মোকতার হোসেন মন্ডল, টিডিএন বাংলা, কোলকাতা: গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন ৪৮ হাজার ৬৫০টি। বিজেপি প্রার্থী দিয়েছে ২৭ হাজার ৭৮৯টি। আর বামফ্রন্ট ১৯ হাজার ৭১৪ এবং কংগ্রেস ৭হাজার ২৩৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতিতে ৯,২১৭টি আসন।
বিজেপি ৫ হাজার ৯৫২ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বামফ্রন্ট ৪ হাজার ৮০৩ এবং কংগ্রেস ১ হাজার ৬৪৬ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। জেলা পরিষদে ৮২৫টি আসন।
বিজেপি ৭৬৬টি, বামফ্রন্ট ৬৬৫ এবং কংগ্রেস ৩৭৭টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের সব আসনেই বিজেপি বাম ও কংগ্রেসের চেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে।

এই নির্বাচনে একটি চমকপদ ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের শাসক দল নির্দিষ্ট আসনের চেয়ে বহু বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। একটি সুগঠিত দল না হবার কারণে দ্বন্দ্ব ঠেকাতেই কি এতো বেশি আসন? কিছু জায়গায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে তৃণমূল লড়াই করবে? হয়তো দলের নির্দেশে নমিনেশন প্রত্যাহার করতে হতে পারে অনেককেই। গ্রাম পঞ্চায়েতে ৪৮ হাজার ৬৫০টি আসনের মধ্যে তৃণমূল প্রার্থী দিয়েছে ৫৯ হাজার ৪৭৫ টি। ১০ হাজার ৮২৫টি আসনে বেশি প্রার্থী। এই বিপুল সংখ্যক বেশি আসনে প্রার্থী কেন দেওয়া হয়েছে তা তৃণমূল নেত্রীই ভালো বলতে পারবেন। তবে সকলেই যদি নমিনেশন প্রত্যাহার না করে তাহলে তৃণমূলের বিপদ। হয়তো তৃণমূলের টিকিট নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে থাকবে।

সেক্ষেত্রে বিজেপি যদি পিছন থেকে দল বদলের খেলা খেলে দেয় তবে বাংলার রাজনীতি অন্য দিকে মোড় নেবে। কেননা দেখা গেছে, নীতি আদর্শের ভিত্তিতে এইসব দল পরিচালিত হয়না। এইসব দল মনে করে যেকোন ভাবে ক্ষমতা পেলেই হলো। পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০,২৭২টি নির্দল প্রার্থীর মনোনয়ন জমা পড়েছে। এই নির্দলের মধ্যে তৃণমূলের অনেকেই আছে। পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদেও বহু বাড়তি নমিনেশন জমা দিয়েছে তৃণমূল। নির্দল প্রার্থীতো আছেই।
এইসব বাড়তি আসনের প্রার্থী ও নির্দল প্রার্থীরা বিজেপির দিকে ঝুঁকলেই তৃণমূলকে টেক্কা দেবে।

কিন্তু যদি এর বিপরীত হয় অর্থাৎ এইসব প্রার্থীরা বামফ্রন্ট বা কংগ্রেসের দিকে যায় তাহলেও রাজনীতির মাঠ তেতে উঠবে।  আর যদি দল নেত্রীর নির্দেশ মেনে বাড়তি আসনের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেয়, বিক্ষুব্ধদের ঠেকানো যায় তবে তৃণমূলই পঞ্চায়েত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু বিক্ষুব্ধরা কি নেত্রীর কথা শুনবেন? সেই সম্ভাবনা কিন্তু কম। কেননা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশ ছিল দলে গোষ্ঠী কোন্দল যেন না থাকে। কিন্তু তাঁর কথা না মেনে প্রার্থী হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু তৃণমূলের এই বাড়তি আসনের প্রার্থী বা বিক্ষুব্ধ নির্দল প্রার্থীরা ঠিক কোন দিকে যাবে তা সময়ই বলবে। তবে এই মুহূর্তে কিন্তু রাজ্যে তৃণমূলের ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। বামফ্রন্ট, কংগ্রেসের চেয়ে অনেক বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি।

এই জায়গায় একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে বিরোধীদের নমিনেশন করতে দেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগ সত্য। কিন্তু বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের চেয়ে এতো বিপুল আসনে বিজেপি কিভাবে প্রার্থী দিতে পেরেছে? তাহলে কি বলতে হবে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের ঘাঁটি গুলিতেই তৃণমূল বেশি বাধা দিয়েছে নমিনেশনে। নাকি এই রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসাবে উঠে আসছে বিজেপি আর সঙ্ঘের শক্তির কাছে হেরে যাচ্ছে বাংলার বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস? বিষয়গুলি খুব জটিল। তবে এ কথা বলা যেতেই পারে, রাজ্য জুড়ে নমিনেশনকে কেন্দ্র করে যে হিংসা হয়েছে তার চোরাস্রোত দিয়ে গেরুবাহিনীর উত্থান হয়েছে। এর জন্য কে দায়ী? শাসক দল নাকি বাম-কংগ্রেস, নাকি নিয়তি? সময়ই সব প্রশ্নের জবাব দেবে।