তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা

“ওরে বাবা দেখ চেয়ে 
কত সেনা চলেছে সমরে!
ওরে বাবা দেখ চেয়ে 
কত সেনা চলেছে সমরে!
কত সেনা! কত সেনা!

……………..

ওরে হাল্লা রাজার সেনা
তোরা যুদ্ধ করে করবি
কি তা বল-“! 

কাশ্মীরের আকাশে যুদ্ধের ডঙ্কা। সেই ঢক্কানিনাদ শোনা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। একটা রণং দেহি ভাব! সাধারণ নাগরিকের কাছে যুদ্ধ কখনই কাঙ্খিত নয়। তাই অরুন্ধতি রায়কে বলতে শোনা যায়, প্রধানমন্ত্রী দেশটাকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। শান্তির নোবেল লরিয়েট মালালা ইউসুফজাই শান্তির পক্ষে সওয়াল করেন। চারিদিকে যখন `কেটে ফেল, মেরে ফেল ভাব’, তখন দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ খবর তলিয়ে যাচ্ছে।

যেমন- ডিসেম্বরে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিক অর্থবর্ষে দেশের গড় জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির (জিডিপি) হার কমে দাঁড়াল ৬.৬ শতাংশ। এর আগে সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিক অর্থবর্ষে এই বৃদ্ধির হার ছিল সাত শতাংশ। যদিও সংশোধনের পর তা গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ৭.১ শতাংশে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের পর  জিডিপি বৃদ্ধির এই হার সর্বনিম্ন।

এরপরে আসা যাক, কৃষি সঙ্কটের কথায়। ভারতের কৃষি সঙ্কট এখন আর কৃষিক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। এই পরিস্থিতি আজ এক সামাজিক সঙ্কটের চেহারা নিয়েছে। সভ্যতার সঙ্কট বললেও অতিরিক্ত কিছু বলা হবে না। কারণ, নিজেদের জীবন-জীবিকা বাঁচানোর তাগিদে দেশের ক্ষুদ্র কৃষক এবং শ্রমিকদের বৃহত্তম অংশটি নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছে। কৃষি সঙ্কট বলতে এখন আর মাত্র জমির অধিকার হারানোকেই বোঝায় না, বোঝায় না কেবল জীবন, জীবিকা এবং উৎপাদনশীলতা হারানোকেও। এই সঙ্কট চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় তলানিতে এসে ঠেকা আমাদের মানবিকতা বোধকে, ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকা আমাদের মনুষ্যত্বকে। নিঃস্ব সর্বস্বান্ত মানুষগুলোর যন্ত্রণা, বিগত কুড়ি বছরে ৩ লক্ষের অধিক মানুষের আত্মহত্যা দেখেও আমরা নীরব দর্শক হয়ে দিব্যি স্বচ্ছন্দে থেকেছি! বিভিন্ন সময়ে দেশ প্রত্যক্ষ করেছে, কৃষি বিক্ষোভ আছড়ে এসে পড়েছে নয়াদিল্লির বুকে।  ৩ রাজ্যের ফলাফলে এর মাসুল গুণতে হয়েছে মোদীকে। এরপরেও কি বোধের উদয় হবে না?

১৯৭১ সালের পর এই প্রথম দুই দেশ আকাশ যুদ্ধে জড়ালো বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। পুলওয়ামায় দুই সপ্তাহ আগে আত্মঘাতী হামলায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৪০ জনের বেশি জওয়ান শহিদ হওয়ার পর দুই দেশের উত্তেজনা নতুন মোড় নেয়। এরপর মঙ্গলবার ভোররাতে ভারতের বিমান বাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে পাকিস্তানের বালাকোটে জইশ ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অন্তত ৫০টি স্থানে কাশ্মীরের দিকে মর্টার শেল ছোড়ে পাকিস্তানি সেনারা। তারপর মঙ্গলবার সকালে পাকিস্তানি বিমানও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় নওশেরা সেক্টরে বোমাবর্ষণ করলে আকাশে শুরু হয় লড়াই। রয়টার্স জানিয়েছে, বালাকোটে ভারতের বিমান অভিযানের পর গত ২দিন ধরে কাশ্মীর সীমান্তে মর্টার দিয়ে লাগাতার পাল্টা পাল্টি গোলাবর্ষণ করেছে দুই দেশ।

সবমিলিয়ে ঘোর সঙ্কটের মুখেমুখি আমরা। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের যেকোনো সচেতন মানুষের কাছে একটাই আকাঙ্খিত বস্তু- শান্তি চাই।