Image: Getty Image

ভারতের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। উত্তর পূর্বে সিন্ধ থেকে দক্ষিণে কেরালা। সর্বত্রই দেশ ভাগের বিরুদ্ধে স্পষ্ট মতামত জানিয়েছিলেন মুসলিম নেতারা। তাঁরা অবিভক্ত ভারতের পক্ষে দৃঢ় মতামত পেশ করেছিলেন। কারা সেই নেতা?

সামসুল ইসলাম ও সঈদ নাসের আহমেদ তাঁদের কালজয়ী কাজের মধ্য দিয়ে এমন কিছু প্রমাণ জড়ো করেছেন, যা এই নিয়ে জনসমক্ষে দেওয়া বক্তৃতার ভারসাম্যহীনতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। ২০১৫ সালে প্রকাশিত সামসুল ইসলামের `মুসলিমস এগেন্সট পার্টিশন ‘- এক নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে দাবিদার হতেই পারে। ২০১৪ সালে সঈদ নাসের আহমেদের `ইমরটাল‘ – বইটির কথাও উল্লেখযোগ্য। তিনি দেখিয়েছেন, মুসলিম নারী-পুরুষ যাঁরা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা সরাসরি দেশভাগের রাজনীতির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।

মুসলিম এগেন্সট পার্টিশন বইটির লেখক সামসুল ইসলাম সিসি-কে বলেছিলেন, যুক্তির জালে এই বইয়ের কাঠামো নির্মাণ হয়েছে। ফলত হিন্দুত্ব ব্রিগেড সন্দেহের বাতাবরণের ভিত্তিতে যে ঘৃণার-বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়েছে, তা প্রশমিত করবে এই দলিল। তিনি ও সঈদ নাসের আহমেদ তাঁদের বইয়ে এমন কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, তার জন্য তাঁদের কুর্নিশ জানিয়েছে সিসি।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৩ বছর পর নিন্দাবাদের জেরে আন্দোলন সংগঠিত হয় মুসলিমদের মধ্যে। ভারতীয় মুসলিমদের দেশপ্রেম নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এটা তাঁদের মধ্যে উষ্মার জন্ম দেয়।

শুধুমাত্র একটা অংশই নয়, রাজনীতির খুব প্রভাবশালী শক্তি, যারা এই মুহূর্তে সাংবিধানিক ক্ষমতায়, বারবার নিন্দাবাদের প্রচার করেছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে। গত ১৮ মাসে নির্বাচিত প্রতিনিধি, এমনকী কেন্দ্রের মন্ত্রীরাও বিদ্বেষের বিষবাষ্প ছড়িয়ে বাতাস ভারী করে তুলেছেন। বারবার বিদ্বেষ বক্তৃতার মাধ্যমে এই প্রবণতা জারি থাকে।

গোবেলের নীতিতে মিথ্যা প্রচারের কৌশল ভেঙে দেওয়ার একমাত্র হাতিয়ার যুক্তি জাল ও তথ্যের প্রকাশ। তার জন্যই প্রয়োজন বিশেষজ্ঞের মতামত।

কে ছিলেন আল্লা বক্স?

আল্লা বক্স (আল্লা বক্স মহম্মদ উমর সোমরো) তিনি তৃণমূল স্তর থেকে উঠে এসেছিলেন। দেশ ভাগের আগের সময়কালে মুসলিম লিগের বিরুদ্ধে অবিভক্ত ভারতের মুসলিমদের সঙ্গবদ্ধ করেছিলেন। আল্লা বক্স সেই সময় সিন্ধ প্রদেশের প্রিমিয়ার ছিলেন (তখন মুখ্যমন্ত্রীকে এই পদমর্য়াদায় অবিধা করা হত)। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি ইত্তেহাদ পার্টি (ঐক্য়বদ্ধ পার্টি) –র প্রধান ছিলেন। মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশ সিন্ধে সেই সময় মুসলিম লিগকে পা রাখতে দেয়নি তাঁর দল।

আল্লা বক্স এবং তাঁর পার্টি জাতীয় কংগ্রেসের (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস) অংশ ছিলেন না। কিন্তু তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল যখন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারতীয়দের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও `ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, তখন প্রতিবাদে সরব হতে দেরি কেরননি আল্লা বক্স। ব্রিটিশদের দেওয়া সব তকমা (টাইটেল) তিনি ত্যাগ করতে দ্বিধা বোধ করেননি।

