ছবি সংগৃহিত

টিডিএন বাংলা:

আপনার ১১ আগষ্ট দিনাঙ্কিত পত্র পেয়েছি। আপনার ওই একই দিনাঙ্কের চিঠি জবাহরলালও আমাকে পাঠিয়েছে।

RSS সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ে আপনি খুব ভালোভাবেই অবগত আছেন। গত ডিসেম্বরে জয়পুরে আর জানুয়ারি মাসে লক্ষ্ণৌতে আমি আমার মতামত ব্যক্ত করেছি। জনসাধারণ সেই মতকে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু আরএসএসের লোকজনের ওপর তা কোনও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হয়না, তাঁরা তাঁদের কর্মসূচীও বদলায়নি। আরএসএস যে হিন্দু সমাজের জন্য কাজ করছে তা নিয়ে শংসয় নাই। যেসব অঞ্চলে সহযোগিতা ও সংগঠনের প্রয়োজন সেসব ক্ষেত্রে আরএসএসের যুবরা শিশু ও নারীদের রক্ষা করেছে ও তাঁদের স্বার্থে কাজ করেছে। সুবিবেচক কোনও ব্যক্তিই তা নিয়ে অভিযোগ তুলবেনা। কিন্তু বিষয়টি তখনই আপত্তিকর হয়ে ওঠে যখন তাঁরা প্রতিহিংসায় উন্মত্ত হয়ে মুসলমানদের ওপর হামলা শুরু করে। হিন্দুদের সংগঠিত করা ও সাহায্য করা এক জিনিস, কিন্তু তাঁদের দুর্দশা দেখিয়ে অন্যান্য নিরিহ ও অসহায় নর-নারী-শিশুদের ওপর প্রতিশোধ নিতে ছুটে যাওয়া সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস।

তাছাড়া, কংগ্রেস সম্পর্কে তাঁদের বিরোধ, সেও এমন উগ্রতার সাথে, ব্যক্তিত্ব, সম্ভ্রমবোধ ও শালীনতার সমস্ত ধ্যানধারণার প্রতি তাঁদের অসম্মান জনসাধারণের মধ্যে একধরণের অস্থিরতা তৈরী করছে। তাদের সমস্ত ভাষণই সাম্প্রদায়িক বিষে ভরা। বিষ ছড়িয়ে উত্তেজিত করে হিন্দুদের সুরক্ষিত ও সংগঠিত করার কোনও প্রয়োজন নাই। এই বিষক্রিয়ার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবেই দেশকে আজ গান্ধিজির মত মহামূল্যবান জীবন হারানোর মূল্য চোকাতে হচ্ছে। আরএসএসের প্রতি সরকার ও জনসাধারণের আর এক বিন্দু সহমর্মিতাও অবশিষ্ট নাই। বরং বিরোধিতা জাগ্রত হয়েছে। বিরোধ তীব্রতর হয়েছে যখন গান্ধীজির মৃত্যুর পর আরএসএসের লোকজন উল্লাস প্রকাশ করেছে ও মিস্টি বিতরণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে আরএসএসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা সরকারের অবশ্য-কর্তব্য হয়ে ওঠে।

তখন থেকে ছয় মাসের অধিক অতিবাহিত হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম যে এই সময়ের মধ্যে যথাযথ ও পূর্ণ বিবেচনার মাধ্যমে আরএসএস সঠিক পথে আসবে। কিন্তু আমার কাছে যেসব রিপোর্ট আসে তা থেকে এটা পরিস্কার যে তাঁদের পুরনো কার্যকলাপকে নতুন করে উজ্জীবিত করার প্রচেষ্টাই তারা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি আরও একবার আপনাকে আমার জয়পুর ও লক্ষ্ণৌয়ের ভাষণ বিবেচনা করে দেখতে বলব ও সেখানে যে পথনির্দেশ আমি দিয়েছিলাম তা গ্রহণ করতে বলব। আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে তাতেই আরএসএস ও দেশের জন্য মঙ্গল নিহিত আছে। সেই পথে এগিয়েই আমরা দেশের অগ্রগতি অর্জনের জন্য হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে পারি। অবশ্য, আমরা যে খুব পলকা সময়ের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করছি তা আপনি জানেন। এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বা সবচেয়ে তলায় থাকা যে কোন ব্যক্তিরই দেশের কাজে, যেভাবে সম্ভব, কিছু ভূমিকা রাখা দরকার। এই স্পর্শকাতর সময়ে পুরনো শত্রুতা বা দলীয় দ্বন্দ্বকে একটুও প্রাধান্য দেয়া উচিৎ না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, কংগ্রেসে যোগ দিয়েই আরএসএসের লোকেরা তাঁদের দেশপ্রেমের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, আলাদা থেকে বা বিরোধিতা করে নয়। আমি আনন্দিত যে আপনি মুক্তি পেয়েছেন। আশা করি আমি যা বললাম সে বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছবেন। আপনার ওপর যে রেস্ট্রিকশন আরোপ করা হয়েছে সে বিষয়ে আমি সি.পি. গভমেন্টের সাথে বার্তা বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় আছি। তাঁদের উত্তর পাওয়ার পর আপনাকে জানাব।

ইতি
আপনার

স্বাক্ষর: বল্লভ ভাই প্যাটেল
আওরঙ্গজেব রোড, নয়া দিল্লী
১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮

Justice on Trial: Historic Document of Guruji-Government Correspondence, pp. 26-8;

(টিডিএন বাংলার জন্য ইংরেজী থেকে বাংলা অনুবাদ করেছেন মলয় তেওয়ারী। via Kractivist)

৩১ অক্টোবর ২০১৮ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্যাটেল মূর্তী উদ্বোধন করবেন। ঐদিন গুজরাটের আদিবাসীরা বন্ধের ডাক দিয়েছেন বিরোধিতায়। বহু আদিবাসীকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তথাকথিত এই ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ স্থাপন করতে। যেখানে অসংখ্য মানুষের ন্যুনতম জীবন ধারণের সংস্থানই নিশ্চিত করেনি সরকার সেখানে এই মূর্তী বসাতে খরছ করছে ২,৫০০ কোটি টাকা। হ্যাঁ, আড়াই হাজার কোটি টাকার মূর্তী। প্যাটেলেকেও অসম্মান করা হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদি আরএসএস প্রচারক। তাঁর বকলমে আরএসএস আজ দেশের ক্ষমতায়। এই সংগঠনটিকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন বল্লভ ভাই প্যাটেল, যখন তিনি হোম মিনিস্টার ছিলেন। নিষিদ্ধকরণের ছ মাস বাদে আরএসএসের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা গোলওয়ালকরের আবেদনের জবাবে এই চিঠিটি লেখেন তিনি। অনেকে দাবি করেন যে গান্ধী হত্যার পেছনে আরএসএস ছিলনা। কিন্তু প্যাটেল বা হোম মিনাস্ট্রির কাছে কোন তথ্য ছিল তা এই চিঠি থেকে বোঝা যাবে। আরএসএস সম্পর্কে প্যাটেল কী ধারণা পোষণ করতেন তাও এখান থেকে জানা যাবে।