মোহাঃ আজাহারউদ্দিন, টিডিএন বাংলা : একাবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকেও যদি মানুষকে বোকা বানানোর দিবস পালন করতে তাহলে তো বিশ্বায়নের সুফল এখনও অধরা। আসলে পৃথিবীতে বিশ্বায়ন নামক যে বস্তুর জন্ম হয়েছে তা সার্বজনীনতাকে স্বীকার করা হয়নি। এতে রয়েছে পুঁজিপতি শ্রেণীর লুন্ঠনের উৎস । এই মতবাদ এখনও প্রান্তিক মানুষকে লড়াইয়ের ময়দানে দাঁড় করিয়ে রাখে।এপ্রিলফুল মুলত ইউরোপিয়ানদের উৎসব কিন্ত ওরিয়েন্টদের এই উৎসব নিজের জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলো না তারা প্রাণপণ চেষ্টা করে তাদের সংস্কৃতিকে খুব সহজে সুক্ষভাবে সমগ্রদুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া। আর সহজেই যাতে সেই সংস্কৃতির বিশ্বাসযোগ্যতা আসে তার নানাকৌশলের ফাঁদ তাদের কাছে মজুদ থাকে।

আসা যাক প্রকৃত ইতিহাসের দিকে। এপ্রিলফুল নিয়ে নানামুনির নানা মত রয়েছে। কিন্ত আমাদের সত্য ইতিহাসককে জাতির সম্মুখে উন্মোচন করতে হবে।ইতিহাসেও বিতর্ক আছে, থাকবে। তবে বিতর্ক যায় থাক বোকা দিবস পালনের কি গুরুত্ব আছে?আসলে পেছেনে আছে এক লোমহর্ষক ইতিহাস। সেই ইতিহাসে স্মৃতির মনিকোঠায় অক্ষরে অক্ষরে জড়িয়ে আছে নৃশংস ইতিহাস। যা নতুন করে পাঠ দরকার, এবং সেই থেকে শিক্ষা নেওয়া দরকার। যুগে যুগে সত্য ইতিহাসকে ঢাকা দেওয়ার জন্য মিথ্যা ইতিহাসের অবতাড়না করা হয়েছে।নিষ্পেষিত জাতির ইতিহাসকে সত্যতার কালিতে বাঁচয়ে রাখতে হবে। মিথ্যা ও বিষাক্ত ইতিহাস জাতির হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে হবে।

ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে শুরু করে পৃথিবীর সমস্ত ইতিহাসের পেছনে রয়েছে আরাক অজানা ইতিহাস। তাই ইতিহাসকে ইতিহাসের মতো পাঠ করতে হয়। ইতিহাসকে বিকৃত করে একুশ শতকের দুনিয়ায় যেভাবে ইতিহাসের চরিত্র হনন করা হয়েছে তাতে আগামীতে সত্য ইতিহাস বলে কিছু থাকবেনা। শাসকের ইতিহাসই হবে শেষ ইতিহাস। আর বিপ্লবীর শাসকের রক্ত চক্ষু সহ্য করে তাদের অস্তিত্ব টুকু টিকিয়ে রাখবে।

মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস তাদেরকে আবারো বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হওয়ার প্রেরণা যোগায়। মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস-ঐতিহ্যে সর্বকালের সেরা জাতি হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষীরা মুসলমানদের জগৎজোড়া সকল যশ-খ্যাতিকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য কালে কালে নানা চক্রান্ত করতে সদাব্যস্ত তাদের সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল অনেক আগেই।

মুসলমানদের ওপর গ্রানাডার সে লোমহর্ষক ঘটনার ধারাবহিকতা এখনো ঘটে চলছে পৃথিবীর দিকে দিকে। জাতি সেই ঘটনা থেকেই শিক্ষা গ্রহন করতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতির নিজস্ব চেষ্টা ছাড়া কোন জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন হয়না। দূরদর্শী পরিকল্পনা ও অবিরাম লক্ষ্য অর্জনে চেষ্টার ব্যত্যয় ঘটায় ইসলাম বিরোধীদের আক্রমনের তীব্রতা যেন বেড়েই চলছে। গ্রানাডা ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তির যাতাকলে মুসলমান সম্প্রদায়কে অন্যায় নিষ্পেষিত হতে হয়।এর পরও শোককে শক্তিতে পরিণত করে দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে যেকোনো জাতিএগিয়ে গেলে নিঃসন্দেহে একদিন সুদিন ফিরে আসবেই।এবং মজলুম জাতি মুক্তি পাবে।