প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন তিনি। তাঁর সরব প্রতিবাদ এইরকম – “এটা সেই অনুভূতির ক্রমবর্ধমান ফলাফল, যে ব্রিটিশ সরকার আর ক্ষমতায় অংশ নিতে চায় না। মিস্টার চার্চিলের বক্তৃতা তাঁদের সব আশায় জল ঢেলে দিয়েছে।‘’ আল্লা বক্সের এই প্রতিবাদ সহ্য করতে পারেনি ব্রিটিশ প্রশাসন। রাজ্যপাল স্যার হগ ডাউ এর দফতর বরখাস্ত করল তাঁর সরকারকে। সালটা ১৯৪২, ১০ অক্টোবর। এক মুসলিম নেতার দেশের স্বাধীনতার জন্য মহান ত্যাগের কথা এখনো অনেকেরই অজানা।

এটা সবাই জানেন, নাথু রাম গডসে হিন্দু মহাসভার সঙ্গে জড়িত ছিল। সাভারকর ও আরএসএস ১৯৪৮ সালে ৩০ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করে।

প্রশ্ন হল, আমাদের মধ্যে কতজন জানেন আল্লা বক্স অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতার যুদ্ধের এক মহান নেতা ছিলেন? তিনি দেশভাগ ও পাকিস্তানের জন্মের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। অথচ তাঁকে ১৯৪৩ সালের ১৪ মে খুন করা হয় সিন্ধ প্রদেশেই। যতদূর জানা যায়, পেশাদার খুনিদের দিয়ে হত্যা করা হয় তাঁকে। কারা করিয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক আছে।

ভারত ও পাকিস্তানে মুসলিমদের মধ্যে প্রবল ভাবে তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল, তাই তাঁকে শেষ করে দেওয়া প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল একটা শ্রেণির কাছে।

আরো বলা দরকার, আল্লা বক্স একজন মহান ধর্মনিরপেক্ষ নেতাও ছিলেন। তিনি সিন্ধের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছিলেন। পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান তৈরির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। সিন্ধকে বাদ নিয়ে পাকিস্তান তৈরির ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিলেন তিনি। এটা খুব পরিষ্কার ছিল যে, ১৯৪২ সালে আল্লা বক্স সরকারকে বরখাস্ত করা ও ১৯৪৩ সালে তাঁর হত্যা সিন্ধ প্রদেশে মুসলিম লিগের পথ প্রশস্থ করেছিল। এদিকে সিন্ধ মুসলিমল লিগ নেতা এম এ খুসরো আল্লা বক্সের হত্যায় প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে কাঠগড়ায় ওঠেন। কিন্তু দোষী সাব্যস্ত হননি। কারণ রাষ্ট্র তাঁর বিরুদ্ধে একজন সাক্ষীকেও হাজির করতে পারেনি। একইভাবে গান্ধী হত্যা মামলায় সাভারকর ছাড়া পেয়ে যান। এই নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন ছিল। কেন আল্লা বক্সের মতো নেতার মুসলিমদের মধ্যে প্রভাব সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল? এর ফলে ব্রিটিশ উপনেবিশবাদের কারিগর ও হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার রক্ষকরা হাতধরাধরি করে চলতে পারে। তাঁরা ভারতকে ধর্ম নিয়ে চিরস্থায়ী বিভ্রান্তির ক্ষেত্র হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু ভারত বরাবরই একটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। জাতীয় সঙ্গীতে সিন্ধ প্রদেশের নাম উল্লেখ আছে। ধর্মনিরপেক্ষ, একতা ও গণতান্ত্রিক ভারতের ঐতিহ্য ক্রমশ মানুষ বিস্মৃত হতে থাকেন। আল্লা বক্স সবসময় মুসলিম লিগের ধর্মীয় রাজনীতি ও দ্বজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের নীতির বিরোধিতা করে এসেছিলেন। এর জন্য তাঁকে প্রাণ দিতে হয়েছিল।

১৯৪০-এ আজাদ মুসলিম কনফারেন্স

সাম্প্রদায়িক বিষ বাষ্পের বিরুদ্ধে আল্লা বক্সের অবদান ও দুই দেশ নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া স্বীকৃতি পেল, যখন তিনি মহম্মদ ইব্রাহিম, হাইফজুর রেহমান, এমএ আনসারি, ইস্ক সামভালির মতো নেতাদের সঙ্গে হাত মেলান। `আজাদ মুসলিম কনফারেন্স’- এই ছাতার তলায় পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের একত্রিত করেন তিনি। ১৯৪০ সালে ২৭ থেকে ৩০ এপ্রিল দিল্লিতে এই মঞ্চের বিশেষ অধিবেশন হয়। ১৪০০ জন প্রতিনিধি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই কনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলেন। মুসলিমদের বিপুল প্রতিনিধিত্ব দেখে স্বীকৃতি লাভ করল এই মঞ্চ। আল্লা বক্সের নেতৃত্ব এই কনফারেন্সে একটি প্রস্তাবনা পাশ হয়। তা এই রকম- জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে ভারত ভূখণ্ড সব মানুষেরই গম্য হয়ে উঠবে। কনফারেন্সে পাকিস্তান গঠনের বিপরীতে মত প্রকাশ করা হয়। যেখানে বলা হয় এই ধরণের পদক্ষেপ অবাঞ্চিত ও ক্ষতিকর। দেশের স্বার্থ বিঘ্নিত করবে। মুসলিমদের জন্যও এটা ভালো হবে না।

