মহ: আসিফ আহমেদ

মহ: আসিফ আহমেদ, টিডিএন বাংলা : কেউ ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে মানুষ খুন করে, কেউ ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে ধর্ষণ করে। মিল একটাই ধর্মকে ব্যাবহার করে অধর্ম করা। জয় শ্রীরাম বলতে বলতে ভগবানের ঘর ‘মন্দিরে’ যেভাবে আসিফাকে গণধর্ষণ করা হলো তাতে রামকেও কলঙ্কিত করা হলো। আর সেই সঙ্গে পবিত্র মন্দিরকে ‘অপবিত্র’ করা হলো।

ভারতবর্ষ এমনই যেখানে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে চলছে ধর্মীয় রাজনীতি। যেখানে রাজনীতির ধর্ম, ধর্মগ্রন্থকে হার মানায়। আর সেইসঙ্গে হার মানে মানুষও। ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তো বড় মানবিকতা।

অনেকে বলে মেয়েরা নাকি ছোটো ড্রেস পরলে এই ঘটনাটা বেশি ঘটে, তাহলে আসিফাতো ছোটো ড্রেস পরে ছিলনা, দিল্লির নির্ভয়া তো ছোটো ড্রেস পরে ছিলনা। তাহলে কেন এমন ঘটনা ঘটলো! যারা খারাপ কাজ করে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যারা এই খারাপ কাজ করে তারা নিশ্চয়ই নিজের মা-বোনকেও খারাপ চোখে দেখে। নারীরা তো নিজের মায়ের সমান।

প্রতিদিনের মতো আসিফা ঘোড়া নিয়ে বার হয়েছিল। আর সেখানেই তাঁর জীবনটা যে কালো অন্ধকারে ঘনিয়ে আসবে আন্দাজ করতে পারেনি ছোট্ট সাদা মনের শিশুটি। চিরদিনের মতো নিষ্পাপ মনের ছোট্ট শিশুকে পৃথিবী থেকে তুলে দিল মানুষরূপী নরপিচাসের দল। তাঁর শরীর ক্ষতবিক্ষত করে মানু্ষরূপী ওই পিশাচরা। দোষীরা তো শিশুটিকে তো যৌন পিপাসার ভোগবস্তু হিসাবে দেখেছিল। চরম সর্বনাশ করাই ছিল ধর্ষককারীদের লক্ষ্য ছিল। তাঁর ওপর করেছিল অকথ্য অ‌ত‍্যাচার করে। ঘটনার ভয়াবহতা এমনই যে আন্তর্জাতিক স্তরে পর্যন্ত শিউরে উঠেছেন গোটা দেশবাসীকে। নাড়িয়ে দিয়েছে জাতির বিবেক।

ঘটনার মূল অভিযুক্ত দু-জন পুলিশ।সমাজের শাসনভার যাঁদের হাতে, যাঁদেরকে মানুষ সমাজের রক্ষক হিসাবে মানেন, তাঁরাই যদি সমাজে নরপিশাচের কান্ড ঘটায়, তাহলে মানুষ কার ওপর সামাজিক আস্তা, বিশ্বাস রাখবেন।

দিল্লীর নির্ভয়া কাণ্ডের পর অবস্থা কিছু বদলায়নি। শুধু প্রতিশ্রুতি রয়ে গেল। আমাদের বিচারব্যবস্থা দুর্বল হয়ে রইল।বছরের পর বছর তো মামলা চলতে থাকলো। বার্তা তো বার্তা হিসেবে রয়ে গেল। তাহলে পরিস্থিতি বদলালো কোথায়? তাহলে কি আসিফা বানুর বেলা তাই হবে! তাই মানুষ বোধহয় বলছেন, অনেক হয়েছে। আর নয়। বিচার চাই। নির্ভয়ার যদি ফাঁসি হত, দেশের বাকি মেয়েরা হয়ত সুরক্ষিত থাকত।

তাহলে প্রশ্ন উঠছে কোথায় চলেছে আমাদের দেশ! আসিফার সঙ্গে যা হয়েছে তা মানবিকতার বিরুদ্ধে অপরাধ। একটি নিরপরাধ বাচ্চার ওপর অমানবিক বর্বরতা। তাহলে প্ৰশ্ন উঠছে নারীদের সুরক্ষা কোথায়? আর কত মানুষকে এইভাবে ধর্ষণের শিকার হতে হবে!

নিপাত যাক হিন্দু-মুসলিম, নিপাত যাক জাত-পাত, নিপাত যাক ধর্মীয় রাজনীতি, নিপাত যাক সরকার, নিপাত যাক তর্ক-বিতর্ক। যদি নির্ভয়া, কামদুনি ও আসিফারা যদি ন্যায়বিচার না পায় নিপাত যাক দেশও। এ ধর্ষণ দেশের লজ্জা, এ ধর্ষণ সারা হিন্দুস্তানবাসীর লজ্জা। বিচার না পেলে এ দেশ হয়তো লজ্জা থেকে মাথা তুলতে পারবেনা।