ইসলামের কালজয়ী আদর্শ বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল হজরত মহাম্মদ (সঃ) এর সময় থেকেই। কালের পরিক্রমায় সে আলোর ঢেউ ইউরোপের মাটিতেও এসেছিল। উমাইয়া সালতানাতের বীর সেনাপতি তারেক বিন যিয়াদের নেতৃত্বে স্পেনের মাটিতে ইসলামের পতাকা উড়তে শুরু করে অষ্টম শতাব্দীর শেষের দিকে। ১৪৯২ সালের আগ পর্যন্ত প্রায় আটশত বছর ধরে স্পেনে মুসলমানদের স্বর্ণযুগ ছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, চিকিৎসা, রাজনীতি, স্থাপত্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সে সময়কালে স্পেনই ছিল একমাত্র স্পেনের উদাহারণ। মুসলমানদের এমন উন্নতি খৃষ্টানরা মোটেও পছন্দ করতেন না। মুসলমানদের অভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টি করে ঐক্যকে তছনছ করার জন্য খৃষ্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ড এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ তৈরি করেছিল।

মহাম্মদ(সা:) যুগে যেভাবে মুনাফিক সরদার আবদুল্লাহ ইবনে উবাই মুসলমানদের কাতারে থেকে মুসলমানদেরই ক্ষতি করত, তেমনি আবু দাউদ নামক গাদ্দার স্পেনের গ্রানাডার শেষ সুলতান আবুল হাসানের ছত্রছায়ায় থেকে খৃষ্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ডের স্পেন ধ্বংসের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখলো। তার রাজ্যের আরো কিছু ক্ষমতালোভী ব্যক্তিবর্গ। সে হত্যাযজ্ঞের মিশনকে পাকাপোক্ত করতে পার্শ্ববর্তী দেশের রানী ইসবেলাকে হাত করতে ফার্ডিন্যান্ড তাকে বিয়ে করে। এরপর ষড়যন্ত্রের বীজ বুনিত হল সারা স্পেনে। মুসলিম নেতৃবৃন্দের অন্তঃকোন্দোলে যখন এমনিতেই অবস্থা বিপর্যস্ত, ঠিক সে সময়ই ফার্ডিন্যান্ড হামলে পড়ল মুসলমানদের উপর। ইতিহাস বলে সে অভিযানে মুসলমানদের খুনের দরিয়া বয়ে গিয়েছিল স্পেনের চারদিকে। নেতৃত্বহীন মুসলমানরা জীবন বাঁচানোর জন্য যখন দিশেহারা, ঠিক তখন ফার্ডিন্যান্ড এর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হলো- যারা মসজিদে ও জাহাজে আশ্রয় নিবে, শুধু তারাই রেহাই পাবে। খৃষ্টানদের ছলনাময়ী প্রস্তাবে রাজী হয়ে সবাই মসজিদে ও জাহাজে আশ্রয় নিল।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যারা মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিল তাদেরকে তালাবদ্ধ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে এবং জাহাজে আশ্রিতদের সাগরে ডুবিয়ে করুণ মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিল। আশ্রিতদের একটি বড় অংশ ছিল শিশু-বৃদ্ধ, অসুস্থ ও অসহায়। আগুনে পুড়ে লাখো বনীআদম যখন প্রাণ হারাচ্ছিল, আর্তনাদেযখন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল, ঠিক তখন মানব ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকারী কুখ্যাত ঘাতক ফার্ডিন্যান্ড ও তার স্ত্রী রক্তচোষা ইসাবেলা আত্মতৃপ্তিতে বিকৃত অট্টহাসিতে মাতোয়ারা হয়ে বলতে থাকল- হায় এপ্রিল ফুল (এপ্রিলের বোকা)! এর পর পর সকল মসজিদে আযান বন্ধ হয়ে গেল। সবাইকে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহনে বাধ্য করা হল। ফজরের সময় যারা নামায পড়তে উঠত বা যে সকল ঘরে সে সময় বাতি দেখা যেতো, নামাজ পড়ার অভিযোগে তাদের করূণ মৃত্যু নিশ্চিত করা হতো।

