বিশেষ প্রতিবেদন, টিডিএন বাংলা: দাবিটা নতুন নয়। স্বাধীনতার সাত দশক পেরিয়ে গেলেও এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ দেখতে পায়নি দেশের অন্যতম সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা মুর্শিদাবাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার সাত দশকের হলেও সম্প্রতি ২০১৪ সালের পরই মূলত জেলাবাসী বারেবারে বিশ্ববিদ্যালয় চেয়ে দরবার করেছে শাসকের কাছে। সামাজিক সংগঠন, অরাজনৈতিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সরব হলেও টনক নড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত রাজ্য সরকারের। আন্দোলনের চাপে ২০১৮ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা করলেও এখনও সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো রূপরেখা তৈরি করেনি সরকার। কোথায় হবে বিশ্ববিদ্যালয় তাও জানে না জেলাবাসী। কিন্তু মুর্শিদাবাদ বাসীর এত দাবি আবেদন করার পরেও কি কারণে জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে না তার কারণ খুঁজে বের করা জেলাবাসীর দায়িত্ব। ঐক্যবদ্ধ ও দুর্বার আন্দোলনের অভাবেই কি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঞ্চিত রয়েছে মুর্শিদাবাদ? উঠছে প্রশ্ন।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার ৭০ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও মুর্শিদাবাদে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেনি। মুর্শিদাবাদে প্রায় ২৬ টি কলেজ থাকলেও উচ্চশিক্ষার জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এর ফলে উচ্চশিক্ষার দিক দিয়ে পিছনের সারিতে রয়েছে এই জেলা । শুধু উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, প্রাথমিক ,মাধ্যমিক স্তরেও বিভিন্ন দুর্দশা পরিলক্ষিত হয়েছে। রাজ্যে কংগ্রেস, সিপিএম দীর্ঘদিন শাসন করলেও জেলায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্ৰতিষ্ঠার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মা মাটি মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার দীর্ঘ আটবছর অতিবাহিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে টনক না নড়ায় জেলাজুড়ে আন্দোলনে নামেন ছাত্র সংগঠন, অরাজনৈতিক সংগঠন গুলো। পদযাত্রা থেকে শুরু করে জেলা শাসকের অফিস অভিযান সহ নানান ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ডেপুটেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি নিয়ে বিধানসভা অভিযানও করেছিল ছাত্ররা। অবশেষে আন্দোলনের চাপে পড়ে পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক আগের মুহূর্তে ফেব্রুয়ারি মাসে জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিয়েছিল রাজ্য সরকার।

কিন্তু ঘোষণায় সার। ঘোষণার দেড় বছর পার হলেও আজও জেলাবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ দেখতে পাননি। কিন্তু স্বাধীনতার সাত দশক পরও আজও কেন বিশ্ববিদ্যালয় পেল না মুর্শিদাবাদ? সে পর্যালোচনায় কি বসবে জেলাবাসী? জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি নিয়ে যেভাবে আন্দোলনে নেমেছিল জেলার আমজনতা, ঘোষণার পরেও বাস্তবায়নের জন্য কি ফের আন্দোলনে নামবে ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক সংগঠনগুলো? উত্তর সময়েই মিলবে। আবার অনেকে বলছেন, বারবার আন্দোলন করতে হবে কেন? সরকারের কোনও দায় নেই? জেলার রাজনৈতিক দলগুলো কী করছে? নাকি মুর্শিদাবাদ শুধু শ্রমিক যোগান দেবে? নবাবের জেলা কি বিশ্ববিদ্যালয় পাবেনা? কোন দোষে এমন বঞ্চনা?

তবে একথা সত্য, জেলাবাসীর ঐক্যবদ্ধ ও দুর্বার আন্দোলনের অভাবেই আজও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঞ্চিত রয়েছে সত্তর লক্ষাধিক মানুষের বসবাস মুর্শিদাবাদ জেলা!