বিশেষ প্রতিবেদন, টিডিএন বাংলা : অ্যালেপ্পোর যুদ্ধের শেষ নেই। একের পর এক বোমার আঘাতে বিধস্থ। বাতাসে বারুদের গন্ধ। গোলাগুলির শব্দে কেঁপে উঠছে চারপাশ। আকাশ পথে বিপদ। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির মতো যুদ্ধবিমান থেকে ধেয়ে আসছে বোমা। এটাই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার ছোট্ট শহর অ্যালেপ্পোর চেহারা। যেন এক বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে অ্যালেপ্পো !
শুরুটা ২০১২ সাল। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদকে অপসারণের দাবিতে অভিযান শুরু হয়। অ্যালেপ্পোর দখল নেয় বিদ্রোহীরা। সরকারের সাথে বিদ্রোহীদের লড়াইয়ে দমবন্ধ হয়ে যায় অ্যালেপ্পোর। বিদ্রোহীদের অত্যাচারের সীমা বেড়েই চলেছিলো।তা সাথে সেনা অভিযান। পদে পদে বিপদ। মাথার ওপর ছাদ নেই। নিজের শহরেই নিজেরাই অসহায়। খাবার নেই, জল নেই। ডাক্তার-ওষুধের তো কোনো কথায় নেই। মাঝে মধ্যে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি হলেও চুক্তি কেউ মানছে না। কদিন আগে প্রাণভয়ে লুকিয়ে থাকা মানুষগুলি মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলো। লড়াই শেষ।তাই সিদ্ধান্ত হলো অ্যালেপ্পোর সাধারণ মানুষদের উদ্ধার করা হবে। রাশিয়া এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই শর্তে রাজি হয় সিরিয়া সরকার। মুক্তির আশায় আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ তাদের নিজের শহরে ফিরতে শুরু করলো। বাস, ট্রেন, বোটে করে সবাই নিজ নিজ ভাঙা ঘরে ফিরতে শুরু করবে বুধবার। কিন্তু হায় বুধবারের ভোরে আবার অ্যালেপ্পোর অন্ধকার শুরু হলো। আকাশপথে ফের এলো যুদ্ধবিমান। লড়াই শুরু।
অ্যালেপ্পোর আশেপাশের গ্রাম থেকে আহতদের উদ্ধারের দাবি জানায় ইরান। বন্ধু দেশের সেই শর্ত পালন করতে গিয়ে ভেস্তে যায় সংঘর্ষ বিরতি। অ্যালেপ্পোয় আটকে পড়েন প্রায় দেড় লক্ষ নিরীহ মানুষ। উদ্ধার কাজ ভেস্তে যাওয়ায় একে অপরকে দায়ি করছে তুরস্ক-সিরিয়া। যদিও নতুন করে শান্তি আলোচনার আহবান জানিয়েছে চিন। শুরু হয়েছে কূটনৈতিক আলোচনা। কিন্তু তাতে কি ? মরছে তো সেই অসহায় মানুষই ?