মুসলমানেরা তাদের সেদিনের করুণ আর্তনাদের ইতিহাস ভুলে গেলেও খৃষ্টান সম্প্রদায় কিছু কুচক্রী মানুষ তাদের প্রতারণাকে স্বরণ করে রাখতে আজো সে দিনটিকে জমকালোভাবে জমিয়ে রেখেছে ‘এপ্রিল ফুল’ নাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে। আর সারা দুনিয়ার তরুণ-তরুণীরা নিজেদের পূর্বসূরীদের করুণ আর্তনাদের দিনকে পরস্পরকে ধোঁকায় ফেলে চরম মজায় লুটোপুটি খায়! সেলুকাস! সেই বোকাতত্ত্বে বিবেকবান মানুষরাও ধরাশায়ী। আগামী প্রজন্মের কাছে নিজেদের করুণ পরিণতির কথা অজানার তিমিরে ধামাচাপা রয়ে যাওয়া একটি জাতির জন্য কত দূর্ভাগ্যের তা বলে বা লিখে আদৌ ব্যক্ত করা কি সম্ভব? তা জানার ও অনুধাবন করার সুযোগ তৈরি করে দেয়ার দায়িত্ব মানবহৃতিষীদের।

শুধু গ্রানাডা ট্র্যাজেডি স্পেনের মুসলমানদের সোনালী দিনগুলোকে করুণ ইতিহাসের ফ্রেমে বন্দি করে রেখেছে তাই নয়, নানান সুক্ষ কায়দায় অভিন্ন লক্ষ্য হাসিলের হীন লক্ষে মুসলিম স্বর্ণযুগগুলোকে ইসলাম বিদ্বেষীরা প্রতিনিয়ত কফিন বন্দি করে চলছে। এইতো মাত্র কয়েক বছর আগে ইরাকে স্বৈরাচারী সাদ্দাম নিধনের ছুতোয় মুসলমানদের শতশত বছরের ঐতিহ্যের লীলাভূমিকে তারা ধুলোয় মিশিয়ে দিল। সাম্প্রতিক কালে মিশরের কথা কি বলার অপেক্ষা রাখে?

ইসলাম বিরোধী শক্তি তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সম্ভবনাময়ী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত করে রেখেছে। কখনো মুসলিম দেশের ভেতরে সংকট তৈরি করে, আবার কখনো পার্শ্বদেশ দ্বারা সংকট তৈরি করে। ইরান, তিউনিশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দিকেই এখন তাদের লোলুপ দৃষ্টি। এ সকল দেশের সম্পদ লুন্ঠন করতে পারলেই বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আর দ্বিতীয় কোন প্রতিদ্বন্দী থাকেনা।
খৃষ্টানরা ৮৯৮ হিঃ ১৪৯৩ সালের পয়লা এপ্রিলে ধোঁকা দিয়ে মুসলমানদের সলিল সমাধি ঘটিয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় পৃথিবীর নানাপ্রান্তে মুসলমানদেরকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্র এখনো অব্যহত রেখেছে ।

১৯৯৩ সালের এই দিনে ৫০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে খৃষ্টান সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা মিলিত হয়ে “হলি মেরী ফান্ড” গঠন করে। বৈঠক করে তারা এ সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা মুসলমানদেরকে কোথাও মাথা উঁচু করে দাড়াতে দিবে না। মুসলিম দেশে দেশে শুধু ঘটেই চলছে একের পর এক নির্মম ঘটনা। ব্রিটিশ কলোনাইজের সাবেক মন্ত্রী গ্লাসস্টোন এর একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, “মুসলমানদেরকে ধ্বংস করার দু’টি প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রথমত: তাদের কাছ থেকে কুরআন কেড়ে নিতে হবে, দ্বিতীয়ত: তারা যেন কুরআনের প্রতি ভালবাসা হারিয়ে ফেলে, সে কাজ করতে হবে কৌশলে; আর তা হবে কার্যকরী।

