তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : সাধু-সন্ত, পুণ্য এসব তো বিজেপির অনুসঙ্গ। কুম্ভের ডুবস্নান হাতিয়ার করে বিজেপি যে মুক্তির পথ খুঁজবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই দৌড়ে কে নেই? কুম্ভমেলায় প্রয়াগরাজে পবিত্র ডুব দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীস্মৃতি ইরানি। উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবও পবিত্র স্নানের শরিক হয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, এখানে পবিত্র ডুব দিতে পারেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভডরা ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। যদিও কংগ্রেস সূত্রে এই খবরের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন হল, ২০১৯-এর লক্ষ্যে কুম্ভেই কি মুক্তির পথ খুঁজছে ভারত বিধাতা?

রাজনীতি, কূটনীতি-এসব কি এখন কুম্ভে সমর্পিত হল? এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ, আদিত্যনাথ ছাড়াও স্মৃতি ইরানি এসেছিলেন এখানে। পবিত্র অর্জনের লক্ষ্যে সঙ্গমে ডুব দিয়েছেন। সাধু-সন্ত পরিবেষ্টিত হয়ে কুম্ভের ডুব
স্নানে হাজির হয়েছেন যোগী। ট্যুইটারে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, স্মৃতি ইরানি `হরহর গঙ্গে’ ক্যাপশনে ছবি পোস্ট করেছেন। শোনা যাচ্ছে, কুম্ভে পবিত্র ডুব দিয়ে রাজনীতির নতুন সফর শুরু করবেন প্রিয়ঙ্কা। সঙ্গে থাকতে পারেন রাহুলও। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিন্দুরা এই মেলায় যোগ দিতে এসেছেন। এই মেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীনতা, ঐতিহ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সন্ন্যাসীরা এসেছেন। নাগা সন্ন্যাসীদেরও আগমন ঘটেছে। তাঁরা নানা ধর্মীয় আচার পালন করছেন। কুম্ভ মেলা হিন্দু উৎসব। এই মেলায় এলে দেখা যায় ছাই মেখে নাগা সন্ন্যাসীদের ভিড়। তাঁদের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার,

নিরাভরণ জীবনচর্যা অনেক মানুষের কাছে আজও আকর্ষণীয়। ভারতের ঐতিহ্য তুলে ধরতে এই রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন। প্রশ্ন হল এটাই কি ভারত? হিন্দুত্ব, সাধু-সন্ত, রথ, খোল-করতাল এসবই কি পরিত্রাণের পথ? কিন্তু এ কোনোদিনই সনাতন ভারতের চিরায়ত ঐতিহ্য নয়। কুম্ভ মেলাকে ঘিরে যে ছবি সারা বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হচ্ছে, তা কখনই সনাতন ভারতের একমাত্র ঐতিহ্য নয়। এটা ভারতের কেবল একটা দিক হতে পারে, সামগ্রিক ছবিটা অনেক ব্যাপ্ত। এদেশ হিন্দু রাষ্ট্র নয়। বহুত্ববাদ ভারতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। সনাতন ভারতের অন্তরাত্মায় নিহিত আছে সমন্বয়বাদের আদর্শ। হিন্দুত্বের পাশাপাশি এদেশে অন্যান্য ধর্মের সমান অধিকার।
এই ঐতিহ্যই ভারত চিরকাল বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। সারা বিশ্ব আজও ভারতের কাছ থেকে শিখতে পারে
বহুত্ববাদের মন্ত্র।

এই আকর্ষণেই বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটকরা বিভিন্ন সময়ে ভারতে এসেছেন। ভারত আত্মার সঙ্গে বিলিন হয়েছেন। তাই সাধু-সন্ত-তাঁদের নিরাভন জীবনচর্যার পাশাপাশি ভারতের বুকে লেখা আছে অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা, সহিষ্ণুতা। সেই ঐতিহ্যকেই বয়ে নিয়ে যাবেন তো মোদী-রাহুলরা?