মোকতার হোসেন মন্ডল, টিডিএন বাংলা : ‘তৃণমূলের ৮ বছরের শাসনে মাত্র দেড় শতাংশ মুসলিম চাকরি পেয়েছে। মমতার শাসনেও বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা।’ কথাগুলো বলেছেন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

আমরাতো সেই ৬ বছর থেকে বলছি, বাম আমলের মতো তৃণমূল আমলে বঞ্চনা চলছে। কিন্তু তৃণমূল সরকার মানতে চাইনি। আর বিজেপি, আরএসএস, বজরং দল প্রচার করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার ‘মুসলিম তোষণ’ করছে। দিলীপ ঘোষ আজ স্বীকার করলেন এই নিরীহ জাতির জন্য কেউ কিছু করেনি। তাহলে বিজেপি ‘মুসলিম তোষণে’র গল্প ফেঁদেছিল কেন? একটা বঞ্চিত জাতিকে নিয়ে এই ছিনিমিনি খেললেল কেন?

তৃণমূলের দল দাস মুসলিম নেতা, মাওলানা, ইমামরা এই বঞ্চনা দেখতে পায়না। যেমনটা সিপিআইএমের সময় জ্যোতি, বুদ্ধ প্রেমী মুসলিমরা বঞ্চনার কথা স্বীকার করতো না। সাচার কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের পর কিছুটা স্বীকার করেছে।

আজ সংরক্ষণ থাকা সত্ত্বেও মুসলিমদের চাকরিতে এই করুন অবস্থা কেন? উন্নয়ন না করে উন্নয়ন হয়েছে বলে চেঁচালে বিজেপির লাভ সেটা পাগলে জানলেও তৃণমূল সরকার জানার চেষ্টা করেনা। আর বিজেপি মুসলিম তোষণের মিথ্যা গল্প ফেঁদে রাজনীতি করলেও কেউ তথ্য নিয়ে পাল্টা বিবৃতি দেয়না। ফলে অসহায়, দিশাহীন জাতির যুবকরা হতাশ হয়ে পড়ে। ইচ্ছা করেই সব রাজনৈতিক দল এমনটা করে।

নোবেলজয়ী অর্থনীবিদ অমর্ত্য সেনের সংস্থা যখন রিপোর্ট প্রকাশ করে প্রমাণ করলো যে উন্নয়ন হয়নি তখন তৃণমূল নেতারা স্বীকার করেনি। সিপিআইএম, কংগ্রেসও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের বাইরের মিল্লাত দরদী কোনও মুসলিম সংগঠন এই বিষয়ে আন্দোলন করেনি। কেন অধিকার নিয়ে আন্দোলন হয়নি? পাছে নাকি বিজেপি চলে আসে! আশ্চর্য সব ধারণা। সাংবিধানিক অধিকার থেকে একটি জাতিকে বঞ্চিত করে রাখলে তা নিয়ে কথা বললে বিজেপি চলে আসবে? আদৌ এইসব মুসলিম নেতারা সমাজটাকে ভালোবাসেতো? এইসব সংগঠনের কাছে মুসলিমদের চাকরি, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন নিয়ে কোনও রিপোর্ট আছেতো? আমি মনে করি মুসলিম নেতাদের এই এড়িয়ে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গির জন্যই সমাজের লোকেরা বিভিন্ন সময় তাদের নির্দেশ মানেনা। মুসলিমরা এখন ইচ্ছেমতো যে যা খুশি করছে। নেতৃত্বহীন সমাজে এটা হওয়া স্বাভাবিক। স্বাধীনতার পর কোনও মূলধারার মুসলিম সংগঠন বাংলার দলিত, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের আর্থ সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থার উপর গবেষণাধর্মী রিপোর্ট বের করেছে? কোনও মুসলিম ছাত্র সংগঠন করেছে? যা রিপোর্ট হয়েছে তা ব্যাক্তিগত উদ্যোগে। তাহলে এই সমাজটাকে সঠিক দিশা দেখাবে কে?

বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ভোটের সময় মুসলিম প্রেম দেখাচ্ছেন। মূলত মুসলিম ভোট ভাগ করা তাঁর উদ্দেশ্য। কিন্তু মুসলিম বঞ্চনা নিয়ে দিলীপ ঘোষ যে কথাগুলি বললেন তা কি সত্য নয়? আজ একটি সাম্প্রদায়িক দলের সভাপতি যদি ভোটের স্বার্থে মুসলিম বঞ্চনা নিয়ে কথা বলতে পারেন তবে নিজেদের সেকুলার বলে প্রচার করা নেতারা সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নীরব কেন? মনে রাখবেন ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু মুসলিমকে বঞ্চিত করে নোংরা রাজনীতি হতে পারে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আর একটা কথা বলে রাখি, এই বঞ্চনার মাঝেও যুবকরা মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। মজলুম মানুষের সাথে কেউ না থাকলেও আল্লাহ থাকেন। আমরা সাহস হারায়নি। আমাদের অতীত ইতিহাসকে সামনে রেখে খেয়ে না খেয়ে এদেশের উন্নয়ন, মিল্লাতের উন্নয়ন নিয়ে আমাদের নবীন প্রজন্ম ভাবছে। যুগের প্রয়োজনে মুসলিম সমাজে একটা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় তৈরি হচ্ছে। তারা সমাজ নিয়ে কাজ করছেন। আগামী দিন বাংলার মুসলিম যুবকরা স্বাধীনতা, সাম্য ও সুবিচারের দাবি নিয়ে দেশকে নেতৃত্ব দেবে ইনশাআল্লাহ।

(লেখক একজন সাংবাদিক ও কবি। তাঁর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া)