মুহাম্মদ নূরুদ্দীন, টিডিএন বাংলা : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন সারা ভারতের প্রচার মাধ্যমের আলোচনার শীর্ষে। ভারতের মত একটি যুক্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দেশে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা সি বি আই এর মত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সংস্থার সঙ্গে রাজ্য পুলিশের সংঘাত এবং রাজ্য পুলিশের শক্ত অবস্থানে সিবিআই এর নাস্তা নাবুদ হওয়ার ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক ইস্যুকে রাজ পথে টেনে নিয়ে আসা ও খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ধারনায় বসা। দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং রাজ্যের নির্বাচিত সাংবিধানিক প্রধানের এভাবে রাস্তায় নেমে পড়া কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে বিতর্ক অবশ্যই আছে।কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থান বিরোধী শিবিরকে যথেষ্ট উজ্জীবিত করেছে,এবং শাষক দলের দাদাগিরির উপর অনেকটাই ঝামা ঘষে দিয়েছে এ ব্যাপারে কোনো বিতর্ক নেই।

ফ্যাসিস্ট সংগঠনের সবকটি পন্থা অবলম্বন করে চলেছে বিজেপি।মানুষের মধ্যে হিংসা বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসন যন্ত্রের সাহায্যে বিরোধী শিবির কে দুরমুশ করাই তাদের লক্ষ।ঠিক নির্বাচনের সময় বিরোধী শিবির কে কখনো সিবিআই দিয়ে কখনও ই.ডি.দিয়ে কখনো এনআইএ দিয়ে পেরেশান করা আর জনমনে তাদেরকে হেও করা বিজেপির কাজ।তারা সংসদীয় রীতি নীতির তোয়াক্কা না করে কেজরিওয়ালের অফিসে ই.ডি.পাঠায় যখন তখন বিরোধী শিবিরের নেতা মন্ত্রীদের ঘরে সিবিআই পাঠায়।সত্যিকারের কথা বলতে কী বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে কেউ নিজেকে ধোয়া তুলসী পাতা দাবী করতে পারেনা। দুর্নীতি অন্যায়, কিন্তু বিরোধী শিবিরকে দাবিয়ে রাখার এ রাজনীতি তার থেকে বড় অন্যায়।বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা তো এক রকম তটস্থ হয়ে পড়ে ছিল।কখন কার ঘাড়ে কোপ পড়ে।একটি গণতান্ত্রিক দেশে এর থেকে বড় রাজনৈতিক সন্ত্রাস আর হতে পারে কী?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাহসী পদক্ষেপ যে বিরোধী শিবিরকে কতটা উজ্জীবিত করেছে তা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সাম্প্রতিক চলন বলন দেহলেই বোঝা যায়।স্বামীকে ই.ডি. জিজ্ঞাসা করার জন্য ডাকলে পাশে থাকছেন প্রিয়াঙ্কাও।ই.ডি.দেখে ভয় পেলে প্রিয়াঙ্কার দূরে দূরে থাকারই কথা।কেননা, আগামী নির্বাচনে রাহুলের অন্যতম সহযোগী প্রিয়াঙ্কা।এমনকি অনেকেই প্রিয়াঙ্কাগান্ধীকে কংগ্রেসের তুরুপের তাস ভাবতে শুরু করেছেন।এই অবস্থায় অকারনে রবার্ট বধরার দুর্নীতির মামলা গায়ে মাখতে যাবে কেনো প্রিয়াঙ্কা?আসলে রাজনীতির সূক্ষ্ম চালটা ধরতে প্রিয়াঙ্কার এক মুহূর্ত দেরী হয়নি।তিনি বুঝেছেন বিজেপি ভয় দেখাচ্ছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিখিয়েছেন কীভাবে মুকাবিলা করতে হবে।ই .ডি .আর সিবিআই কে ভয় পেলে যে জনমনে নিজের দুর্বলতা প্রকট হয়ে ওঠে এটা এখন তারা বুঝতে শিখেছেন।মমতার পাল্টা আক্রমণে, লালু পুত্র থেকে কেজরিওয়াল সবাই উজ্জীবিত।

