তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা: সে আসবে, সে আসছে…

তার প্রতীক্ষায় রাত জাগল শহর কলকাতা।

রাত কাটল, সে এল না। হাওয়া অফিস জানাল ফণির আতঙ্ক কেটে গেছে। রাজ্যে আছড়ে পড়লেও কলকাতার কানের পাশ দিয়ে চলে গেছে ফণি। এই যাত্রায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি শহরের। ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল। বেলা বাড়তেই মেঘের কোলে রোদ হাসল।

স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল শহর। সকাল হতেই কাজের ছন্দে পা মেলাল দুরন্ত কলকাতা।

ওড়িশায় তাণ্ডবের পর বাংলার দিকে ফণি ধেয়ে আসার খবরে রীতিমতো থরহরিকম্প অবস্থা হয়েছিল রাজ্যবাসীর। হাওয়া অফিস বলেছিল, গভীর রাতে শহরে থাবা বসাবে ফণি। তার ফণার ঝাপটে শুরু হবে ধ্বংসলীলা। সেই মতো গতকাল তাড়াতাড়ি ঘরে ফেরেন অফিস বাবু থেকে কেরাণি কিংবা কর্পোরেট যুবক-যুবতীরা। অনেকেই রাত জাগলেন। কারণ ফণি নিয়ে দিনভর অফিসে চায়ের কাপ হাতে আলোচনা হয়েছে বিস্তর।

ঘড়ির কাঁটা ক্রমশ এগোচ্ছে। ভোরের দিকে হালকা ঝোড়ো বাতাস। সঙ্গে সমান্য বৃষ্টি। তাও বিশেষ কিছু নয়। রাত জাগাই সার! তার দেখা মিলল না। তার দেখা মিলল না বলে অনেকে খেদ প্রকাশ করলেন। কিন্তু বাঁচোয়া তার ধ্বংসলীলা থেকে রেহাই পেল শহর।

পোড়ে পাওয়া চোদ্দা আনা! পোড়া গরম থেকে বাঁচল শহর। খানিকটা বৃষ্টিতে ভিজল কলকাতার পোড়া রাস্তা-ঘাট। কিন্তু হালকা সিক্ত শহরেই সকাল হতে রোদের ঝিলিক। শনিবার ফণির প্রভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। শক্তি হারিয়ে বঙ্গে প্রবেশের কারণে তেমন ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি ফণি। কার্যত কান ঘেঁসেই বেরিয়ে গিয়েছে সে। ফণির ভয়ে রাত জাগলেও বেঁচে গিয়েছে কলকাতা।