আল্লা বক্সের মতো মুসলিম নেতা মুসলিম লিগের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধিতা করেছিলেন। ১৯৪০ সালে দিল্লি কনফারেন্সে আল্লা বক্সের `প্রেসিডেনশিয়াল অ্যাড্রেসে’র মধ্যে দিয়ে তা আরো স্পষ্ট হয়ে যায়। মুসলিম লিগের বিরোধিতা করতে তিনি ইতিহাসের তত্ত্বের অবতারণা করেন। নীতিগত প্রশ্নে মুসলিম লিগের নেতাদের মত প্রকাশের জন্য আহ্বানও করেন। ধর্মরাষ্ট্রের ধারণার তীব্র নিন্দা করেছিলেন তিনি। আল্লা বক্স বলেছিলেন, ভুল ধারণার ওপর এটা দাঁড়িয়ে আছে। ভারত কখনই দ্বজাতিতত্ত্বের নীতিতে বিশ্বাস করে না। ভারতীয় মুসলিমরা ভারতবাসী হিসেবে গর্বিত। একইভাবে অধ্যাত্ম চিন্তায় তাঁরা ইসলামে বিশ্বাসী। ভারত মাতৃভূমে সমানভাবে ও সামন অধিকার নিয়ে বসবাস করেন হিন্দু ও মুসলিম উভয়েই। বিরোধের কোনো জায়গা নেই। হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে অসহিষ্ণুতা নিয়ে ভুল ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অবিচ্ছেদ্য ভারতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ভারতবাসীরা শান্তিপূর্ণ সহবস্থানে বিশ্বাসী। এটাই ভারতাত্মার ঐতিহ্য। হিন্দু ও মুসলিম মানে তাঁরা সকলে ভারতবাসী। কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ নয়, সমগ্র ভারত হিন্দু ও মুসলমান উভয়েরই মাতৃভূমি।

আল্লা বক্স বারবার পরিষ্কার করে দিয়েছেন, শাসকরা সুকৌশলে দ্বজাতিতত্ত্বের বীজ আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেছিলেন, যাঁরা শাসকের হাত থেকে ক্ষমতা দখল করতে চান, তাঁরা সুকৌশলে দ্বজাতিতত্ত্বের বীজ বপন করেছেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে নিজেদের মতের পক্ষে জোরালো যুক্তি খাড়া করছিলেন। এক শ্রেণির সমর্থনও আদায় করেছিলেন। আক্ষরিক অর্থেই রাজনীতির পাসা খেলায় মেতে উঠেছেন তাঁরা। তাঁদের লক্ষ্য, সমগ্র ভারত অথবা একটা অংশের ক্ষমতা কায়েম করা।

আবদুল কায়িম খান উত্তর পূর্ব ফ্রন্টিয়ার প্রদেশের থেকে ঘোষণা করেছিলেন, রক্ত দিয়ে তাঁর প্রদেশ দেশ ভাগ আটকাবে।

বাংলার কৃষক প্রজা পার্টির সদস্য সঈদ হাবিবুল রহমান দেশভাগের প্রস্তাবের নিন্দা করে বলেছিলেন, এটা অসম্ভব ও অর্থহীন।

সিন্ধের তৎকালীন প্রিমিয়ার স্যার গুলাম হুসেন ইত্তেহাদুল দেশভাগের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন।

(মৌলানা) আবুল কালাম আজাদ জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য ও একসময় সভাপতিও ছিলেন। তিনি দেশভাগের বিরোধী ছিলেন।

১৯৪০ সালে ২৯ এপ্রিল অল ইন্ডিয়া আজাদ মুসলিম কনফারেন্স সম্পর্কে টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় লেখা হয় – মুসলিম লিগের একগুঁয়েমির বিরুদ্ধে জনমত আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।  (ফ্রম রোড টু পাকিস্তান- মহম্মদ আলি জিন্নাহর জীবন ও সময় নিয়ে বিখ্যাত লেখক ও ইতিহাসবিদ বি আর নন্দার এই বই বিশেষ উল্লেখযোগ্য।)

তিনি মুসলিম লিগের নেতাদের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন, সাম্রজ্যবাদের কাঠামো কি মুসলিম জনগণের উন্নতি সাধন করেছে? শাসকরা তাদের অবক্ষয়ের বিষ ছড়িয়ে দেয়নি?

