সম্পাদকীয়, টিডিএন বাংলা : প্রকাশ্যে বিধায়ক খুন ! নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী রইলো বাংলা। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে গুলি করে খুন করে দুস্কৃতীরা। ফুলবাড়ীতে সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠানে তাকে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তৃণমূলের অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তৃণমূলের নদিয়া জেলা সভাপতি গৌরী শঙ্কর দত্ত এই ঘটনার পিছনে বিজেপির হাত আছে বলে অভিযোগ করেন এবং ‘এর শেষ দেখে’ ছাড়বেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। এদিকে এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়েছে। বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ সত্য সামনে আনার কথা বলেছেন। তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডল, ‘বিজেপি খুনের রাজনীতি করছে’ বলে অভিযোগ করেন।

কিন্তু একজন বিধায়ককে এভাবে জনসমক্ষে গুলি করে খুন করার ঘটনায় স্তম্ভিত সবাই। মানুষ বলছেন, একজন বিধায়ক যেখানে নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের কী হবে? রাজনৈতিক চাপাউতর যাইহোক, একজন বিধায়ককে খুন করার সাহস দুষ্কৃতীরা পেল কোথা থেকে? পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় খুনের ঘটনা, বোম ব্লাস্টের ঘটনা ঘটেছে।

কিন্তু এই সব বন্দুক কোথা থেকে আসছে? দুষ্কৃতীরা অবাধে কিভাবে ঘুরছে? কেন অবৈধ অস্ত্র বাংলায় থাকবে? বোম কোথা থেকে তৈরি হয়? অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িতদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? পুলিশ, প্রশাসন, গোয়েন্দা বিভাগ কি এইসব বিষয় জানে না ? কে কোথা থেকে কিভাবে অস্ত্র পাচ্ছে সেই খোঁজ নেয়? সাধারণ মানুষ সত্যিই চিন্তিত। নিরাপত্তা ঠিক কোথায় তবে?

এবিষয়ে সরকার ও প্রশাসনকে ভাবতে হবে। রাজ্যকে অবৈধ অস্ত্র মুক্ত করতেই হবে। বাংলাকে দুষ্কৃতী মুক্ত করতে হবে। রাজনৈতিক চর্চা যাইহোক, দুষ্কৃতীরা কোনও দলের জন্য, মানুষের জন্য ভালো নয়। সুতরাং আগামী প্রজন্মের স্বার্থে, বাংলার মানুষের স্বার্থে রাজ্যের সমস্ত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হোক এবং দাগি অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হোক।