শরদিন্দু উদ্দীপন, টিডিএন বাংলা : ডংকা, কাঁসি, শঙ্খ, ঘণ্টা, মতুয়া নিশান সব ছিল। এই সভা ঘিরে সাধারণ মতুয়াদের আগ্রহ থাকার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষও জমায়েত হয়েছিল ঠাকুরনগর মেলার মাঠে। মেয়েদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মত। অধিকাংশ মতুয়া ভক্তের হাতে ছিল স্থায়ী নাগরিকত্বের দাবী নিয়ে লেখা প্লাকার্ড। তাঁরা আশা করছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশ বিভাজনের ফলে ওপার বাংলা থেকে আগত মানুষদের জন্য স্থায়ী নাগরিকত্ব দেবার কথা ঘোষণা করবেন। তাঁরা ভেবেছিলেন এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অবসান ঘটবে কয়েক দশক ধরে বয়ে বেড়ানো শরণার্থী অপবাদের যন্ত্রণা। তাঁরা মনে করেছিলেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে স্থায়ী নাগরিকত্ব পাবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন। মতুয়াদের এই সমস্ত আশাকে চুরমার করে মোদিজী স্থায়ী নাগরিকত্ব প্রশ্নকে এড়িয়ে গেলেন। খুব সুচতুর ভাবে আনিত নাগরিক বিলকে সমর্থন করার কথা বলে দেশ ভাগের বলি মানুষদের ধোঁকা দিলেন এবং তাঁদের শরণার্থী হিসেবে দাগিয়ে দিলেন।

স্থায়ী নাগরিকত্ব প্রশ্নে মতুয়াদের এই আশাকে উৎসাহিত করেছিলেন সংগঠকেরা। সেই মর্মে প্রচারও চলেছিল দীর্ঘদিন ধরে। আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজেপির নেতৃবর্গ যে ঠাকুর নগর সভাতেই প্রধানমন্ত্রী দেশ ভাগের বলি মানুষদের জন্য স্থায়ী নাগরিকত্ব দেবার কথা ঘোষণা করবেন। স্বাগত ভাষণে শান্তনু ঠাকুরের কথা শুনে সকলে মনে করেছিলেন যে মোদিজী নিশ্চিত ভাবে ছিন্নমূল উদ্বাস্তুদের স্থায়ী নাগরিকত্ব প্রশ্নের নিস্পত্তি ঘটাবেন। কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোন প্রতিশ্রুতি পেলেন না মতুয়ারা।
কথা ছিল এই সভা হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। কিন্তু মঞ্চে দেখা গেল শুধু বিজেপি এবং আরএসএস নেতা এবং ঠাকুর পরিবারের একটি অংশকে। মতুয়া ভিড়ের মধ্যে দেখা গেল বিজেপির দলীয় পতাকা। ডংকা, কাঁসির আয়োজন থাকলেও তার শব্দ শোনা গেল না। দেখা গেল না মতুয়াদের রণমত্ত নাচ। শোনা গেল না শিঙ্গার আওয়াজের সাথে বজ্র নির্ঘোষ “হরি বোল” ধ্বনি। উলুধ্বনি, শাঁকের আওয়াজকে ছাপিয়েও আওয়াজ উঠল “জয় শ্রীরাম”। ভগ্নমনোরথে হতাশা নিয়েই বাড়ি ফিরতে হল মতুয়াদের।

(লেখক: সঞ্চালক, জয় ভীম ইন্ডিয়ায়া নেটওয়ার্ক, কোলকাতা)