তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা:

সাল –১৯৯৩, সমাজবাদী পার্টির মুলায়ম সিং যাদব ও বহুজন সমাজ পার্টির কাঁসিরাম জোট বেঁধে বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল রাজ্যে।

সাল- ২০১৯, বিজেপিকে হারাতে জোট করেছেন সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব ও বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতী। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে শুক্রবার (১৯-৪-১৯) মইনপুরিতে এক মঞ্চে দেখা গেল মুয়ালম ও মায়াবতীকে।

উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে অবশ্যই এটা একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ ১৯৯৫ সালে গেস্ট হাউস কাণ্ডের পর ২ দলের মধ্যে সাপে নেউলে সম্পর্ক তৈরি হয়। তারপর মাঝে এতদিনের বিরতি। এখন লোকসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে আবার বুয়া-বাবুয়া হাত মেলালেন। প্রশ্ন হল, প্রয়োজন যখন  মিটে যাবে, তখন এই সমীকরণ অটুট থাকবে তো? নাকি আবার উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে কোনো গেস্ট হাউস কাণ্ড জন্ম নেবে?

কী এই গেস্ট হাউস কাণ্ড?

——————————-

১৯৯৩ সালে মুলায়ম ও কঁসিরাম জোট করে বিজেপিকে হারিয়ে রাজ্যে ক্ষমতা কায়েম করেন। ঠিক ২ বছর পর মুলায়ম সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেবে বলে ঘোষণা করে বিএসপি। ১৯৯৫ সালের ২ জুন রাতে লখনউয়ের গেস্ট হাউসে দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন মায়াবতী। এসপির নেতা কর্মীরা সেখানে হামলা চালায়। কোনোরকমে রক্ষা পান মায়াবতী। এরপরে বিজেপির সঙ্গে মিলে সরকার গড়েন মায়াবতী। তারপর মাঝখানে এতবছরের বিরতি। সেই ফাটল অবশেষে জোড়া লাগল।

উপনির্বাচনে শুরু

———————

বুয়া-বাবুয়া আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক ঝেড়ে ফেলে রাজ্যের গোরক্ষপুর ও ফুলপুর উপনির্বাচনে প্রথম হাত মেলান। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, বিএসপি সাধারণত লোকসভার উপনির্বাচনে লড়াই করে না। তারা সমাজবাদী পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন করেছিল। বুয়া-বাবুয়া হাত মেলানোয় সেযাত্রা গোরক্ষপুর ও ফুলপুরের মতো শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপিকে হারানো সম্ভব হয়েছে। এরপর একইভাবে বুয়া-বাবুয়া হাত মেলান কৈরানা উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও। সেখানেও সাফল্য আসতে সময় লাগেনি। স্বাভাবিকভাবে এরপর এসপি ও বিএসপি চাঙ্গা হয়ে ওঠে জোট গড়ার ব্যাপারে।

১ জোট, প্রশ্ন একাধিক

—————————-

আগেই এক ফ্রেমে এসেছেন বুয়া-বাবুয়া। এবার বেহনজি ও মুলায়ম। সেই সঙ্গে উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে তৈরি হল ইতিহাস। সেদিনও একইভাবে বিজেপিকে ঠেকাতে জোট করেছিলেন কাঁসিরাম ও মুলায়ম। মাত্র একটা গেস্ট হাউস কাণ্ড সেই জোটে চিঁড় ধরায়। সম্পর্কের চির বৈরিতার সূচনা হয় সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মাঝখানে কেটে গেছে এতগুলি বছর, রাজনীতির বাধ্যবাধকতা দুই বৈরীকে আবার এক জায়গায় এনে দাঁড় করাল। প্রশ্ন হল, নীতি আদর্শের দিক দিয়ে কতটা এক সারিতে থাকতে পারে এই ২ আঞ্চলিক দল? প্রশ্ন, বিজেপিকে হারানোই একমাত্র এজেন্ডা? এই প্রয়োজন যখন মিটে যাবে তখন জোট কোন তরীতে গিয়ে ভিড়বে?