MD Nuruddin
মুহাম্মদ নুরুদ্দীন

মহম্মদ নুরুদ্দিন, টিডিএন বাংলা: হিংসা ঘৃণা ও আতঙ্ক তৈরী করার জন্য ফেসবুক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায় ও ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আতঙ্ক তৈরী করতে ফেসবুক এর মত গণমাধ্যমকে ব্যাপকভাবে ব্যাবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে সাউথ এশিয়ান আমেরিকান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন। সম্প্রতি হেট স্পিস বা উগ্র বক্তব্যের উপর গবেষণা করে এই মানবাধিকার সংগঠন জানাচ্ছে, ফেসবুকের উগ্র বক্তব্যের শতকরা ৩৭ শতাংশ ইসলাম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে।

এই গবেষণায় আরও জানা যায় ইসলাম সম্পর্কে ভীতি ছড়ানোর জন্য পরিকল্পিত ভাবে যে বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে তার শতকরা ১৬ শতাংশ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ১৩ শতাংশ বিকৃত। সম্প্রতি টিউনিসে পেশকৃত মানবাধিকার সংগঠন এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের ছয়টি প্রধান ভাষায় প্রকাশিত ১০০০ সংবাদ পর্যালোচনা করে এই তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে আরো জানানো হয়েছে ইসলাম আতঙ্কের শতকরা ৬ শতাংশ রোহিঙ্গা বিরোধী। লাভ জিহাদের নামেও ব্যাপক হিংসা ছড়ানো হচ্ছে।

ভারতবর্ষে ফেসবুক এর ব্যবহার দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৩০ কোটি মানুষের দেশে ২৯ কোটি ৪০ লাখ ফেসবুক একাউন্ট আছে। অল্প দিনেই ভারতের ফেসবুক ব্যবহার কারীর সংখ্যা আমেরিকার মূল জনসংখ্যা কে ছাপিয়ে যাবে। এরকম একটা দেশে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত সংবাদ যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা ভাবলে অবাক হতে হয়।

ফেসবুক সংস্থার পক্ষ থেকে হিংসা সৃষ্টি করতে পারে এমন সংবাদ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু সে ক্ষেত্রে পারিবারিক হিংসা বা ব্যক্তিগত বিষয় কে বেশি খেয়াল দেওয়া হয়। কোন একটা ধর্ম বা জাতির উপর পরিকল্পিত তথ্য সন্ত্রাসের বিষয়ে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ভারতের বেশ কিছু সংগঠন উগ্রতা তৈরীর উদ্যেশে সোশ্যাল মিডিয়া যোদ্ধা তৈরী করেছে। লাগাতার হিংসা ছাড়ানোই তাদের কাজ । অবিলম্বে এগুলি নিয়ন্ত্রণ করা নাহলে আগামীতে মহা সংকটে পড়তে পারে দেশ।