মিঠুন মাহাতো, টিডিএন বাংলা : যে জাতি নিজের ইতিহাস জানে না, সে জাতি নিজের ভবিষ‍্যৎ তৈরী করতে পারে না। তাই নিজের ইতিহাসকে জানুন।এই বৃহৎ ঝাড়খণ্ডে সবচেয়ে বেশি জনসংখ‍্যা আছে তা হল কুড়মিদের। আপনাদের জানার ইচ্ছা হয় না এত বড় জনসংখ‍্যা বিশিষ্ট জাতি আর দেশের স্বাধীনতা সংগ্ৰামে তার অবদান কী? আমি ছোট থেকে যে ইতিহাস পড়েছি তাতে কোথাও কোনোকিছু খুঁজে পায়নি। এই সমাজ আন্দোলন এর সাথে যুক্ত হয়ে এদিক ওদিক থেকে সঠিক খবর সংগ্ৰহ করলাম। আর দেখলাম আমার জাতির অবদান। সেই চূয়াড় বিদ্রোহ থেকে শুরু করে ভারত ছাড়ো আন্দোলন পর্যন্ত যতজন কুড়মি শহীদ হয়েছেন তার সঠিক হিসাব করা মুশকিল। তবু এখানে আমি তাদের অনেকের নাম বলব এবং তাদের কৃতিত্বের কথা লিখব।
এখনতো অনেকে সবাই জেনেই গেছেন ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্ৰামে দেশের প্রথম শহীদ রঘুনাথ মাহাতোর নাম। যিনি ঐতিহাসিক চূয়াড় বিদ্রোহের ধলভূমে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যাকে ব্রিটিশেরা গুলি করে হত‍্যা করেছিল। চূয়াড় বিদ্রোহের সময় রঘুনাথ মাহাতোর সহযোগী প্রসাদী মাহাত ধানবাদ জেলায় নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও চুড়ু মাহাত বেলিয়াপুর ধানবাদ জেলার  রঘুনাথ মাহাতোর সহকারী ছিলেন।এরপর আসি বুলি মাহাতোর কথায় যিনি গঙ্গা নারায়ণ সিং এর সাথে দ্বিতীয় চূয়াড় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন।এছাড়াও ঝগড়ু মাহাতো ছাড়াও অনেকে শহীদ হন। এরপর আসি নীল বিদ্রোহের ১৮৪৩-১৮৪৮ গোপাল মাহাতো নেতৃত্ব দেন। এরপর সাঁওতাল বিদ্রোহের সময় গড্ডা জেলায় চানকু মাহাতো নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও সিপাহী বিদ্রোহে সুকদেব মাহাত সহ এগারোজনের একসাথে ফাঁসি হয়।এছাড়াও উড়িষ‍্যার মেড়ি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বকা মাহাত, রজনী মাহাত, সুচাঁদ মাহাত, কালিচরণ মাহাত, গোপিনাথ মাহাত, কালিয়া মাহাত প্রমুখ অংশগ্ৰহণ করেন। এরপর কুড়মিরা অহিংস অসহযোগ আন্দোনেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্ৰহণ যোগ দেয়। এই আন্দোলনে পাঁচজন তরতাজা কুড়মি যুবক শহীদ হন। এরা হলেন গোকুল, মোহন, শীতল, সহদেব, গণেশ মাহাতোরা। এছাড়াও অনেকের তখন জেলও হয়। মহাত্মা গান্ধীর আইন অমান‍্য আন্দোলনের সময় হাজারিবাগ জেলে বন্দি হয়েছিলেন গিরীস মাহাতো, নানকু চন্দ্র মাহাতো, গোবিন্দ মাহাতো, দশরথ মাহাতো, চুনারাম, মথন মাহাতো প্রমুখেরা। এছাড়াও ভাগলপুর জেলে বন্দি হয়েছিলেন পদক মাহাতো। ১৯৪১সালে সত‍্যাগ্ৰহ করার জন‍্য সাগর মাহাত, ভজহরি মাহাত, ভীম মাহাত কারাবরণ করেন। এছাড়াও ১৯৪২ সালে সত‍্যকিঙ্কর মাহাতোকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় মানবাজার থেকে কারাবরণ করতে হয়। ১৯৪২ সালে মানবাজার থানা ঘেরাও করার সময় চুনারাম মাহাতো এবং গোবিন্দ মাহাত শহীদ হন। এছাড়াও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্ৰহণ করেছিলেন (ধানবাদ-পারবাসনিয়া)-এর জগদীশ মাহাত, এছাড়াও ঐ জেলারেই জগদীশ মাহাত সক্রিয় অংশগ্ৰহণ করেন।এছাড়াও আরো অনেকের অংশগ্ৰহণ আছে।

এই কুড়মি জাতি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেই সি এন টি আ্যক্ট আদায় করে নিয়েছিল এবং এস টি তালিকায় নামও ছিল কুড়মিদের। কিন্তু আজ স্বাধীনভারতে সি এন টি আ্যক্ট থাকা সত্বেও আইনের ফাঁকে কুড়মিদের জমি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আর ষড়যন্ত্র করে এস টি তালিকা থেকে হটিয়ে দিয়ে আজ বৃহৎ ঝাড়খণ্ডকেই বিহারী ইউ পি এবং বাঙালরা উপনিবেশ করে ফেলছে। তাই এত রক্ত ঝরিয়েও এখনো এ জাতি পরাধীন। তাই এ পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত করার জন‍্য সমগ্ৰ বন্ধুদের অনুরোধ করব, সবাই লড়ুন।