একইভাবে হিন্দুদের একাংশও এই রোগে দুষ্ট ছিলেন। তাঁরা সাম্রাজ্যবাদের স্বপ্নকে লালন পালন করেছিলেন।

হিন্দু রাষ্ট্র ও মুসলিম রাষ্ট্রের কারিগরদের তিনি বলেছিলেন, মুসলিমরা কেন আজ এত রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে বাস করেন? হিন্দুরা যদি একসঙ্গেই থাকতে চেয়েছেন, তাহলে ভারত ও নেপাল আলাদা রাষ্ট্র কেন?

মিশ্র সংস্কৃতির পক্ষে সওয়াল

আল্লা বক্স তাঁর বক্তৃতায় বলেছিলেন, তাঁরা মুসলিম সংস্কৃতির কথা বলতে গিয়ে মিশ্র সংস্কৃতির প্রভাবের কথা বলেছে। যা বহু বছর ধরে এই দেশ লালন করে আসছে। শিল্প থেকে সাহিত্য, কৃষি, সঙ্গীত, ইতিহাস, দর্শন এবং ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় হিন্দু মুসলমানের যৌথ অবদান রয়েছে। ফলে এই ধরণের ভাবনা (দেশভাগ) খুব পিছিয়ে পড়া মানসিকতা থেকেই জন্ম নিতে পারে। এই দেশ এমন ভূখণ্ড যেখানে একে ওপরকে ভাই বলে মনে করে। এই সৌভ্রাতৃত্ব বোধ এই দেশেই সম্ভব।

আল্লা বক্স সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ঘোষণা করেছিলেন, সম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন একটা স্বাস্থ্যকর, উন্নত দেশের জন্ম দেবে। বহু আকাঙ্কিত স্বাধীনতার পর সেই দেশই তো তার নাগরিকরা পেতে চান।

এক তরফা দোষারোপ

দেশভাগের মূল খলনায়ককে খুঁজে বের করা মোটেই মুখের কথা নয়। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের ইতিহাস নিয়ে লেখার অন্ত নেই। ঐতিহাসিকরা সঠিকভাবেই মহম্মদ আলি জিন্নার নেতৃত্বে মুসলিম লিগকে দেশভাগের জন্য দায়ী করেছেন। কিন্তু এই দেশভাগ ও দ্বিজাতিতত্ত্বের বিষ হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তির জন্ম দেয়, যারা নারকীয় তাণ্ডব চালাতে থাকে।

হিন্দুরা এটা ঢাকার চেষ্টা করেছে, তারাও দুই রাষ্ট্রের নীতিতে বিশ্বাস করেছে। মুসলিম লিগ যেই কারণে মুসলিম রাষ্ট্র চেয়েছে, তারাও হিন্দু রাষ্ট্র চায়নি এমনটা নয়। হিন্দু মধ্যবিত্তরা হিন্দু সংগঠনগুলির হাত ধরে অনেক ভুল তথ্যের প্রতি আস্থা দেখিয়েছে। কিন্ত সত্য কখনই মিলিয়ে যাওয়া উচিত নয়। সর্বশক্তি দিয়ে একশ্রেণির মুসলিমরা দেশভাগ আটকাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের চেষ্টা বিফলে চলে যায়। ইতিহাসের এই বিশেষ অংশটি চেপে যাওয়া এক ধরণের অপরাধ। এর মাধ্যমে হিন্দু সাম্প্রদায়িক চরিত্ররা ভারতের একশ্রেণির মুসলিমদের কলঙ্কিত করার চেষ্টা করে গেছেন।

(টিডিএন বাংলায় প্রকাশিত নিবন্ধটির লেখক সালসুল ইসলাম দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াতেন। তিনি লেখক, কলমচি, নাট্যকার। তিনি ধর্মীয় কুসংস্কার, অমানবিকতা, সাম্প্রদায়িকতাবাদ ও নারী নির্যাতন নিয়ে কলম ধরেছেন। দলিত ও সংখ্যালঘুদের নিয়েও তাঁর লেখা আছে। ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জাতীয়তাবাদের জন্ম ও বিস্তার নিয়ে মৌলিক গবেষণার কাজের জন্য তিনি খ্যাত। টিডিএন বাংলার পাঠকের জন্য তুলে ধরলেন তিয়াষা গুপ্ত)

To read Web version click here