আফরিদা খাতুন আঁখি, টিডিএন বাংলা : শতাব্দীর ভয়ঙ্করতম বন্যায় ভাসছে কেরালা। ভয়াবহ এই বন্যা গ্রাস করেছে ৪ শতাধিকেরও বেশি জীবন, গৃহহীন হয়েছে প্রায় ২লক্ষাধিক মানুষ, প্রায় ১১ হাজার বাড়ি পতিত হয়েছে ধ্বংসের মুখে। জলের উচ্চতা বাড়ার কারণে ৮০ টি বাঁধ খুলে দেওয়ায় এই বিপর্যয় আরো মারাত্মক রুপ ধারন করেছে। বন্যার দাপটে ভারতের দক্ষিণে কেরালা রাজ্যের মানচিত্র বর্তমানে সম্পূর্ণ রূপে বিধ্বস্ত।
ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল কেরালাবাসী আজ চরম অসহায়ত্বের শিকার। নিজ বাসস্থান হারিয়ে সকলেরই ঠাঁই হয়েছে আশ্রয় শিবিরে। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এব্যাপারে দিয়েছেন চরম নীরবতার পরিচয়। এমনকি শতাব্দীর ভয়ঙ্করতম এই বন্যাকে ভারত সরকার ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়’ হিসাবে ঘোষনা করতে দেখা দিয়েছে গড়িমসি।এই বিপর্যয় কাটিয়ে কেরালার পূর্ণগঠনের জন্য কমপক্ষে প্রয়োজন ৪০০০ কোটি টাকা। আর সেখানে প্রধানমন্ত্রী তহবিল থেকে মাত্র ৫০০কোটি টাকা নির্ধারিত করা হয়েছে। যার হিসেব করলে দেখা যায়  প্রধান মন্ত্রী থেকে নির্ধারিত এই ত্রাণ প্রত্যেকের মাথা পিছু ১০০ টাকাও না। যেখানে প্রধান মন্ত্রী বিদেশী ভ্রমণ সহ নিজের ব্যক্তিগত খাতে খরচ করেন বছরে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এমনকি জিও সহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে ১০০০ কোটি টাকা দিতে নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে কোন প্রকার উচ্চবাচ্যর চিহ্ন মাত্র দেখা যায়নি ।

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় বিজয় মাল্য, নিরব মোদী সহ প্রধানমন্ত্রীর বেশ কিছু মিত্র পক্ষের এ ভারত ভূমি থেকে বিশাল পরিমাণ টাকা লুটের ফলাফল ভোগ করতে হচ্ছে আপামর সাধারণ জনগনকে।  এই লুটের ফলাফল মহারাষ্ট্রের চাষীদের বিপর্যস্ত করার পর তার শীতল দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে বন্যায় বিধ্বস্ত সহায়সম্বলহীন কেরালাবাসীর উপর। গো-ভক্ষকের দুর্নাম রটিয়ে ভয়ঙ্করভাবে বিধ্বস্ত কেরালাবাসীদের ব্যাপারে বিজেপির দক্ষিণ হস্ত আরএসএসের সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন নেতিবাচক মন্তব্য শুনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হওয়া কোন দিক থেকেই অযৌক্তিক নয় ।

এটা বুঝি বর্তমান ভারতবাসীর দুর্ভাগ্য যে তাদের কপালে জুটেছে এমন এক শাসক গোষ্ঠী যাদের মানবিকতার মূল্যবোধ গো রক্ষকদের  কাছে গিয়েই থেমে গেছে। আজ জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সমগ্র বিশ্ব তথা ভারতবাসী সকলে কেরালার পাশে দাঁড়িয়েছে কাঁধে-কাঁধ  মিলিয়ে সেখানে ভারত সরকারের কেরালাবাসীদের এহেন নীচ আচরণ সামাজের এক শ্রেণীর হাতে  অর্থ কুক্ষিগতের জানান দেয়, যা চরম ঘৃণ্যকর।