বিজেপির দাদাগিরি যে কতটা ভোঁতা হয়েছে বিভিন্ন গোপন তথ্য বেরিয়ে আসায় তা স্পষ্ট হচ্ছে।এতদিন বিজেপি বলছিল প্রশাসন প্রশাসনের কাজ করবে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনের কাজে বাধা দিচ্ছে।কিন্তু যখন মুকুল রায়ের সঙ্গে বিজয় বর্গীর গোপন কথোপকথন ফাঁস হয়ে গেল তখন হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে গেল।একদিকে সারদা কাণ্ডের মূল নায়ক মুকুল রায়।কই তার বিরুধ্যে সিবিআই তো কোনো সমন জারি করেনি?মুকুল তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে বলে তার সাত খুন মাফ?আবার সেই ফোন করে করে সিবিআই লেলিয়ে দিচ্ছে?শুধু মুকুলই বা কেন, হেমন্ত বিশ্ব শর্মা, ভারতী ঘোষ এরা তো সব এক একজন খলের নায়ক।বিজেপি যদি সত্যিই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ে তাহলে সব দাগি অপরাধীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করছে কেনো?নাকী বিজেপি শোধন যন্ত্রে পরিণত হয়েছে যে তার সংস্পর্শে এলে সবাই শুদ্ধ হয়ে যায়?

বিজেপির জুমলাবাজি আর মিথ্যাচার যতই ধরা পড়ছে ততই তারা দিশাহারা হয়ে পড়ছে।মুজাফফর নগর দাঙ্গায় জড়িত খুনের আসামিদের বিরুদ্ধে সমস্ত কেস তুলে নেওয়া হয়েছে। এটা কী ধরনের শাসন। একদিকে মোদীর স্লোগান ‘সবকে সাথ সবকে বিকাশ’ অপর দিকে যোগীর গুড বয়রা দেশ জুড়ে ,রাজ্য জুড়ে দাঙ্গা বাধবে আর পুলিস অপরাধীদের বে কসুর খালাস করে দেবে এ কী করে চলতে পারে?
উত্তর প্রদেশের সাধারণ মানুষকে শুধু বিভাজন করা হচ্ছে তাই নয়।সেখানে পুলিশ প্রশাসনের মধ্যেও চূড়ান্ত অসহিষ্ণুতা।গো সন্তানদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পরিবেশকে সাংঘাতিক বিপদের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।পুলিশের মধ্যেও শাষক বিরোধী দ্বন্দ্ব।বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারা উত্তর প্রদেশ জুড়ে ফেক এনকাউন্টার চলছে।এপর্যন্ত২৭০০এনকাউন্টার এ ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।আহত হয়েছে প্রায় প্রায়৩০০।

সেনা বাহিনীর সঙ্গেও দ্বিচারিতা করে চলেছে এই সরকার।একদিকে দেশের নিরাপত্তা কে বন্দক রেখে যুদ্ধ বিমান কিনতে হাজার হাজার কোটি টাকা ঘুষ খাচ্ছে অপর দিকে দেখা যাচ্ছে সেনা অফিসারদের সুযোগ সুবিধা নানান বাহানায় কাটছাট করা হচ্ছে।যারা দেশের জন্য প্রাণ দিচ্ছে তাদের থেকে দাঙ্গা বাজদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বেশী।

সামনের নির্বাচনে পেশ করার মত সাফল্য বিজেপির ঝুড়িতে নেই।তাই তারা সেই ফ্যাসিস্ট কায়দায় জিতে আসতে চাচ্ছে।তাদের এই উগ্র মূর্তি প্রতিহত করতে চাই মমতার মত লড়াকু নেত্রী।সোজা আঙ্গুলে ঘী না উঠলে আঙ্গুল বাঁকাতে হবে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেক দোষ থাকলেও তার এই লড়াকু মানসিকতা কে কুর্নিশ জানাতেই হবে।

         মুহাম্মদ নূরুদ্দী