বছরের পর বছর মায়ানমারে মুসলমানদের গ্রানাডার আদলে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। হয়তোবা সময়ের পরিক্রমায় মায়ানমারও হবে আরেক স্পেন। মুসলমানদের নিধন করতে ইহুদী-খৃষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধরা নামে একটা কুচক্রী শ্রেনীএকজোট হয়ে কাজ করছে। মায়ানমারে শুধু নয়, একই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চলছে ফিলিস্থান, বসনিয়া, ইরাক, আফগানিস্থান, সিরিয়াসহ বিশ্বের নানা অঞ্চলে। আমাদের দেশও সে নারকীয় হত্যাকান্ড থেকে নিষ্কৃতি পায়নি।

যারা নিজেকে সসমাজকর্মী বা প্রতিবাদি মুখ বলে দাবি করছেন তারা কি এর বিরুদ্ধে কোন কর্মসূচী পালন করতে বা প্রতিবাদ করতে সক্ষম হয়েছেন মনে! ইসলাম বিরোধীরা ইসলামকে অ-আধুনিক, জঙ্গী, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী বলে নানা প্রকার বিকৃত প্রচারণা চালাচ্ছে। মুসলিম তরুণদের মস্তিকে পচন ধরাতে অশীল্লতা ছড়িয়ে দিতে সহজলভ্যভাবে বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার ফলে ইসলামের প্রতি তরুণদের আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে, দায়িত্ব ভুলে তারা নিজেদের ভোগবাদী চরিত্রে গঠন করে তুলছে।

বিস্মৃতির ইতিহাস আমাদের বিবেককে শুধু গ্রানাডা ট্র্যাজেডির দিন পয়লা এপ্রিলে ভাবিয়ে তুললেও আমরা কোন শিক্ষাই যেন গ্রহন করতে পারিনি। গ্রানাডা ট্র্যাজেডির পর মুসলমানদের ওপর আরো কত ট্র্যাজেডি বয়ে গেছে তার ইয়াত্তা নেই। ইহুদী-খৃষ্টান ও জায়নবাদীরা মুসলিম শক্তিকে নিধন করার জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক ট্র্যাজেডির জন্ম দিচ্ছে। মুসলমানদের দিয়ে মুসলমানদের হত্যা করে চলছে। এরপরও মুসলিম নেতৃবৃন্দ অজানা উদ্দেশ্যে ইসলাম বিদ্বেষীদের গোলামী করেই চলছে। তারা অন্যায়কে অন্যায় বলতে শিখেনি।

যে কোন সচেতন মানুষকে জিজ্ঞেস করলে অকপটে বলতে পারে- ইহুদী ও খৃষ্টান দুনিয়ার স্বার্থ রক্ষায় কারা নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে মুসলমানদের নেতৃত্ব কে দিচ্ছে, তা কেউ বলতে পারে না । যে যার মত করে অগোছালো, অপরিপক্ক পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। নিজেদের ভেতর নানা জাতের বিভেদে। ইসলাম বিদ্বেষীদের গোলামী করতে মুসলিম শাসকরা ব্যতিব্যস্ত। কৌশলের নামে নিজেদের আত্মপরিচয় জলাঞ্জলি দিয়েই যেন আত্মতৃপ্তির স্বাদ গ্রহন করছে।

এ সকল সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে যে কোন স্বাধীনতাকামী জনগোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী বানায়, আবার কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্বার্থ হাসিলের জন্য স্বাধীনতাকামী বা নিপীড়িত জনগোষ্ঠি হিসেবে দুনিয়ার কাছে উপস্থাপন করে। দুনিয়ার যত বড় বড় ঘটনা ঘটেছে সকল ঘটনাই তাদের পরিকল্পনা মাফিক এগিয়েছে। ৯/১১ এর ঘটনা দিয়ে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের এক নম্বর সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যে ঘটনার সাথে ইহুদী গোসঠীর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।

বর্তমানে সিরিয়াতে আসাদ বিরোধীদেরকে স্বাধীনতাকামী বলে আমেরিকার মিত্র শক্তিগুলো সার্বিক সহযোগিতা করছে, এ যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা। এখন কেউ জানেনা এর সমাধান কবে হবে। মিশরে হাজার হাজার গণতান্ত্রিকামি সমর্থককে ফাঁসিকাসঠে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে। সম্প্রতি প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকে বিচারের নামে অযৌক্তিকভাবে ফাঁসির রায় দিয়েছে। আমাদের দেশেও সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গিয়েছে। এরপরও কি আমাদের আত্মোপলদ্ধি হবে না!

