টিডিএন বাংলার দপ্তরে পাঠানো বীরভূম জেলার সরকারি কর্মীর সেই চিঠিটি এখানে তুলে ধরা হল-

“হ্যাঁ স্যার,
সবার জীবন ও জীবিকার সংস্থান জরুরি
কিন্তু একবার…..
কেবলমাত্র সংখ্যালঘু দের নিয়ে এই পোস্টটির লিন্ঙ্ক শেয়ার করার যথেষ্ট কারণ নেই কী ……..?
কথায় কথায় সংখ্যালঘুদের জন্য কল্পতরুটির মুখ আর মুখোশ টাও তুলে ধরাও উচিত …..
আসলে সংখ্যালঘু উন্নয়নতো উদ্দেশ্য নয়। মাথায় হাত বুলিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়া টাই হচ্ছে এদের আসল উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে ঘোমটা মাথায় দোয়াতে(প্রার্থনা) হাজির, তাও আবার মিডিয়া সঙ্গে নিয়ে।
এতে অমুসলিমরা ভাবছে সরকার বুঝি মুসলিম সমাজ এর জন্য সব কিছু করছে, অন্য কারো জন্য কিছুই করছেন না।
এ ভাবে সম্প্রদায়ের মধ্যে মানুষে মানুষে তৈরি হচ্ছে বিদ্বেষের বিভেদ।
খুব ভালো ভাবেই যার সুবিধা নিচ্ছে চরম সাম্প্রদায়িক রাজনীতিক ও তাদের দোসররা । পান থেকে চুন খসলেই রাজ্য ছাড়িয়ে সমগ্র দেশে জাতিগত সহিংসতা উত্তরোত্তর বাড়ছে।
সরকারে আসে সরকার যায়, রাজনীতির পসারিরা এদের প্রতি সম ব্যবহার না করে ভোটের ফন্দি এঁটে আলাদা করে রাখে।
যাদের নিয়ে এই খেলা তাদেরকেও এটা দেখানো উচিত নয় কী?
মানুষের মত পথ আলাদা হলেও সবার ওপরে তারা আমাদেরই সহ নাগরিক। স্বাধীনোত্তর পর্বে কমিশনের ওপর কমিশন(সাচার ইত্যাদি.)হয়, কোন ইমপ্লিমেইন্টেশন নেই। তফসিলি জাতিদের সাথেও এরা প্রান্তিক থেকে আরও প্রান্তিক হওয়ার পথে অগ্রগামী। তাই সবার সাথে মুসলিমদেরই  নিজেদের আলাদা করে ক্ষুন্নিবৃত্তির কথা বলতে হচ্ছে।
‘বাচ্চা কাদঁলেও মা’ র অবহেলা নির্লজ্জতার সঙ্গে প্রকাশিত। এতকাল পাশাপাশি বসবাস করেও কেন নিজেদের এত অচেনা, অজানা লাগে । রাজনীতির সংখ্যালঘু-গুরু র তত্ত্বে বিশ্বাস করি বা নাই করি, তবুও এর দায় কি কেউ অস্বীকার করতে পারি।
জীবনের বিশ্বাস ভিন্ন হলেই কি….. কাছাকাছি আসতে থাকতে নেই, তাদের কথা বলতে বলতে নেই?
‘সবার’ মধ্যে মুসলিমরাও সমাজের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। তাদের অভাব অভিযোগের কথা না বলা মানে কি তাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা নয়?
আর তাদের কথা বলা যদি সংকীর্ণতা হয়, তেমনি তাদের কথা না ভাবাটাও স্বজ্ঞানে তাদের অস্তিত্বের অস্বীকার।
আর তারা নিজেরাই যদি তাদের কথা না তুলে ধরে,
তবে তো
“…. গোঁফ তার কামানো, মাথা তার ন্যাড়া, ছুঁচলো তার……” এই লেখচিত্র বদলাবার নয়।”

(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)