সুরাইয়া খাতুন

সুরাইয়া খাতুন, টিডিএন বাংলা : মহান আল্লাহ বছরে আমাদের জন্য দুইটি শ্রেষ্ঠ খুশির দিন উপহার দিয়েছেন। একটি ঈদ-উল-ফিতর, অপরটি ঈদ-উল-আযহা। দুই ঈদেরই রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ‘ঈদুল আযহা’ হল ‘ত্যাগের উৎসব’। ত্যাগ ও কুরবানির বৈশিষ্ট্যে মন্ডিত। এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মূলকথা হল আল্লাহ তা’আলার আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন।

এই ঈদের সাথে জড়িত আছে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈল (আ.) এর মহান ত্যাগের নিদর্শন। এই ত্যাগের মূলে ছিল আল্লাহর প্রতি ভালবাসা এবং তার সন্তুষ্টি অর্জন। হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসাবে জিলহজ্জ্ব মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিন ধরে ঈদ-উল-আযহা চলে।

কিন্তু বর্তমানে কুরবানীর নামে কিছু মানুষ চালাচ্ছে নোংরা প্রতিযোগিতা। খুবই দুঃখজনক যে, তারা একে অপরের থেকে মূল্যবান পশু কুরবানীর নেশায় মত্ত। ফলে সেখানে আল্লাহর আনুগত্য ও সন্তুষ্টির জন্য যে ত্যাগ, তার উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

কুরবানীর ঈদের আর একটা কথা বলতে হবে, সেটা হল কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় এই আচার পালনে অনেক সময় বিভিন্ন প্রতিকূলতার, বাঁধার সম্মুখীন হয় সমাজের অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষের দ্বারা। এই খণ্ড চিত্রও দেখা যায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে। বিধর্মী যারা এটাকে শুধু পশু হত্যা হিসেবে দেখে, তাদের বলে দিই, KFC,  McDonald’s, Bugger Kings ইত্যাদি কোম্পানি প্রতিদিন এক বিলিয়ন পশু হত্যা করে। তাদের উদ্দেশ্য ধনী মানুষদের রসনার তৃপ্তি ঘটিয়ে অর্থ উপার্জন করা। আর ঈদ-উল-আযহায় পশু কুরবানীর উদ্দেশ্য গরীর মানুষের একদিনের জন্য হলেও মাংসের স্বাদ দেওয়া। এখানেই পার্থক্যটা স্পষ্ট। তাই ঈদ-উল-আযহায় যে পশু কুরবানী হয়, সেখানে ধর্মের সাথে সাথে সামাজিক দিকটাও গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে বলি যে, আমাদের মাঝে বিরাজমান যাবতীয় পশুত্ব-ক্রোধ-হানাহানি-লোভ-পরশ্রীকাতরতা তথা সকল অশুভ ইচ্ছে ও কু-বাসনার কুরবানি হোক, সকল কু-রিপুর কুরবানী হোক। সত্য সুন্দর আর পবিত্রতায় সকল কু-রিপুর কুরবানী হোক এই কামনা করি আল্লাহর কাছে।