গ্রানাডা এখন শুধুই ইতিহাস। মুসলমানদের অনুভূতি জাগ্রত করার এক ঐতিহাসিক ইমারত। এর নির্ভেজাল ইতিহাস ব্যাপকভাবে সর্বোত্রই ছড়িয়ে দিতে হবে। আমরা গ্রানাডা থেকে শিক্ষা নিতে পরিনি, শিক্ষা নিতে পারিনি আরো অনেক ঘটনার পর ঘটনার। এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। আমাদেরকে সৃস্টিকর্তার প্রতি আস্থাশীল হয়ে মজবুত কদমে এগিয়ে যেতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা আর ইসলাম বিদ্বেষীদের পাতানো ফাঁদে নিজেদের জলাঞ্জলি দিব না। এখন নিজের পায়ে নিজেরা দাঁড়িয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে হবে।

জনবল ও সম্পদে মুসলমানরা এখনো এগিয়ে আছে। তৈরি করতে হবে দক্ষ জনবল এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বে ইসলামের প্রজনীয়তাকে প্রমাণ করার সময় এসেছে, যে ইসলাম অন্ধকার আরবকে আলোকিত করেছিল আজকের যুগে ইসলাম প্রতিষ্টিত হলে সেই সম পেতো থাকবে। সমগ্র মানুষের কল্যানই মুলত ইসলামের আবির্ভাব। এপ্রিলফুলকে যারা শুধু প্রাঙ্ক হিসাবে দেখাতে চাইছে তাদের কিছু বইয়ের নমুনা দিলাম-
১.Bartolome de Las Cases, A Brief Account of the destruction of the indies, 1542(published in 1522) Last reprinted in January 1,2009, ch.iv, Spain and Queen Isabella, available at amazon) ২. George Benecroft, A review of Medieval Europe,Harvard University Press,1885,ch.7)
৩. Malcolm Cowley’s A History of Atlantic Slave Trade(1962),The Viking Press,NY;Aug,1967,3rd part edition, ch.4(pg.189-190)and ch.9(pg.305-309) ৪. দ্য স্পিরিট অব ইসলাম অ্যান্ড সারাসিল-সৈয়দ আমির আলি,সম্পাদনা মাসাউদ হাসয়ান, ৫. স্পেনের মুসলিম আর্তি-এমদাদ আলি, ৬.ইউরোপে ইসলাম -তালেবুল ইসলাম হাশেমী,অনুবাদ- আমীনুর রশীদ।

প্রকৃতপক্ষে সত্য ইতিহাসকে মুঝে ফেলার জন্য ইউরোপিয়ান ষড়যন্ত্রকারিরা এপ্রিলফুল নামে বোকা বানিয়ে মজা করার দিবস হিসাবে চালানো হচ্ছে। এখন বড় প্রয়োজন দেশ ও জাতিকে পথ বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সুষ্ঠ ও দূরদর্শী পরিকল্পনা । এমন নেতা প্রয়োজন যে নেতা শক্তিধর গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে না, যাদের মধ্যে উগ্রতা থাকবেনাভ যাদের উদ্দেশ্যই থাকবে নিপীড়িত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা।

দুনিয়ার কাছে তারা নিজেদের পদানত করবে না, বরং দুনিয়া দুষ্কৃতিরা তাদের কাছে পদনত হবে। আর এমন সুষ্ঠ দূরদর্শী সুবিন্যাস্ত পরিকল্পনা নিতে হবে যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপশক্তির সকল পরিকল্পনাকে উতখাত করে শান্তিকামী মানুষদের শ্রেষ্টত্বের আসন নিতে হবে। যার ফলে চলমান অশান্তির দাবানল নির্বাপিত হয়ে পৃথিবী বাসযোগ্য শান্তিভূমিতপ পরিণত হবে। যেখানে থাকবে না জুলুম, মজলুমের বুকফাটা আর্তনাদ। যেখানে সকল ধর্মমতের অধিকার হবে সুনিশ্চিত আর একাবিংশের শতাব্দী হবে শান্তির বসুন্ধরা।