টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দুটি হিন্দুত্ব। একটি ভারতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্যের হিন্দুত্ব, আরেকটি বিজেপি ও আরএসএসের হিন্দুত্ব। যেটাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির তৈরি করা একটা ‘নতুন ধৰ্ম’ বলে উল্লেখ করেছেন। বিজেপির এই ধর্মের সাথে হিন্দু ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই বলে তিনি একাধিকবার মন্তব্য করেছেন।
রামকৃষ্ণ, শ্রী চৈতন্যদেব, বিবেকানন্দের দর্শনকে তৃণমূল নেত্রী যতটা আঁকড়ে ধরেছেন তা দেখা যায়নি বিজেপির ক্ষেত্রে।
আসলে রামকৃষ্ণের ধর্মচিন্তা শুধু হিন্দুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর আদর্শ ভারতের হিন্দুদের এক নতুন দিশা দেখিয়েছে।
বিভিন্ন ঘটনা পরম্পরার প্রেক্ষিতে ভারতে অসহিষ্ণুতা জন্ম নিয়েছে। সম্প্রতি পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মীরিদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। গোটা দেশ জানে, আরএসএসের ঘারানায় বেড়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাই ভোট আসতেই ইদানিং বেশ করে হিন্দুত্বের জিগির চলছে। উন্নয়নের দায়বদ্ধতার কথা মোদী ব্রিগেডের মুখে শোনা গেলেও তাঁরা যে হিন্দুত্ব লাইন ছাড়তে পারেননি, তা বলাই য়ায়। তাই রথ, সাধু-সন্ত, ঢাল-ঢোল, করতাল এসবই কার্যত তাদের কাছে হিন্দুত্বের স্মারক হয়ে উঠেছে।

কিন্তু হিন্দুরা যেভাবে সম্প্রীতি, ঐক্যের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে তা বিজেপি ও আরএসএস, বজরং দলের হিন্দুত্বকে দেখে বোঝা যায়না।

শুক্রবার ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের ১৮৪তম জন্মজয়ন্তী পালন হল। এই উপলক্ষে সকাল থেকেই তাঁর জন্মভিটে হুগলীর কামারপুকুর, বেলুড়মঠ-সহ একাধিক জায়গায় একাধিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয় দিনটি। বেদপাঠ, প্রার্থণা, স্তবগান, ভজন, সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জন্মজয়ন্তী। সবশেষে একটা কথা বলা দরকার, তিনি জীব প্রেমের মাধ্যমে ঈশ্বর সেবার কথা বলতেন। আজ তাঁর আদর্শ, তাঁর পথ বেশি করে অনুসরণের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বিজেপি কি সেই পথে যাবে?
রামকৃষ্ণ পরমহংস গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গের এক দরিদ্র বৈষ্ণব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দক্ষিণেশ্বরের কালীবাড়িতে পৌরোহিত্য গ্রহণের পর বঙ্গীয় তথা ভারতীয় শক্তিবাদের প্রভাবে তিনি কালীর আরাধনা শুরু করেন।[ পরবর্তীকালে অদ্বৈত বেদান্ত মতে সাধনা করে নির্বিকল্প সমাধি লাভ করেন রামকৃষ্ণ। অন্যান্য ধর্মীয় মতে, বিশেষত ইসলাম ও খ্রিস্টীয় মতে সাধনা তাঁকে “যত মত, তত পথ” উপলব্ধির জগতে উন্নীত করে।
১৮৬৬ সালে সুফিমতে সাধনাকারী হিন্দু গুরু গোবিন্দ রায়ের কাছে ইসলাম ধর্মতত্ত্ব শিক্ষা করেন শ্রীরামকৃষ্ণ। তিনি বলেছেন, ঐ সময়ে আল্লা’মন্ত্র জপ করিতাম, মুসলমানদিগের ন্যায় কাছা খুলিয়া কাপড় পরিতাম; ত্রিসন্ধ্যা নমাজ পড়িতাম।
আজকের দিনে রাজনীতির কারবারিরা একটা ধৰ্ম তৈরি করেছেন, সেই ধর্মের নামে রাজনৈতিক ধৰ্ম। কিন্তু ক্ষমতায় আসতে বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন ঢঙে তাদের দেখা মেলে। কিন্তু এদেশের হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী রাজনৈতিক দলগুলি কি রামকৃষ্ণের পথে যাবে ? ভারত কি দারিদ্র্যতা, ক্ষুধা, বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাবে? সবার বসবাসের একটা জায়গা কি রাষ্ট্র করে দেবে? আগামী প্রজন্ম কিন্তু একটা শান্তিকামী, বিভেদহীন ভারতের অপেক্ষা করছে।