তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা: তোড়ায় বাঁধা ঘোড়ার ডিম- সে আবার কী? সত্যজিত রায়ের অনন্য সাহিত্য সৃষ্টির হাত থেকে বিচিত্র ভাবনার চিত্রকল্প কবিতায় প্রতিফলিত।

বাংলা ভাষার খেয়াল-রসের একচ্ছত্র রাজা সুকুমার রায়। তাঁর উদ্ভট লেখাগুলো ছোটদের জন্যই নয়, সাহিত্য রসিকদের কাছে একরাশ খোলা বাতাস! সে রকম বিশ্বের সেরা ২জন খেয়ালরসিক এডওয়ার্ড লিয়র এবং লুইস ক্যারল। সুকুমার রায়ের মতোই তাঁরাও ছড়ায় ছড়ায় গড়েছেন আজব আর উদ্ভট সব জগৎ। তাঁদের সেই জগতের সঙ্গে আমাদের নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সুকুমারপুত্র সত্যজিৎ রায়।

গোয়েন্দা ফেলুদা, বিজ্ঞানী প্রফেসর শঙ্কু কিংবা গল্পবাজ তাড়িনী খুড়ো বাংলা ভাষার ছোট-বড় সব পাঠকের কাছেই অতিপরিচিত নাম। এই জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর স্রষ্টা সত্যজিৎ। ছোটগল্পও লিখেছেন তিনি প্রচুর। আর তার বেশির ভাগই শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা। মৌলিক গল্পের পাশাপাশি বেশ কিছু অনুবাদও করেছেন সত্যজিৎ। এর মধ্যে `তোড়ায় বাঁধা ঘোড়ার ডিম’- বইটি উল্লেখযোগ্য।

সত্যজিতের এই অনুবাদগুলো প্রকাশিত হয়েছিল শিশু-কিশোরদের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় পত্রিকা সন্দেশ -এ। তোড়ায় বাঁধা ঘোড়ার ডিম বইটিতে মোট সাতটি অনূদিত ছড়া ও একটি গল্প স্থান পেয়েছে। সেগুলো হচ্ছে ‘পাপাঙ্গুল’, ডং, লিমেরিক, পিপলি বিলের ধারের সাতটি পরিবারের ইতিকথা, জবরখাকি, রামপাগলের গান, মেছো গান, আদ্যি বুড়োর পদ্যি, হেসরি কিং-এর অকালমৃত্যু এবং তিন ভিখিরি। এর মধ্যে ‘পিপলি বিলের ধারের সাতটি পরিবারের ইতিকথা’ ছাড়া বাকিগুলো ছড়া। কিন্তু ছড়াগুলো অনূদিত হলেও ঠিক আক্ষরিক অনুবাদ একে বলা যাবে না। আসলে বিদেশি স্রষ্টার অনুসরণে সত্যজিৎ রায়ের নিজস্ব সৃষ্টি। তাঁর অনন্য ভাবনার প্রতিফলন।
বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন সত্যজিৎ রায় নিজেই। আর বইয়ের ভেতরের অলংকরণগুলো ইংরেজি মূল বই থেকে নেওয়া হয়েছে। যেগুলো এঁকেছিলেন স্যার জন টেনিয়েল এবং এডওয়ার্ড লিয়র।
তোড়ায় বাঁধা ঘোড়ার ডিম- দম ফাটা হাসির হররা।