মহম্মদ ঘোরী শাহ্ : সমগ্র ভারত জুড়ে গোরক্ষার উন্মাদনায় চিন্তাজনক ভাবে খুনোখুনি ঘটে চলছে। যত্রতত্র পরিস্থিতি উদ্বেকময় হয়ে পড়ছে। ঠিক এই সময়ই নাগরিক সাংবিধানিক বিধিকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ‘গো’ নিয়ে সাফল্য প্রদেয় রাজনৈতিক ইস্যুকে ত্বরান্বিত করতে সরকারি শীলমোহর সহযোগে একটি ভয়ংকর অর্থবিনাসী নির্দেশিকা জারি করল। এই নির্দেশিকার মূল বিষয় হল মাংশের উদ্দেশ্যে গোবাদি পশু কেনাবেচা যাবেনা। পরিচয় পত্র সহযোগে নিদিষ্ট আধিকারিকের নিকট গোবাদি পশু ক্রয়বিক্রয় মাংশ ভিত্তিক নয়, হলফ্নামা দিয়েই ক্রয়বিক্রয় করা যাবে।

প্রথমেই আসা যাক এই নির্দেশিকার ধর্মীয় ভিত্তির বিষয়ে। কোন ধর্মে কোন বিষয় বা বস্তুকে পবিত্র বলা হলে তা সেই ধর্মের লোকেদেরই মান্যযোগ্য। এই মান্যতা অপর ধর্মালম্বীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া, সেই ধর্মোও অনুমোদন দেয়না। আর সংবিধানও ধর্মগুলোর এই নীতির প্রতি কঠোর ভাবে সমর্থনশীল।

এই প্রসঙ্গে দ্বিতীয় বিষটি হল, বিশ্বসারণীতে ভারত উন্নয়ণশীল দেশ হলেও এখনো দেশের প্রায় সত্তর শতাংশ মানুষ মানুষ প্রত্যন্ত গ্রামে বাস করে যাদের আশি শতাংশ ভুমিহীন ও প্রান্তিক কৃষক। এদের সহায়ক জীবিকা এখনো পশুপালন, যদি পশুপালনে মাংশের চাহিদাকে নষ্ট করে দেওয়া হয় তাহলে গোবাদী পশুর বাজার মুল্য কমে যেতে পারে এবং এই শ্রেণির মানুষজনের আর্থিক বুনিয়াদ ধংশ হবে না কি ? এছাড়া ইতি মধ্যে মাংশ রপ্তানিকারক সংস্থা গুলো এই নির্দেশিকায় তাদের প্রভুত ক্ষতির আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে।

পরিশেষে এটাই বলাযায় যে, বিজেপি যে উন্মাদনার সুলভ রাজনীতি শুরু করেছিল এটা তারই ফসল। নিজের ধ্যানধারণাটাকে অন্যের উপর বলপূর্বক চাপিয়ে ক্ষমতা উৎপাদনের রাজনীতি যে ঐতিহ্যের পরিপন্থী তা ভারতবাসী দেখেও নিরব।