলেন, সেই সময় এটিএস প্রধানকে তিনি নাকি অভিশাপ দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, ‘তোর সর্বনাশ হবে।’ এর কয়েক দিন পরেই মুম্বইয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় গুলি লেগে নিহত হন হেমন্ত কারকারে। সাধ্বীর দাবি, তাঁর অভিশাপেই এটিএস প্রধানের অকালমৃত্যু ঘটেছিল।

কাউকে অভিশাপ দিয়ে মেরেফেলার দৈব ক্ষমতা রাখেন সাধ্বী? এই যুক্তি হাস্যকর নয়, সর্বনাশাও বটে।

দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন কারকারে। সন্ত্রাসবাদীদের মোকাবিলা করতে গিয়ে শহিদ হয়েছেন। আর সন্ত্রাসে অভিযুক্ত প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। তিনি আভিশাপ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন! তিনিই আবার প্রার্থী! কে বেশি দেশপ্রেমী- কারকারে না প্রজ্ঞা? এর উত্তর খুঁজতে কোনো বিচারকের দরকার হবে না। সাধারণ বুদ্ধিই যথেষ্ট।